আগামী আড়াই বছরে দেশের ৪০ লাখ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ডিজিটাল দক্ষতায় স্বাবলম্বী করার লক্ষ্য নিয়েছে গ্রামীণফোন। এ লক্ষ্যে ‘ডিজিটাল ইনক্লুশন ফর মার্জিনালাইজড কমিউনিটিস’ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায় শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
Advertisement
প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও টেলিনরের সহযোগিতায় পরিচালিত এ উদ্যোগের মাধ্যমে ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের আটটি সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর শেরাটন হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনের পাশাপাশি প্রথম পর্যায়ের সাফল্যও তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী।
আরও পড়ুন নিজে গাড়ি চালিয়ে উত্তর সিটির এলাকা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীঅনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের হেড অব এনভায়রনমেন্ট, সোশ্যাল অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (ইএসজি) ফারহানা ইসলাম এবং ডিজিটাল ইনক্লুশন লিড তাজরিবা খুরশীদ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি নিয়ে এক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস, জিএসএমএর সিনিয়র মার্কেট এনগেজমেন্ট ম্যানেজার গগনদীপ মনচান্দা, টেলিনর এশিয়ার চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মনীষা ডোগরা, গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ এবং চিফ মার্কেটিং অফিসার ফারহা নাজ জামান।
Advertisement
কর্মসূচির আওতায় এ পর্যন্ত দেশের ৩২ জেলায় ৩৩ লাখের বেশি মানুষের কাছে ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম পৌঁছেছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৮ শতাংশই নারী ও কিশোরী। প্রথম পর্যায়ে শিক্ষায় ইন্টারনেটের ব্যবহার, অনলাইন সরকারি সেবা গ্রহণ, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন এবং ডিজিটাল মাধ্যমে আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানানো হয়। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০২৮ সালের মধ্যে ৪০ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যায়ে সুবিধাভোগীদের ৭০ শতাংশ নারী রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল দক্ষতায় সক্ষম করে তোলার মাধ্যমে সরকারি সেবা ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব।
আরও পড়ুন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী / কল ড্রপ-প্যাকেজের মূল্য নিয়ে গ্রাহকের উদ্বেগ দূর করতে হবেতিনি বলেন, ২০২৮ সালের মধ্যে আটটি সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী বলেন, অর্থবহ কানেক্টিভিটি শুধু নেটওয়ার্ক বিস্তারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে ডিজিটাল সাক্ষরতা ও প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামীণফোনের এ উদ্যোগ ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে অংশীদারত্বভিত্তিক কার্যক্রমের একটি ইতিবাচক উদাহরণ।
Advertisement
অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান কর্মসূচির কয়েকজন সুবিধাভোগীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তারা জানান, কর্মসূচির মাধ্যমে অর্জিত ডিজিটাল দক্ষতা তাদের শিক্ষা, জীবিকা এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
ইএইচটি/কেএসআর