রাজধানীর মতিঝিল থানায় দায়ের করা অস্ত্র আইনের মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ তানিম রেজা বাপ্পি (৪৬) ও মো. রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া রিজনকে (৩৫) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
Advertisement
শুক্রবার (৩১ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মহিউদ্দীন মাছুমের আবেদনের পর এ আদেশ দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, এর আগে চাঁদাবাজির মামলায় দুই আসামিকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। পরে অস্ত্র আইনের মামলায় আরও পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ড শেষে তাদের কারাগারে রাখার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
আদালতে দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুসরণ করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। বর্তমানে সেই তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
Advertisement
আবেদনে আরও বলা হয়, আসামিরা জামিনে মুক্তি পেলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তারা পলাতক হতে পারেন। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার প্রয়োজন রয়েছে।
এর আগে ১৮ জুলাই ব্যবসায়ীকে চাঁদা দাবির মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালত তানিম রেজা বাপ্পি ও রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়াকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন।
আরও পড়ুন পশুর হাটের ইজারাদারের অফিসে গুলি, শ্যুটার বাপ্পিসহ গ্রেফতার ৫মামলার তথ্য অনুযায়ী, ১৭ জুলাই সকালে পূর্বাণী হোটেলসংলগ্ন এলাকা থেকে তানিম রেজা বাপ্পিকে এবং একই দিন দুপুরে উত্তর কমলাপুর থেকে রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ কমলাপুরে বাপ্পির কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি রিভলবার, দুটি বিদেশি পিস্তল, সাত রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, একটি ইলেকট্রিক শকগান এবং একটি বিদেশি চায়নিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়।
চাঁদাবাজির মামলার এজাহারে বলা হয়, ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন মতিঝিল এলাকার একটি অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটের ইজারাদার। গত ১৫ মে রাতে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। একই সঙ্গে হাট পরিচালনায় আসামিদের মনোনীত ব্যক্তিকে দায়িত্ব না দিলে তাকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
Advertisement
পরে ১৯ মে ভোরে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ইসমাইল হোসেনের কার্যালয়ে গুলি চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনার পর ২০ মে তিনি মতিঝিল থানায় চাঁদাবাজির মামলা করেন। এছাড়া অভিযানে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করে।
এমডিএএ/এমআইএইচএস/