জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং একটি বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসা অবহেলা, প্রতারণা ও রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় নির্ধারিত দিনেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি পুলিশ। একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা লাশ উত্তোলনের আবেদন করলেও তা নামঞ্জুর করেছেন আদালত। পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণের আদেশ সংরক্ষণ রাখা হয়েছে।
Advertisement
রোববার (২ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইলের আদালতে মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে বাদীপক্ষের আইনজীবী মোকছেদুল হাসান মণ্ডল জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, এদিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে, তদন্ত কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। একইসঙ্গে তদন্তের স্বার্থে মরদেহ উত্তোলনের আবেদন করা হলেও আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেননি। পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ বিষয়ে আদালত আদেশ সংরক্ষণ করেছেন।
যে অভিযোগে মামলামামলার বাদী আবু হুরায়রার অভিযোগ, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার বাবা জিন্নাত আলীকে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে হাসপাতালের এক কর্মচারী আইসিইউ বেড না থাকার কথা বলে রোগীকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
Advertisement
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই পরামর্শে শ্যামলীর হৃদয় জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর রোগীর চিকিৎসার নামে একের পর এক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ ও বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। পরে আবার সরকারি হাসপাতালে ফিরিয়ে আনার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিন্নাত আলীর মৃত্যু হয়।
বাদীপক্ষের দাবি, সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো, চিকিৎসায় অবহেলা, আর্থিকভাবে জিম্মি করা এবং প্রতারণার কারণে তার বাবার মৃত্যু হয়েছে।
আদালতে মামলাপ্রতিকার না পেয়ে চলতি বছরের ১৪ মে আবু হুরায়রা রাজধানীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং শ্যামলীর হৃদয় জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক, চিকিৎসক, ওয়ার্ডবয়, নিরাপত্তাকর্মীসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২ (হত্যা), ৩০৪ (অবহেলায় মৃত্যু), ৩২৩ (মারধর) এবং ৫০৬ (প্রাণনাশের হুমকি) ধারায় দায়ের করা হয়েছে।
Advertisement
বাদীপক্ষের ভাষ্য, তদন্ত কর্মকর্তা এরইমধ্যে তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন। তারা আশা করছেন, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমডিএএ/এএমএ