আন্তর্জাতিক

গাজা সংকট: উপত্যকার ভবিষ্যৎ নিয়ে ১৫ দফা রোডম্যাপ প্রকাশ

গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের জন্য ১৫ দফার একটি খসড়া প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এতে যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার একটি বিস্তৃত রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার পূর্ণ বাস্তবায়নের রোডম্যাপ’ শিরোনামে ১৫ দফা খসড়া নথি প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যম কুদস নিউজ।

Advertisement

সংবাদমাধ্যমটি মতে, এই খসড়া গৃহীত হলে যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা রূপান্তরের ক্ষেত্রে এটাই হবে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত সবচেয়ে বিস্তৃত পরিকল্পনা।

আরও পড়ুন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী গঠন / গাজায় তুর্কি সেনাদের প্রবেশ করতে দেবে না নেতানিয়াহু

প্রস্তাবিত ১৫টি দফায় ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার, গাজার প্রশাসন, পুলিশ ব্যবস্থা, পুনর্গঠন, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্রের ভবিষ্যৎ এবং একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশ সংস্কার, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র ব্যবস্থাপনা, সামাজিক শান্তি, আর্থিক প্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক তদারকির জন্য বিস্তারিত কাঠামোও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, পুরো প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে। প্রতিটি ধাপে অগ্রসর হওয়ার আগে একটি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ কমিটি যাচাই করবে যে, আগের ধাপের সব প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়েছে কি না।

Advertisement

আরও পড়ুন গাজায় ৮ হাজার সেনা পাঠাতে প্রস্তুত ইন্দোনেশিয়া

নথিতে গাজার বেসামরিক প্রশাসনের দায়িত্ব একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি জাতীয় কমিটির কাছে হস্তান্তর, ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে প্রত্যাহার এবং পিস কাউন্সিল ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের যৌথ তত্ত্বাবধানে পুনর্গঠনের পরিকল্পনা উল্লেখ করা হয়েছে।খসড়ার ১৫টি মূল প্রস্তাব

১. রাজনৈতিক ভিত্তি: ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনা এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে এর শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে । এর লক্ষ্য যুদ্ধের অবসান, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, গাজার পুনর্গঠন এবং ফিলিস্তিনি প্রশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

২. পূর্ববর্তী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন: শার্ম আল-শেখ প্রোটোকলসহ আগের চুক্তিগুলোর অসমাপ্ত প্রতিশ্রুতি পূরণ করে ১৪ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের সময়সূচি ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে।

৩. ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন:

Advertisement

প্রতিটি ধাপ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ কমিটির যাচাইয়ের পর পরবর্তী ধাপে যাবে।

৪. প্রশাসন হস্তান্তর:

হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি সংগঠন বেসামরিক ও নিরাপত্তা প্রশাসনের সব দায়িত্ব স্বাধীন ফিলিস্তিনি জাতীয় কমিটির কাছে হস্তান্তর করবে।

৫. সরকারি প্রতিষ্ঠান: সরকারি প্রতিষ্ঠান চালু থাকবে। আর্থিক ও প্রশাসনিক নিরীক্ষা হবে এবং প্রায় ৪০ কোটি ডলার আর্থিক দায় তিন বছরের মধ্যে পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে।

৬. এক কর্তৃপক্ষ, এক আইন, এক অস্ত্র:

গাজা পরিচালনায় জাতীয় কমিটিই হবে একমাত্র বৈধ কর্তৃপক্ষ।

৭. পুলিশ সংস্কার:

পুলিশ সদস্যদের যাচাই-বাছাই করে নতুন কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পুলিশের অস্ত্র জাতীয় কমিটির নিয়ন্ত্রণে যাবে।

৮. ভারী অস্ত্র ও সুড়ঙ্গ:

ভারী অস্ত্র, গোলাবারুদ, অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র ও সুড়ঙ্গ চিহ্নিত করে নিরাপদ সংরক্ষণে রাখা হবে। এ প্রক্রিয়া ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্পন্ন হবে। খসড়ায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনো ফিলিস্তিনি অস্ত্র ইসরায়েল বা অন্য কোনো অ-ফিলিস্তিনি পক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে না।

৯. ব্যক্তিগত অস্ত্র: ব্যক্তিগত অস্ত্র নিবন্ধন, লাইসেন্স প্রদান ও নিয়ন্ত্রণের একক ক্ষমতা থাকবে জাতীয় কমিটির হাতে।

১০. ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলোর অস্ত্র:

সশস্ত্র সংগঠনগুলোর অস্ত্র নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী জাতীয় কমিটির তত্ত্বাবধানে সংরক্ষণ করা হবে। এসব সংগঠনের সদস্যদের ভবিষ্যৎ পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।

১১. সামাজিক শান্তি চুক্তি:

অভ্যন্তরীণ সহিংসতা, প্রতিশোধমূলক হামলা, সশস্ত্র মহড়া ও অস্ত্র প্রদর্শন নিষিদ্ধ করতে ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলো সামাজিক শান্তি চুক্তিতে সই করবে।

১২. আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী:

ইসরায়েলি বাহিনী ও ফিলিস্তিনি জাতীয় কমিটির নিয়ন্ত্রিত এলাকার মাঝখানে একটি অস্থায়ী বহুজাতিক বাহিনী মোতায়েন করা হবে। তবে এই বাহিনী ফিলিস্তিনি সমাজে পুলিশি ক্ষমতা প্রয়োগ করবে না।

১৩. ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার:

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ধাপে ধাপে গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে। একই সঙ্গে গাজার বাসিন্দাদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত না করার বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

১৪. অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা:

গাজার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পূর্ণ দায়িত্ব থাকবে ফিলিস্তিনি জাতীয় কমিটির ওপর।

১৫. পুনর্গঠন:

ফিলিস্তিনি আইন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং সম্মত অর্থায়ন কাঠামোর ভিত্তিতে পিস কাউন্সিল ও ফিলিস্তিনি জাতীয় কমিটির যৌথ তত্ত্বাবধানে গাজার পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

কেএম