ধর্ম

থ্রি-কোয়ার্টার হাতাবিশিষ্ট জামা পরে নারীর নামাজ হবে?

প্রশ্ন: গরমকালে নারীরা অনেক সময় বাসায় থ্রি-কোয়ার্টার হাতাবিশিষ্ট জামা পরিধান করে থাকেন। এ রকম জামা পরে নামাজ আদায় করলে নারীদের নামাজ হবে? আরেকটি প্রশ্ন হলো, কোনো নারী নামাজ আদায়ের সময় যদি কোনো পরপুরুষ তাকে দেখে ফেলে, তাহলে কি নামাজ শুদ্ধ হবে?

Advertisement

উত্তর: নামাজে নারীর হাত কব্জি পর্যন্ত ঢেকে রাখা ফরজ। তাই নামাজ আদায়ের সময় একজন নারীকে যে কোনো ভাবে উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত ঢেকে রাখতে হবে। কোনো নারী যদি থ্রি-কোয়ার্টার হাতা বা হাফ হাতাবিশিষ্ট জামাও পরিধান করেন, কিন্তু একটি বড় ওড়না বা হিজাব পরিধান করেন যা দিয়ে উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত পুরো নামাজে আবৃত থাকে, তাহলে তার নামাজ হয়ে যাবে।

কিন্তু যদি থ্রি-কোয়ার্টার হাতাবিশিষ্ট জামা পরিধান করার কারণে নারীর কনুই থেকে কব্জি পর্যন্ত হাতের এক চতুর্থাংশ বা তার বেশি তিন তাসবিহ পরিমাণ সময় অনাবৃত থাকে, তাহলে তার নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে। কারণ নামাজে যে অঙ্গগুলো ঢাকা ফরজ সে অঙ্গগুলোর কোনোটির চার ভাগের এক ভাগ বা এর বেশি তিন তাসবিহ পরিমাণ সময় খোলা থাকলে নামাজ নষ্ট হয়ে যায়।

আরও পড়ুন নারীর নামাজ আদায়ের নিয়ম

নামাজের সময় নারীদের মুখমণ্ডল, কবজি পর্যন্ত দুই হাত ও টাখনু পর্যন্ত পা ছাড়া পূর্ণ শরীর ঢেকে রাখা ফরজ। পুরুষের নাভির নিচ থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত ঢেকে রাখা ফরজ। অন্যান্য অঙ্গ অনাবৃত থাকলে নামাজ হয়ে যাবে, তবে বিনা কারণে মাথা, পেট-পিঠ, হাতের কনুই খোলা রেখে নামাজ পড়া পুরুষের জন্য মাকরুহ।

Advertisement

দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর হলো, নামাজরত কোনো নারীকে যদি পরপুরুষ বা গায়রে মাহরাম ব্যক্তি দেখে ফেলে, তাহলে নারীর নামাজ ভেঙে যাবে না বা নষ্ট হয়ে যাবে না। নারীর উচিত সুযোগ থাকলে এমন জায়গায় নামাজ পড়ার চেষ্টা করা, যেখানে পরপুরুষের আসা-যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বা তাদের দৃষ্টিতে পড়ার আশঙ্কা নেই। এমন জায়গা না পাওয়া গেলে বা পাওয়া গেলেও যে কোনো জায়গায়ই নারীর নামাজ শুদ্ধ হবে।

আরও পড়ুন কৃত্রিম নখ লাগানো অবস্থায় অজু শুদ্ধ হবে?

ওএফএফ