দেশজুড়ে

রেলওয়ের জলাশয় ভরাট করে দোকান নির্মাণের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

ফেনীর পরশুরামে বাংলাদেশ রেলওয়ের অধিগ্রহণকৃত একটি জলাশয় ভরাট করে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত সেখানে অবৈধভাবে দোকানঘর নির্মাণের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

Advertisement

তাজুল ইসলাম নামের এই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম রেলওয়ের অধীন ৩১ নম্বর ফেনী কাচারীর আমিন মো. সলিম উল্লাহ চৌধুরী বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ডাকযোগে পরশুরাম থানায় এ অভিযোগ করেন।

অভিযুক্ত ঠিকাদার তাজুল ইসলাম পরশুরাম উপজেলার অনন্তপুর গ্রামের মৃত বেলায়েত হোসেনের ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পরশুরামের কোলাপাড়া এলাকায় রুহুল আমিন মজুমদার বাড়ির সামনে ও রেললাইনের পশ্চিম পাশে কলেজ রোড সংলগ্ন এলাকায় রেলওয়ের অধিগ্রহণকৃত প্রায় ০.২৩ একর লাইসেন্সকৃত জলাশয় রয়েছে। গত ১৫ জুলাই থেকে সেখানে এক্সকেভেটর দিয়ে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করা হয়। খবর পেয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সরেজমিন পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পায়। পরে অভিযুক্তকে মৌখিকভাবে মাটি ভরাট করতে নিষেধ করা হলেও তিনি তা অমান্য করে কাজ চালিয়ে যান।

Advertisement

রেলওয়ে সূত্রের দাবি, সরকারি জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট করে সেখানে বেআইনিভাবে দোকানঘর নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। জলাশয়ের শ্রেণি পরিবর্তন রোধ ও অবৈধ দখল ঠেকাতে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এজাহার গ্রহণের জন্য পরশুরাম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে লিখিত আবেদন করেছে রেলওয়ে।

এদিকে জলাশয় দখলের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় লোকজনের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, ওই ঠিকাদার বিগত দিনে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ ও বরাদ্দের অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বিশেষ করে ২০২৪-২৫ সালের সাম্প্রতিক বন্যার পর বাঁধ সংস্কারসহ নানা প্রকল্পের কাজের মান ও বিল উত্তোলনের বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকেরা। একই সঙ্গে তাঁর সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং এলজিইডির হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

স্থানীয় নুরুল হুদা বলেন, রেলওয়ের এই জলাশয়টা শুধু সরকারি সম্পত্তিই নয়, এলাকার পরিবেশ ও পানি নিষ্কাশনের জন্যও অত্যন্ত জরুরি। অথচ এক শ্রেণির প্রভাবশালী প্রকাশ্যে রেলওয়ের জমি-জলাশয় দখল করে নিচ্ছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনের চোখের সামনে কীভাবে রেলের সম্পত্তি এভাবে হাতছাড়া হয়ে যায়? আমরা চাই, দ্রুত রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথ অভিযান চালিয়ে দখল উচ্ছেদ করুক এবং সরকারি সম্পদ রক্ষা করুক।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা আবদুল মতিন বলেন, ছোটোবেলা থেকে দেখে আসছি রেলের এই জলাশয়টা এলাকার জলাবদ্ধতা দূর করতে বড় ভূমিকা রাখে। এখন এটি দখলের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে আমাদের এলাকার মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ আর আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। জলাশয়টা ভরাট বা দখল হয়ে গেলে একটু বৃষ্টি হলেই এ এলাকাতে কৃত্রিম বন্যা দেখা দেবে। প্রভাবশালীরা দখল করে নিজেদের আখের গোছাচ্ছে, আর ভোগান্তি পোহাতে হবে সাধারণ মানুষকে। আমরা অবিলম্বে এই দখল বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।

Advertisement

আরও পড়ুন ফেনীতে লেক ভরাট চলছেই : শহর তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা

জলাশয় ভরাটের অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার তাজুল ইসলাম বলেন, কৃষি চাষাবাদের জন্য জমিটি রেলওয়ে থেকে ইজারা নেওয়া হয়েছে এবং গত ৪০ বছর ধরে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করা হচ্ছে। ইজারা নেওয়া জমি হওয়ায় মাটি ভরাটের জন্য আলাদা অনুমতির প্রয়োজন মনে করিনি।

চট্টগ্রাম রেলওয়ের অধীন ৩১ নম্বর ফেনী কাচারীর আমিন মো. সলিম উল্লাহ চৌধুরী বলেন, ৩০ জুলাই ডাকযোগে অভিযোগ পত্রটি পরশুরাম মডেল থানায় পাঠানো হয়েছে। এ কয়দিনে এটি পৌঁছে যাওয়ার কথা।

পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, এখনো পর্যন্ত সরাসরি কোনো লিখিত অভিযোগ আমাদের হাতে পৌঁছায়নি। অভিযোগ হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আবদুল্লাহ আল-মামুন/এসজেডএইচ/এএসএম