রাজধানীর কল্যাণপুরের জাহাজবাড়িতে কথিত জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের নামে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে।
Advertisement
আসামিপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১০ আগস্ট শুনানির নতুন দিন ঠিক করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
এ সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানি নিয়ে রোববার (২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালে আজ রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, প্রসিকিউটর মামুনুর রশিদ, সহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্যরা। এদিন মামলায় অভিযোগ গঠন না করার শুনানির জন্য আরও সময়ের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
আরও পড়ুন ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে হত্যা / শেখ হাসিনাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনএ মামলায় মোট আসামি আটজন। এর মধ্যে গ্রেফতার দুই আসামি হলেন সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক ও ডিএমপির সাবেক কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া।
Advertisement
পলাতক আসামিরা হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ডিএমপির তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, তৎকালীন সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণ পদ রায় ও তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন।
এর আগে, রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম শুনানিতে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তরুণদের ধরে এনে জঙ্গি তকমা দিয়ে কল্যাণপুরের জাহাজবাড়িতে এনে হত্যা করা হতো। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অনেকেই এ সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন। এসব অভিযোগ বিবেচনায় আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন জানান তিনি। গত ২১ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে প্রসিকিউশনের শুনানি শেষ হয়।
আরও পড়ুন জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ৯ তরুণকে হত্যা, সাবেক আইজিপিসহ কারাগারে ৩তারও আগে, গত ২৯ জানুয়ারি এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
২০১৬ সালের ২৫ জুলাই কল্যাণপুরের জাহাজবাড়ি নামক বাড়িতে ‘অপারেশন স্টর্ম-২৬’ নামে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি)। সেই অভিযানে ৯ জন তরুণকে গুলি করে হত্যা করা হয়, যাদের তৎকালীন সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।
Advertisement
তবে পরবর্তী সময়ে এই ঘটনাকে পরিকল্পিত ‘জঙ্গি নাটক’ এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দায়ের করা হয়। ভুক্তভোগীদের পরিবারের দাবি ও বিভিন্ন তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতে এই হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বর্তমানে বিচারিক প্রক্রিয়ায় আনা হয়েছে।
এফএইচ/এমএমকে