তথ্যপ্রযুক্তি

গুগল ম্যাপসের ৭ ফিচার, যা বেশিরভাগ মানুষ ব্যবহারই করেন না

বর্তমানে গুগল ম্যাপস ব্যবহার করেন না এমন স্মার্টফোন ব্যবহারকারী খুঁজে পাওয়া কঠিন। অফিসে যাওয়ার সময় ট্রাফিক এড়াতে, নতুন কোনো রেস্টুরেন্ট খুঁজতে বা দূরের ভ্রমণে সঠিক পথ জানতে এই অ্যাপই এখন ভরসা। কিন্তু অনেকেই গুগল ম্যাপস-কে শুধু নেভিগেশনের অ্যাপ হিসেবেই দেখেন। বাস্তবে এর ভেতরে এমন অনেক সুবিধা রয়েছে, যা আপনার ভ্রমণকে আরও নিরাপদ, সহজ এবং ঝামেলামুক্ত করতে পারে।

Advertisement

মজার বিষয় হলো, এই ফিচারগুলোর বেশিরভাগই অ্যাপে আগে থেকেই রয়েছে। শুধু জানার অভাবে ব্যবহার করা হয় না। চলুন জেনে নেওয়া যাক গুগল ম্যাপসের এমন সাতটি ফিচার সম্পর্কে, যেগুলো আপনার প্রতিদিনের যাতায়াতের অভিজ্ঞতাই বদলে দিতে পারে।

১. লাইভ ভিউ

অপরিচিত এলাকায় অনেক সময় ম্যাপের নীল তীর দেখে বোঝা কঠিন হয়ে যায় কোন দিকে হাঁটবেন। এমন পরিস্থিতিতে কাজে আসে লাইভ ভিউ। এই ফিচার চালু করলে ফোনের ক্যামেরা ব্যবহার করে বাস্তব রাস্তার ওপরই তীরচিহ্ন ও দিকনির্দেশনা দেখায় গুগল ম্যাপস। ফলে ভুল পথে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। তবে এই সুবিধা মূলত যেসব এলাকায় স্ট্রিট ভিউ ডাটা রয়েছে, সেখানেই সবচেয়ে ভালো কাজ করে।

আরও পড়ুন অফলাইনে গুগল ম্যাপ ব্যবহার করবেন যেভাবে ২. ইনকগনিটো মোড

সব সময় নিজের লোকেশন বা সার্চ হিস্ট্রি সংরক্ষণ করতে না চাইলে ইনকগনিটো ব্যবহার করতে পারেন। এটি চালু থাকলে-সার্চ হিস্ট্রি সংরক্ষণ হয় না। লোকেশন হিস্ট্রি আপডেট হয় না। ব্যক্তিগত ভ্রমণের তথ্য গুগল অ্যাকাউন্টে যোগ হয় না।গোপনীয়তার বিষয়ে সচেতন ব্যবহারকারীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার।

Advertisement

৩. অফলাইন ম্যাপস

বাংলাদেশের পাহাড়ি এলাকা, সমুদ্র উপকূল বা গ্রামের অনেক জায়গায় এখনও মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল। বিদেশ ভ্রমণেও রোমিং ডেটা সব সময় ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। যাত্রার আগে প্রয়োজনীয় এলাকার ম্যাপ ডাউনলোড করে রাখলে ইন্টারনেট ছাড়াই গুগল ম্যাপস ব্যবহার করা যায়। এটি শুধু মোবাইল ডেটাই বাঁচায় না, জরুরি পরিস্থিতিতেও পথ খুঁজে পেতে সাহায্য করে।

৪. সেভ পার্কিং

বড় শপিং মল, হাসপাতাল বা বিমানবন্দরের বিশাল পার্কিংয়ে গাড়ি রেখে পরে খুঁজে না পাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে।গুগল ম্যাপসে গাড়ি পার্ক করার পর সেভ পার্কিং নির্বাচন করলে সেই জায়গাটি সংরক্ষিত থাকে। ফিরে আসার সময় অ্যাপটি আপনাকে সরাসরি পার্কিংয়ের অবস্থানে নিয়ে যাবে।

৫. লোকেশন শেয়ারিং

রাতে একা বাসায় ফিরছেন? কিংবা দীর্ঘ ভ্রমণে রয়েছেন? গুগল ম্যাপসের লোকেশন শেয়ারিং ফিচারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিজের লাইভ অবস্থান পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করা যায়। এতে তারা জানতে পারবেন আপনি কোথায় আছেন এবং নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছেছেন কি না।

আরও পড়ুন গুগল ম্যাপে লাইভ লোকেশন শেয়ার করবেন যেভাবে ৬. পপুলার টাইমস

কোনো রেস্টুরেন্ট, শপিং মল বা পর্যটনকেন্দ্রে যাওয়ার আগে সেখানে কতটা ভিড় আছে, তা আগে থেকেই জানা সম্ভব।গুগল ম্যাপস অনেক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে দেখায়-তারা বর্তমানে কতটা ব্যস্ত, কোন সময়ে সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়, কোন সময় গেলে অপেক্ষা কম করতে হবে। বিশেষ করে সপ্তাহান্তে বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনায় এই ফিচার বেশ কার্যকর।

Advertisement

৭. সেভড লিস্টস

গুগল ম্যাপসে শুধু জায়গা খুঁজে বের করাই নয়, পছন্দের জায়গাগুলো আলাদা তালিকায় সংরক্ষণও করা যায়। যেমন- প্রিয় কফিশপ, ভালো বিরিয়ানির দোকান, পর্যটনকেন্দ্র, হাসপাতাল, পেট্রোল পাম্প। এমনকি এই তালিকা বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেয়ারও করা যায়। ভ্রমণের পরিকল্পনা করার সময় এটি বেশ সুবিধাজনক।

কেএসকে