জাতীয়

সড়কে মাসে ৫০ হাজার মামলা, বছরে ১২০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. আনিছুর রহমান।

Advertisement

পুলিশ কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্যামেরার পাশাপাশি অন স্পট মামলার পাশাপাশি জরিমানা আদায় করছে বলে জানান তিনি।

মো. আনিছুর রহমান বলেন, সরকারি তহবিলে ডিএমপি ট্রাফিক প্রতি বছর ১২০ কোটি টাকা জমা দেয়। মাসে অন্তত ১২ কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়। প্রতি মাসে ৫০ হাজারের বেশি মামলা করা হয়। চলতি মাসেও ৫৪ হাজার মামলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে ট্রাফিকের ডাইভারশন পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন। শৃঙ্খলা ফেরাতে রাজধানীর সড়কের এক হাজার ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ ক্যামরা বসানোর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ পদ্ধতিতে নতুন ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নিয়েছি। এআই ক্যামেরাগুলো তুলনামূলক ব্যয়বহুল হওয়ায় বাজেট সীমাবদ্ধতার মধ্যে দ্রুত বেশি জায়গা কভার করতে এই পদ্ধতি নেওয়া হয়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুন ডিএমপি / সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বসবে এক হাজার ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ ক্যামেরা

তিনি বলেন, এই ক্যামেরাগুলোর মধ্যে থাকা কার্ড সরাসরি ভিডিও রেকর্ড করবে। পরে সেসব ভিডিও দেখে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে। আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ধাপে ধাপে প্রায় ১ হাজার এ ধরনের নতুন ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।

এরই মধ্যে ৩০০ ফিট সড়কের বিভিন্ন স্থানে এই ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বর্তমানে সচল এআই ক্যামেরার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে ১৬টি পয়েন্টে মোট ৩৭টি ক্যামেরা চালু রয়েছে এবং সেগুলো কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

সেমি অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যালের বিষয়ে মো. আনিছুর রহমান বলেন, বর্তমানে ১৩টি সিগন্যালে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু আছে। তবে সবসময় তা সচল রাখা সম্ভব হয় না। মাঝেমধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটি, ভারী বৃষ্টি বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে সিস্টেম বন্ধ রাখতে হয়। একই শহরে মোটরচালিত ও অ-মোটরচালিত যানবাহনের সমন্বয় করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে কিছু ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে সিগন্যাল সিস্টেম বন্ধ রাখতে হয়।

Advertisement

মোহাম্মদপুরে ডাইভারশন পরিদর্শন করছেন ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. আনিছুর রহমান/ছবি: জাগো নিউজ

নির্দেশনা অনুযায়ী খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় আরও ৫০টি সিগন্যাল চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, অবকাঠামো প্রস্তুত হলেই আমরা সেগুলো চালু করতে পারবো।

আরও পড়ুন অবৈধ হাইড্রোলিক হর্ন ও হুটারের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযান

সড়কে শব্দদূষণের বিষয়টি তুলে ধরে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো যানজট না থাকলেও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন গাড়ি অপ্রয়োজনে হুটার (সতর্কবার্তা যন্ত্র) বাজাচ্ছে। এই অতিরিক্ত শব্দদূষণ আমাদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ট্রাফিক পুলিশের শ্রবণশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শুধু কান না, ফুসফুস, মানসিক চাপ, মাথাব্যথা, পিঠের ব্যথাসহ নানা সমস্যায় আমরা আক্রান্ত হচ্ছি। এই ক্ষতি অর্থ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। তাই আমাদের সবাইকে মিলেই এই শহরকে বাঁচাতে হবে।

তিনি বলেন, শৃঙ্খলা না ফিরলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও একটি বাসযোগ্য শহর রেখে যাওয়া সম্ভব হবে না। এ কারণে অবৈধ হুটার, হাইড্রোলিক হর্ন এবং অবৈধ লাইট ব্যবহারের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে নিয়ম ভাঙার প্রবণতা এখনো অনেক বেশি। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। সবার সহযোগিতা ছাড়া একটা বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলা অসম্ভব।

কেআর/ইএ