রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেছেন, লাইব্রেরির মতো একটি নিরাপদ স্থান, যেখানে জ্ঞানচর্চা হয়, সেই জ্ঞানচর্চার পরিবেশে হামলা চালিয়েছে জঙ্গি শিবিরের নেতাকর্মীরা। শিক্ষার্থীদের ছাত্রলীগের নাম দিয়ে মব সৃষ্টি করে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করেছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ওই শিক্ষার্থীদের হত্যা করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট করা।
Advertisement
বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে লাইব্রেরিতে হামলার প্রতিবাদ ও দোষীদের বিচারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে আমাদের মা-বোনদের যারা ধর্ষণ করেছিল, যারা ধর্মের বিভাজনের নামে হিন্দু-মুসলিমদের হত্যা করেছিল, সেই রাজাকারদের আদর্শের অনুসারীরাই আবারও গতকাল শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমরা দেখেছি, ডাকসুর এক তথাকথিত শিবিরপন্থি ছাত্রনেতা তৃতীয় লিঙ্গের এক হিজড়ার সঙ্গে ধরা পড়েছে। এছাড়া, সেই শিবিরের সন্ত্রাসীরা রাকসু ভবনে সাংবাদিকদের হুমকি দিয়েছে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যারা সাংবাদিকদের হুমকি দিচ্ছে, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা অতীতে দেখেছি, ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর মতো সংবাদমাধ্যমের ওপর যেভাবে জঙ্গিরা হামলা চালিয়েছিল, একইভাবে তারা আবারও হামলার ষড়যন্ত্র করতে পারে। তাই সাংবাদিক ভাইদের বলবো, আপনারা সচেতন ও সতর্ক থাকবেন। কোনো ধরনের হুমকি বা অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হলে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের আশ্রয় নেবেন এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের অপরাজনীতির বিরুদ্ধেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আপনাদের পাশে থাকবে।
Advertisement
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের বাক্স্বাধীনতা ও কর্মপরিসর আরও শক্তিশালী হয়েছে। সেই শক্তিকে যদি কোনো শিবিরের জঙ্গিরা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে, তাহলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সাংবাদিকদের পাশে থেকে সেই অপচেষ্টার মোকাবিলা করবে।
এসময় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিঠু বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সম্পূর্ণ সমর্থন করছে। যার হাতে কলম তোলার কথা ছিল এবং এক বুক ভরা আশা নিয়ে যাকে জিএস পদে নির্বাচিত করা হয়েছিল, সেই মানুষটি পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কাছ থেকে বেলচা নিয়ে এসে তা মানুষকে লাঞ্ছিত ও আহত করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে। আরেক দিকে, আমাদের ভিপি সাহেব সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে ঠিক যেমন হয়েছিল ১৯৭১ সালে। যে সংগঠনটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধরে রাখতে চায়নি এবং বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল। আজ যেন তারই পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। আমরা আশঙ্কা করছি, পাকিস্তানি ক্যান্টনমেন্ট থেকে তারা এই ষড়যন্ত্র পরিচালনা করছে। যাই হোক না কেন লাইব্রেরিতে ঢুকে যে ঘটনা তারা ঘটেছে, তার সুষ্ঠু বিচার ও যথাযথ শাস্তি আমরা দাবি করছি।
মিরাজ হোসেন/কেএইচকে/জেআইএম
Advertisement