দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় গত সাড়ে সাত বছরে মারা গেছেন ৭ হাজার ৩৬৪ জন শিক্ষার্থী। এসব শিক্ষার্থীর ৫২ শতাংশেরই মৃত্যু হয়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়।মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রোড সেফটি ফাউন্ডেশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
Advertisement
শিক্ষার্থীরা পথচারী হিসেবে যানবাহনের চাপা/ধাক্কায় নিহত ১ হাজার ৯২৩ জন (২৬ দশমিক ১১ শতাংশ)।যানবাহনের যাত্রী হিসেবে নিহত ৯২৭ জন (১২ দশমিক ৫৮ শতাংশ)।মোটরসাইকেরলের চালক ও আরোহী হিসেবে নিহত ৩ হাজার ৮৪১ জন (৫২ দশমিক ১৫ শতাংশ)।বাইসাইকেল ও রিকশা আরোহী হিসেবে নিহত ৫১৯ জন (৭ দশমিক ০৪ শতাংশ)।অটোরিকশার চাকায় ওড়না/পোশাক পেঁচিয়ে নিহত ১৫৪ জন (২ দশমিক ০৯ শতাংশ)।দুর্ঘটনা পর্যালোচনা করে সংগঠনটি জানিয়েছে গ্রামীণ সড়কে দুর্ঘটনা বেশি ঘটেছে। ৫ থেকে ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়া-আসার পথে, বাড়ির আশপাশে খেলার সময় অটোরিকশা, বাইক ও পণ্যবাহী যানবাহনের ধাক্কায়/চাপায় নিহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনা গ্রামীণ সড়কে বেশি ঘটেছে।
আরও পড়ুন সাড়ে ৭ বছরে সড়কে ঝরেছে ৭৩৬৪ জন শিক্ষার্থীর প্রাণ১৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা বাইকের চালক ও আরোহী হিসেবে বেশি নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনা বেশি ঘটেছে আঞ্চলিক ও মহাসড়কে। বাইসাইকেল আরোহীরা থ্রি-হুইলার, মোটরসাইকেল ও অনিরাপদ মালবাহী যানবাহনের ধাক্কায় গ্রামীণ এবং আঞ্চলিক সড়কে বেশি নিহত হয়েছেন।অটোরিকশার চাকায় ওড়না বা পোশাক পেঁচিয়ে দুর্ঘটনার জন্য ব্যক্তিগত অসতর্কতা দায়ী।সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী নিহতের বছরভিত্তিক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে ২০১৯ সালে ৬৯৩ জন, ২০২০ সালে ৭১৯, ২০২১ সালে ৯৩৬, ২০২২ সালে ১ হাজার ৩৮৫, ২০২৩ সালে ১ হাজার ১৫৩, ২০২৪ সালে ১ হাজার ৭৩, ২০২৫ সালে ১ হাজার ১৪ ও ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত ৩৯১ জন মারা গেছেন।
গত সাড়ে সাত বছরে অসাবধানে রেললাইন পারাপারের সময় এবং কানে হেড ফোন ব্যবহার করে রেললাইন ধরে হাঁটার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে ১২শ ৩৭ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।
Advertisement
ত্রুটিপূর্ণ সড়ক ও অনিরাপদ যানবাহন, নিরাপদে সড়ক ব্যবহার বিষয়ে সচেতনতার অভাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকা, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা না থাকা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেপরোয়া বাইক চালানোর মানসিকতা, ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতাও অসুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি।
সুপারিশে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলেছেশিক্ষপ্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে বছরে একবার ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা, সরকারি উদ্যোগে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, ক্লাস-পরীক্ষায় সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশ্ন রাখা, গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় জীবনমুখী প্রচারণার মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি, অনিরাপদ যানবাহন বন্ধ করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশের সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা ও কোনোভাবেই যেন অপ্রাপ্তবয়স্করা বাইক চালাতে না পারে সেজন্য আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এএসএ