দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবলে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে ফিফা যে আসিয়ান কাপ চালু করেছে, সেখানে অংশগ্রহণের সুযোগ হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ। অতিথি দল হিসেবে যারা অংশ নেবে তাদের মধ্যে চীন ছিল। তবে দেশটি এশিয়ান কাপের প্রস্তুতিকে আরো বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসিয়ান কাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয়।
Advertisement
চীন নাম প্রত্যাহারের পর আয়োজকদের চোখ ছিল দক্ষিণ এশিয়ায়। ভারতের অংশ নেওয়া আগেই নিশ্চিত ছিল। সাংগঠনিক দক্ষতায় ফাঁকা জায়গায় ঢুকে পড়েছে পাকিস্তান। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সামনে রেখে বাফুফে তিন-চারটি ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। আসিয়ান কাপে খেলার সুযোগ করে নিতে পারলে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের দারুণ প্রস্তুতি হয়ে যেতো থমাস ডুলির শিষ্যদের।
ফিফা আসিয়ান কাপের প্রথম আসর অনুষ্ঠিত হবে আগামী সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে। দুই বিভাগে মোট ১৪টি দল অংশ নেবে। প্রিমিয়ার ডিভিশনে থাকবে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াসহ শক্তিশালী দলগুলো। চীন নাম প্রত্যাহারের পর পাকিস্তান ফুটবল কর্তৃপক্ষ দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে।
Advertisement
বাংলাদেশের অবস্থান এ ক্ষেত্রে হতাশাজনক। আসিয়ান কাপে আমন্ত্রিত দল হিসেবে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। বাফুফে সময়মতো উদ্যোগ নিলে চীনের জায়গায় নিজেদের খেলার সুযোগ করে নিতে পারতো। সেটা হলে জাতীয় দল উন্নতমানের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পেতো, যা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপসহ ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় কাজে লাগতো।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে বাফুফে কয়েকটি ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টা করছে। কিন্তু এখনো কোনো নিশ্চিত সূচি দিতে পারেনি। সাংগঠনিক জটিলতা, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগে দূর্বলতার কারণে এসব উদ্যোগ বারবার থমকে যাচ্ছে। পাকিস্তান যেখানে ফিফার সঙ্গে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছেছে, সেখানে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়েছে।
পাকিস্তানের এই সাফল্য শুধু অংশগ্রহণের সুযোগ নয়, বরং সাংগঠনিক সক্ষমতার প্রমাণ। বাংলাদেশের জাতীয় দল দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য পাচ্ছে না। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো করার স্বপ্ন দেখলেও প্রস্তুতির ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। আসিয়ান কাপের মতো একটি উঁচুমানের টুর্নামেন্টে অংশ নিলে খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়তো।
আসিয়ান কাপ পুরনো একটি আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর কুয়ালালামপুরে আসিয়ান সম্মেলনে এই টুর্নামেন্ট ঘোষণা দিয়েছিলেন। আসিয়ানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ফিফা আরব কাপের মতো মডেলে এটি চালু হয়। উদ্দেশ্য- এই অঞ্চলে ফুটবলের মান বাড়ানো ও ম্যাচগুলোকে অফিসিয়াল আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করা।
Advertisement
এই প্রতিযোগিতায় মোটা অংকের প্রাইজমানি দেওয়া হবে। ডিভিশন-১ চ্যাম্পিয়ন: প্রায় ১০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ১২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা)। ডিভিশন-২ চ্যাম্পিয়ন: প্রায় ৩ লাখ মার্কিন ডলার। প্রতি দলের অংশগ্রহণ ফি: ১,২৫,০০০ ডলার।
অংশগ্রহণকারী দলগুলো হচ্ছেপ্রিমিয়ার ডিভিশন: থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া (আয়োজক), ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ভারত ও পাকিস্তান।চ্যালেঞ্জ ডিভিশন: হংকং (আয়োজক), মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, লাওস, ব্রুনাই, পূর্ব তিমুর।
আরআই/আইএইচএস/