নাগরিকত্ব কাড়তে নয়, নাগরিকত্ব দিতেই এই সিএএ আইন। এমনই বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার (১ আগস্ট) রাজারহাট নিউটাউনের এক সরকারি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ৩০০ মতুয়াকে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) মাধ্যমে ভারতের নাগরিকত্ব সনদ তুলে দেন তিনি।
Advertisement
অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অভিযোগ করেন, বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকার রাজনৈতিক স্বার্থে সিএএ নিয়ে ভুল বুঝিয়েছিল।
তার ভাষ্য, নাগরিকত্ব কার্ড বিতরণ হয়েছে। বিরোধী দলের লোকজনও এসেছেন। আমি বিরোধী দলে থাকাকালে কোথাও ডাক পাইনি। আগের সরকার সিএএ-এর বিরুদ্ধে ছিল। তারা বলেছে, সিএএ দিয়ে কিছু হয় না। আপনারা তো নাগরিক, আপনারা বার্ধক্য ভাতা, রেশন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন। আবার কীসের নাগরিকত্ব।
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, আমরা সব সময় বলেছি- আপনারা যখন ভিসা পারমিট করতে যান, তখন ৭১ সালের আগের দলিল আনতে বলা হয়। সেক্ষেত্রে আপনারা সমস্যার মধ্যে পড়তেন। তার মানে সিএএ- প্রয়োজনীয়তা ছিল।
Advertisement
মুখ্যমন্ত্রী এও বলেন, ১৯৪৫ সাল থেকে প্রমোথরঞ্জন ঠাকুরের নেতৃত্বে এ লড়াই চলে এসেছে। ১৯৪৭ এর বিভীষিকাময় দেশভাগের পর ‘প্রাণ বাঁচাতে’ ও ‘ধর্মীয় উৎপীড়নের’ কারণে যারা বাংলাদেশ থেকে চলে আসতে বাধ্য হয়েছেন, তারা বিভিন্ন সময় বারবার সিএএ’র দাবি তুলেছেন। তারা চেয়েছেন, তাদের যেন সহ-নাগরিকের মর্যাদা দেওয়া হয়।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে মতুয়াদের নাগরিকত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চর্চা চলছিল। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁয় মতুয়াগড়ে সভা করতে এসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বার্তা দিয়েছিলেন, যেসব মতুয়া বাংলাদেশ থেকে ভারতের শরণার্থী হিসেবে এসেছিলেন, তারা ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন।
কেন্দ্রে বিজেপি সরকার গঠনের পর নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) পাস হয়। কিন্তু রাজ্যে তৃণমূল সরকার থাকার কারণে মতুয়াদের সিএএ সার্টিফিকেট পেতে দেরি হয় বলে অভিযোগ শুভেন্দু অধিকারীর।
তার কথায়, বলা হয়েছিল- মুসলিমদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে। আজ এখানে তৃণমূল কংগ্রেসের মুসলিম বিধায়করাও এসেছেন, আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। তারাও হয়তো বুঝেছেন, ২০১৯ সালে পশ্চিমবঙ্গে কত অশান্তি ঘটেছে। মুসলিমদের বোঝানো হয়েছিল এটা এনআরসি। কিন্তু এই আইনে কোথাও লেখা ছিল না, যে কারো নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।
Advertisement
এই আইনে লেখা ছিল, যারা ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিসেবে আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছেন ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদেরকে ভারত সরকার সহ-নাগরিকত্বের মর্যাদা দেবে। ভুল বুঝিয়ে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা হয়েছে। নাগরিকত্ব কাড়তে নয়, নাগরিকত্ব দিতেই এ সিএএ।
ডিডি/এসএএইচ