দেশজুড়ে

চাঁদপুর পৌরসভার বিদ্যুৎ বিল বাকি ১৭ কোটি টাকা

চাঁদপুর পৌরসভার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া এখনো ১৭ কোটি টাকা। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে জমতে থাকা এই বিপুল অঙ্কের বকেয়া একসময় ২১ কোটি টাকায় পৌঁছায়। বর্তমান পৌর প্রশাসনের দাবি, নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের পাশাপাশি প্রতি মাসে পুরোনো বকেয়ার একটি অংশ পরিশোধ করায় দেনার পরিমাণ ধীরে ধীরে কমছে।

Advertisement

তবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) বলছে, পুরো বকেয়া আদায়ে তারা এখনো পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সাল থেকে চাঁদপুর পৌরসভার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া জমতে শুরু করে। বছরের পর বছর বিল পরিশোধে অনিয়মের কারণে বকেয়ার পরিমাণ ক্রমেই বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে বিপিডিবির কাছে পৌরসভার মোট দেনা প্রায় ২১ কোটি টাকায় পৌঁছায়। এসময় একাধিকবার লিখিত নোটিশ ও তাগিদ দেওয়া হলেও সম্পূর্ণ বকেয়া আদায় সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। বর্তমানে চাঁদপুরের অধিকাংশ গ্রাহক প্রিপেইড মিটারের আওতায় রয়েছেন। মিটারে টাকা না থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে সাধারণ মানুষ আগাম অর্থ পরিশোধ করেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। কিন্তু একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের বছরের পর বছর বিপুল অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা।

Advertisement

স্থানীয়দের মতে, একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের বিপুল অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া কেবল আর্থিক অনিয়মের বিষয় নয়, এটি জবাবদিহি ও সুশাসনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তাই অবশিষ্ট ১৭ কোটি টাকা কত দ্রুত পরিশোধ করা হবে এবং ভবিষ্যতে নতুন করে কোনো বকেয়া যাতে সৃষ্টি না হয়, সেদিকে নজর রয়েছে শহরবাসীর।

চাঁদপুর শহরের পূর্ব নাজিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা মামুন তালুকদার জানান, আমরা মিটারে টাকা না ভরলেই বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায়। অথচ পৌরসভা বছরের পর বছর বিল না দিয়েও বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাধারণ মানুষের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানেও যদি কঠোর বিল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হয়, তাহলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ মোশারেফ হোসেন জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের অংশ। জনগণের কাছ থেকে নিয়মিত কর, হোল্ডিং ট্যাক্স ও বিভিন্ন ফি আদায় করা হলেও বিদ্যুৎ বিল বছরের পর বছর বকেয়া থাকা দায়িত্বশীলতার পরিচয় বহন করে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সেজন্য কার্যকর আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে চাঁদপুর পৌর প্রশাসক মো. এরশাদ উদ্দিন জানান, অতীতে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনকালে এই বিপুল বকেয়া তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পৌরসভার চলতি বিদ্যুৎ বিল নিয়মিত পরিশোধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতি মাসে নিয়মিত বিলের সঙ্গে অতিরিক্ত প্রায় ১০ লাখ টাকা করে পুরোনো বকেয়া পরিশোধ করা হচ্ছে।

Advertisement

তিনি আরও জানান, বকেয়ার পরিমাণ ২১ কোটি টাকা থেকে কমে বর্তমানে ১৭ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। পৌরসভার আয়-ব্যয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় এত বড় অঙ্কের বকেয়া সৃষ্টি হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা ছিল না।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান জানান, বিপিডিবির আওতায় চাঁদপুরে প্রায় ৭৫ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধা গ্রহণ করছেন। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ গ্রাহক প্রিপেইড মিটারের আওতায় রয়েছেন। চাঁদপুর পৌরসভা ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো বড় বকেয়া নেই। পৌরসভার বকেয়া আদায়ে নিয়মিত যোগাযোগ এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

শরীফুল ইসলাম/এফএ/জেআইএম