আন্তর্জাতিক

রাহুল গান্ধীর বক্তব্য ঘিরে লোকসভায় হট্টগোল

ভারতের লোকসভায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে নতুন আইন নিয়ে আলোচনার সময় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর বক্তব্য ঘিরে তুমুল হট্টগোল হয়েছে। বক্তব্যে তার একটি শব্দ নিয়ে আপত্তি জানায় সরকারি দল। পরে লোকসভার স্পিকার ওই শব্দ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন।

Advertisement

বক্তব্যের শুরুতে রাহুল গান্ধী শিক্ষার্থী ও অন্যদের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যাদের মন উন্মুক্ত এবং যারা সত্য অনুসন্ধান করে, তারাই প্রকৃত শিক্ষার্থী। অন্যদিকে যারা মনে করে তারা সব জানে, তাদের বোঝাতে তিনি একটি অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার করেন। এতে সরকারি দলের সদস্যরা তীব্র আপত্তি জানান।

সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু রাহুলকে ওই শব্দ ব্যবহার বন্ধ করার আহ্বান জানান। এনডিএ জোটের সংসদ সদস্যরাও তার সঙ্গে প্রতিবাদে যোগ দেন। জবাবে রাহুল বলেন, তিনি সংসদের কোনো সদস্যকে উদ্দেশ্য করে ওই শব্দ ব্যবহার করেননি। তবে সরকারি দলের বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে।

এ সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও দাঁড়িয়ে রাহুলকে ওই শব্দ ব্যবহার না করার অনুরোধ জানান। পরে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা শব্দটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন।

Advertisement

এরপর রাহুল গান্ধী ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আরএসএসকে আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকৃতপক্ষে আরএসএস পরিচালনা করছে, মন্ত্রী নন।

রাহুল বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধান শুধু একটি প্রতীক। শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শত্রু হলো আরএসএস। তারা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও সত্য অনুসন্ধান থেকে দূরে রেখে নিজেদের কল্পিত ইতিহাস পড়াতে চায়।

তিনি ২০ জুলাই শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের কঠোর অভিযানের প্রসঙ্গও তোলেন। রাহুলের অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশেই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এখন এতটুকু সাহস নেই যে তিনি সংসদে এসে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিষয়ে কথা বলবেন।

Advertisement

এ বক্তব্যেও আপত্তি জানান কিরেন রিজিজু। তিনি বলেন, কোনো প্রমাণ ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করা ঠিক নয়।

রিজিজু রাহুলের কাছে বক্তব্য প্রত্যাহার ও ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, অমিত শাহ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নির্দেশ দিয়েছেন—এর প্রমাণ কোথায়? বিরোধীদলীয় নেতা এভাবে ভিত্তিহীন অভিযোগ করতে পারেন না।

জবাবে রাহুল গান্ধী বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর এমন কঠোর বলপ্রয়োগের অনুমতি কেবল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই দিতে পারেন। এ বক্তব্যের পর আবারও সরকারি দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তার কাছে ক্ষমা দাবি করেন।

সূত্র: এনডিটিভি

এমএসএম