খেলাধুলা

ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক, মার্কিন কংগ্রেসে তদন্তের মুখে ফিফা-ইনফান্তিনো

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগে এবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের তদন্তের মুখে পড়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ফিফার যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন, উপহার, বৈঠক এবং বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটির (হাউজ অব জুডিসিয়ারি কমিটি) শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য জেমি রাসকিন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি ইনফান্তিনোকে কংগ্রেসে হাজির হয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ফিফার সম্পর্ক নিয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

৯ আগস্টের মধ্যে নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ

দ্য অ্যাথলেটিকের হাতে আসা ওই চিঠিতে রাসকিন ৯ আগস্টের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি জমা দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ফিফা, ট্রাম্প, তার প্রশাসনের সদস্য এবং ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের মধ্যে হওয়া সব ধরনের যোগাযোগের রেকর্ড চেয়েছেন।

Advertisement

চাওয়া নথির তালিকায় রয়েছে- বৈঠকের তথ্য, উপহার বা পুরস্কারের তালিকা, অর্থ লেনদেনের রেকর্ড, জনসমক্ষে যৌথ উপস্থিতির বিবরণ এবং প্রেসিডেন্ট, তার পরিবারের সদস্য কিংবা প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া যেকোনো সুবিধার তথ্য।

এছাড়া মিয়ামিতে অবস্থিত ফিফার কার্যালয় এবং নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে দর্শনার্থীদের প্রবেশের রেজিস্টারও চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ, সিগন্যাল, টেলিগ্রাম, এক্স (সাবেক টুইটার) এবং ট্রুথ সোশ্যালে আদান-প্রদান হওয়া বার্তা সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বকাপের আগে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন

২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ফিফার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বেশ কয়েকবার বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ট্রাম্পকে নতুন চালু হওয়া ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ প্রদান, নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে ফিফার অফিস ভাড়া নেওয়া এবং বিশ্বকাপের ড্র লাস ভেগাস থেকে সরিয়ে ওয়াশিংটনের কেনেডি সেন্টারে আয়োজনের সিদ্ধান্ত। পরে ওই প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনায় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব ঘটনাই কংগ্রেসের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

Advertisement

বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা নিয়েও বিতর্ক

বিশ্বকাপ চলাকালেও ট্রাম্প ও ফিফার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। নকআউট পর্বের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে ট্রাম্প সরাসরি ইনফান্তিনোকে ফোন করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এরপর ফিফা বালোগানকে খেলার অনুমতি দেয়। যদিও সংস্থাটি দাবি করে, সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নেওয়া হয়েছিল এবং এতে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব ছিল না।

চিঠিতে রাসকিন ২০১৫ সালে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক ফুটবলের দুর্নীতির তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ফিফাসংশ্লিষ্ট কয়েকটি দুর্নীতির মামলা থেকে সরে এসেছে, আর সেটি ঘটেছে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ফিফার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার পর।

রাসকিন চিঠিতে লিখেছেন, ‘এসব পদক্ষেপ দেখে মনে হচ্ছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনকে ফিফার পক্ষে অনুকূল সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যেই এসব করা হয়েছে।’

হোয়াইট হাউসের পাল্টা জবাব

তবে এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংল এক বিবৃতিতে রাসকিনের সমালোচনা করে বলেন, ট্রাম্পের নেতৃত্বেই ২০২৬ বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিশাল অর্থনৈতিক সাফল্য বয়ে এনেছে।

তার ভাষায়, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দূরদৃষ্টি ও নেতৃত্বের কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব এসেছে, আয়োজক শহরগুলোর অর্থনীতি চাঙ্গা হয়েছে এবং লাখো সমর্থক ও খেলোয়াড় নিরাপদ পরিবেশে টুর্নামেন্ট উপভোগ করতে পেরেছেন।’

নতুন বিতর্কে ফিফা

ফিফা এখন এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি, যেখানে শুধু মাঠের সিদ্ধান্ত নয়, রাজনৈতিক সম্পর্কও তদন্তের আওতায় চলে এসেছে। কংগ্রেসের এই তদন্ত কতদূর এগোয় এবং ইনফান্তিনো চাওয়া নথিপত্র জমা দেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বিশেষ করে বিশ্বকাপ আয়োজনকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ফিফার সম্পর্ক নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উঠেছে, সেগুলোর উত্তরই হয়তো আগামী দিনে আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

আইএইচএস/