ক্যাম্পাস

হাঁসের প্লেগ রোগের টিকা উদ্ভাবন, ৯০ শতাংশের বেশি সুরক্ষার আশা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষণায় স্থানীয় হাঁসের প্লেগ ভাইরাস ব্যবহার করে স্বল্পমূল্যের হাঁসের প্লেগ টিকা উদ্ভাবনে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। গবেষকরা আশা করছেন, নতুন এ টিকা হাঁসের প্লেগ থেকে ৯০ শতাংশের বেশি সুরক্ষা দেবে।

Advertisement

বর্তমানে এ টিকা মাঠপর্যায়ের পরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে এটি খামারিদের হাতে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি গ্যালারিতে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) অর্থায়নে পরিচালিত ‘স্থানীয় হাঁসের প্লেগ ভাইরাস ব্যবহার করে স্বল্পমূল্যের হাঁসের প্লেগ টিকা উদ্ভাবন’ শীর্ষক গবেষণা প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এ তথ্য জানানো হয়।

আরও পড়ুন রান্নার সময় গরুর মাংস সবুজ হওয়ার ঘটনায় যা বলছেন বাকৃবির বিশেষজ্ঞ

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কমিটির (সিএএসআর) সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) পরিচালক অধ্যাপক ড. এম. হাম্মাদুর রহমান, ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ড. শামসাদ জাহান শিরাজী এবং এলডিডিপির চিফ টেকনিক্যাল কোঅর্ডিনেটর ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

Advertisement

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকল্পের প্রধান গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান।

কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন মাইক্রোবায়োলজি ও হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক এবং প্রকল্পের সহ-গবেষক ড. মোহাম্মদ ফেরদৌসুর রহমান খান।

আরও পড়ুন বাকৃবির গবেষকদের সাফল্য / ২৫ বছরের গবেষণায় দেশের প্রথম জৈব ছত্রাকনাশক উদ্ভাবন

প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে অধ্যাপক বাহানুর রহমান জানান, হাঁসের প্লেগ অত্যন্ত প্রাণঘাতী একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যেখানে মৃত্যুহার ৪০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল অ্যাটেন্যুয়েটেড ভ্যাকসিন তৈরি। তবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) অনুরোধে ইনঅ্যাক্টিভেটেড ও ডিএনএ ভ্যাকসিন নিয়েও গবেষণা পরিচালিত হয়। ইনঅ্যাক্টিভেটেড ভ্যাকসিনে আশানুরূপ ফল না মিললেও ডিএনএ ও ওরাল ভ্যাকসিনে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, টিকাটি বর্তমানে মাঠপর্যায়ের পরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছে। প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা ও অনুমোদন শেষে এটি খামারিদের কাছে পৌঁছাতে আরও এক থেকে দেড় বছর সময় লাগতে পারে। টিকাটি ৯০ শতাংশের বেশি সুরক্ষা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। ডিএলএসের মাধ্যমে এটি খামারিদের কাছে পৌঁছানো গেলে দেশের হাঁস পালন শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

Advertisement

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক সামছুল আলম বলেন, ভাইরাসজনিত এ রোগে আক্রান্ত হাঁসকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করা প্রায় অসম্ভব। তাই প্রতিরোধই একমাত্র কার্যকর উপায়। সে ক্ষেত্রে টিকাই সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা।

তিনি বলেন, এ গবেষণা দেশীয় প্রযুক্তিতে স্বল্পমূল্যের হাঁসের প্লেগ টিকা উদ্ভাবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে ভাইরাসের পরিবর্তনশীল বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টিকাটির কার্যকারিতা আরও উন্নত করা সম্ভব।

এসআর/জেআইএম