ভারতে পাচারের আগে বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকেও টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলের ‘আয়নাঘরে’ বন্দি করে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
Advertisement
তিনি বলেন, একই স্থানে বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আহমেদ বিন আরমানকেও রাখা হয়েছিল।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় র্যাব-১ কার্যালয়ে টিএফআই সেল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।
আমিনুল ইসলাম বলেন, টিএফআই সেলে নির্মম নির্যাতনের ঘটনাস্থল সরাসরি দেখানোর জন্য ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিদের এখানে আনা হয়েছে।
Advertisement
তিনি বলেন, এটি মামলার বিচারিক কার্যক্রমের (মেমোরেন্ডাম অব ইন্সপেকশন) অংশ হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হবে। এ সময় বিচারকদের সঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর, অন্যান্য প্রসিকিউটর, মানবাধিকার সংগঠনের কর্মী গুমের শিকার পরিবারের সদস্যরা ও তদন্ত সংস্থার সদস্য এবং সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
এসময় চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আয়নাঘরের আলামত নষ্ট করার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের বক্তব্য, টিএফআই সেল ২০০৫ সালে গঠিত একটি বিশেষ টিম এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে র্যাবের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।
এদিন, টিএফআই সেল পরিদর্শন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর তিন বিচারপতি, প্রসিকিউশন টিম এবং মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
Advertisement
টিএফআই সেলে গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় মোট ১৭ জন আসামি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ জন অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার আছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার সময় তারা র্যাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, এম খুরশীদ হোসেন, হারুন অর রশিদ এবং অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহাম্মাদ খায়রুল ইসলাম। প্রসিকিউশনের দাবি, তারা পলাতক রয়েছেন।
গত ২১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের আবেদনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ টিএফআই সেল পরিদর্শনের অনুমতি দেন।
এফএইচ/এমএএইচ/