আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে অব্যাহতিপ্রাপ্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমানকে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
Advertisement
সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে সহকারী সচিব সুলতান আহমদ সই করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এ নিয়োগ দেওয়া হয়।
তবে অব্যাহতি দেওয়ার সময় বিভাগটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, অধ্যাপক আতাউর তিন বছর মেয়াদে সভাপতি থাকাকালে বিভাগের তহবিল থেকে তিনটি অ্যাকাউন্টে থাকা মোট ২৪ লাখ ৮৯ হাজার ৫৮০ টাকা উত্তোলন করেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সভাপতির দায়িত্ব হস্তান্তরের দিন তিনি ওই টাকার কোনো হিসাব-ভাউচার জমা দেননি। পরবর্তী সময়ে বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটি ও পরিকল্পনা কমিটির সভার আলোচনার সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিভাগের আয়-ব্যয়ের হিসাব ও ভাউচার জমা দিতে তাকে পরপর ছয়টি পত্র দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি আয়-ব্যয়ের হিসাব ও ভাউচার জমা দেননি।
আরও পড়ুন রাবিতে সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটিতিনি আরও জানান, সভাপতির দায়িত্ব শেষ করার প্রায় ১০ মাস অতিবাহিত হলেও কোনো হিসাব না পেয়ে একই বছরের ২১ নভেম্বর বিভাগীয় অ্যাকাডেমিক কমিটির ৫৫তম এবং ২৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বিভাগীয় পরিকল্পনা কমিটির ৩০তম সভায় আলোচনা করে রেজিস্ট্রার বরাবর অভিযোগ করা হয়েছিল। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
Advertisement
তদন্তের স্বার্থে ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর ওই বিভাগের যাবতীয় অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে তাকে অব্যাহতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
অব্যাহতির বিষয়ের অধ্যাপক আতাউর রহমান বলেন, ‘নকীব (সাবেক উপাচার্য ড. সালেহ হাসান নকীব) প্রশাসন ষড়যন্ত্র করে আমাকে অব্যাহতি দিয়েছিল। এটার কোনো ভিত্তি নেই। আমার সম্মানহানি, মানহানি করার জন্য সম্পূর্ণভাবে ষড়যন্ত্র করে এই কাজটা তারা করেছিল। এটা জামায়াত-শিবিরের একটা ষড়যন্ত্র।’
আরও পড়ুন ছাত্রদলকর্মীর কাণ্ড / প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় গলায় ছুরি, পিস্তল আছে বলেও হুমকিএ বিষয়ে জানতে চাইলে উর্দু বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘অধ্যাপক আতাউর রহমানকে নিয়োগের বিষয়টি জেনেছি। তবে ওনার অব্যাহতির বিষয়টি অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত। আবার ওনার নিয়োগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে আমাদের কোনো অবস্থান নেই।’
অব্যাহতি দেওয়ার প্রেক্ষাপট ও তদন্তের হালচাল নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অধ্যাপক আতাউর রহমান সভাপতি থাকার সময় বিভাগের তহবিল থেকে টাকা উত্তোলন করেন। আমরা তার কাছ থেকে ভাউচার পাইনি। তাই বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটি ও প্ল্যানিং কমিটি থেকে তিনটি করে মোট ছয়টি চিঠি তাকে দেওয়া হয়েছিল। তারপরও যখন ভাউচার জমা দেননি, টাকার হিসাব দেননি; তখন আমরা অ্যাকাডেমিক কমিটি ও প্ল্যানিং কমিটি প্রশাসনের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিলাম।’
Advertisement
তিনি আরও বলেন, ‘সুপারিশের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। তাকে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতিও দেয়। এখন তিনি অব্যাহতিপ্রাপ্ত অবস্থাতেই আছেন। তদন্ত কমিটিও চলমান।’
এসআর/জেআইএম