রাজশাহীতে টানা বৃষ্টিপাত ও বন্যার প্রভাব কমায় দাম কমতে শুরু করেছে সবজির বাজারে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে ব্যতিক্রম কাঁচামরিচ, যার দাম বেড়েছে। এদিকে চাল, ডিম, মুরগি ও অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।
Advertisement
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে নগরীর সাহেববাজার ও আশপাশের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরবরাহ বাড়ায় সবজির বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। এতে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন নিম্ন আয়ের ক্রেতারা।
বর্তমানে বাজারে শসা ৪০ টাকা, করলা ৪০-৫০ টাকা, বেগুন ৫০-৬০ টাকা, পটল ৪৫, ঢেঁড়স ৪০, ঝিঙা ৪০, চিচিঙ্গা ৩০, বরবটি ৫০, কচুর লতি ৫০, কাঁচা পেঁপে ২৫-৩০ এবং মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাঁচাকলা প্রতি হালি ৩০ টাকা, লাউ প্রতিটি ৩০-৪০ এবং চাল কুমড়া প্রতি পিস ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে গাজর ও টমেটোর দামও কিছুটা কমেছে। গাজর ১২০-১৫০ এবং টমেটো ৯০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আদা ১৮০ টাকা এবং রসুন ১৬০-১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
Advertisement
বিক্রেতারা জানান, গত কয়েক সপ্তাহে টানা বৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার কারণে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছিল। বর্তমানে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কমেছে।
ডিম ও মুরগির বাজার গত সপ্তাহের মতোই স্থিতিশীলতা রয়েছে। দেশি মুরগির ডিম প্রতি হালি ৭০-৭৫ টাকা, হাঁসের ডিম ৬৫, ফার্মের লাল ডিম ৪৪ এবং সাদা ডিম ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি ১৭০-১৮০ টাকা, সোনালি ২৫০-২৬০, দেশি মুরগি ৫৫০, সাদা লেয়ার ২৯০, লাল লেয়ার ৩৪০, ফাউমি মুরগি ৩৩০ এবং হাঁস ২৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন নেই। রুই ২৭০-৩০০ টাকা, কাতলা ৩০০-৩৫০, তেলাপিয়া ১৭০-২১০, পাঙাশ ১৮০-২০০, চাষের কৈ ২০০-২২০, চাষের শিং ৩০০-৩৫০, টেংরা ৬০০-৭০০, বোয়াল ৬৫০-৮০০, চিংড়ি ৬৫০-৯০০, কোরাল ৭৫০, দেশি কৈ ৮০০-১০০০ এবং দেশি শিং ১০০০-১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার করতে আসা হালিমা বেগম বলেন, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে সবজির দাম অনেকটাই কমেছে। এতে আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম আরও কমলে সংসার চালাতে সুবিধা হবে।’
Advertisement
আরেক ক্রেতা আলীম বলেন, ‘দুই-এক সপ্তাহ আগেও সবজি কিনতে অনেক বেশি টাকা লাগত। এখন একই টাকায় আগের চেয়ে কিছুটা বেশি সবজি কেনা যাচ্ছে। বাজার যদি এমন থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের অনেক উপকার হবে।’
সবজির দাম কমার কারণ জানতে চাইলে সবজি বিক্রেতা আকরাম হোসেন বলেন, ‘অতিরিক্ত বৃষ্টি ও বন্যার কারণে গত কয়েক সপ্তাহে সবজির দাম বেড়ে গিয়েছিল। তবে এ সপ্তাহে বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যাপ্ত সবজি আসছে। সরবরাহ বাড়ায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।’
আরেক সবজি বিক্রেতা সালাম বলেন, ‘দুই সপ্তাহের ব্যবধানে রাজশাহীর সবজির বাজারে দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। যে সবজি গত সপ্তাহে ৮০ টাকা ছিল, সেটিই এখন ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে ৩০০ টাকায় উঠেছে। সরবরাহ বেশি থাকায় অন্য সবজির দাম কমেছে।’
মুরগি বিক্রেতা রবিউল ইসলাম হৃদয় বলেন, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় মুরগির বাজারে কোনো পরিবর্তন নেই। ব্রয়লার, সোনালি, দেশি মুরগি ও হাঁস—সবই আগের দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজার এখন স্থিতিশীল রয়েছে।’
মনির হোসেন মাহিন/কেজে/এএসএম