বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের কোনো আলোচনা চলছে না। ভবিষ্যতে আলোচনা শুরু হবে কি না, তা পুরোপুরি নির্ভর করবে ওয়াশিংটনের আচরণের পরিবর্তনের ওপর। ওয়াশিংটন ‘মাফিয়া গ্যাংয়ের মতো’ আচরণ করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই এ কথা বলেছে। তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য তেহরান উদ্যোগ নিয়েছে-এমন খবরও প্রত্যাখ্যান করেছেন বাঘেই।
Advertisement
আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সি-কে বাঘেই বলেন, ‘এটি আমাদের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ইরান আলোচনা চেয়েছে-এ ধরনের দাবি কেবল সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন। ইরান সবসময় কূটনীতিকে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে দেখে।’
তিনি বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কূটনৈতিক উপায় ব্যবহার করতে আমরা কখনোই দ্বিধা করিনি। কূটনীতিকে আমরা ইরানের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করি।’
তবে, বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করে থাকতে পারেন জানিয়েছেন ইসমাইল বাঘেই। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমরা মার্কিন পক্ষের সঙ্গে কোনো আলোচনা করছি না।’
Advertisement
এদিকে, অস্ট্রিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন ওআরএফ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুখপাত্র ইসমাইল বাঘে বলেন, ‘পুরো বিশ্ব আশা করেছিল, অন্তত এবার যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে। কিন্তু তারা এই সমঝোতার বিভিন্ন ধারা প্রকাশ্যে লঙ্ঘন করেছে এবং তৃতীয়বারের মতো কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।’
সাক্ষাৎকারে বাঘেই জানান, পাকিস্তান, ওমান ও কাতারের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এখনো বার্তা আদান-প্রদান চলছে। তবে সংলাপের জন্য যে ন্যূনতম আস্থা ও ভিত্তি প্রয়োজন, যুক্তরাষ্ট্র সেটিই নষ্ট করে দিয়েছে।
তার ভাষ্য, ইরান নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে সব দায়বদ্ধতা পালন করেছে। কিন্তু সমঝোতা স্বাক্ষরের ২১ বা ২২ দিনের মাথায় হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজসংক্রান্ত ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক আগ্রাসন শুরু করে।
আলোচনা শুরু করতে ইরানের শর্ত কী-এমন প্রশ্নের জবাবে বাঘাই বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে আরও দায়িত্বশীল আচরণের প্রমাণ দিতে হবে।
Advertisement
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের মতো আচরণ করতে শিখতে হবে। গত এক থেকে দুই বছরে আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে ওয়াশিংটন ‘মাফিয়া গ্যাংয়ের মতো’ আচরণ করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এর আগে রোববার (২৬ জুলাই) ইরানের সামরিক মুখপাত্র আমির মোহাম্মদ আকরামিনিয়া দাবি করেন, গত দুই দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন কোনো হামলা চালায়নি এবং ইরানও তাদের পাল্টা অভিযান স্থগিত রেখেছে।
এদিকে অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় দুই সপ্তাহের টানা হামলার পর ইরানে নতুন করে হামলা না চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং এর জবাবে অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার কারণে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
কেএম