দেশজুড়ে

নালিয়ারদোলায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের দাবি

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস পূর্বনির্ধারিত স্থান নালিয়ারদোলায় নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Advertisement

সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের আমিন বাজারে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় বক্তারা বলেন, কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য নালিয়ারদোলা স্থানটি ইতোমধ্যে উপযুক্ত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে জমি অধিগ্রহণের প্রস্তুতিও চলছিল। কিন্তু এখন একটি পক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস অন্যত্র স্থানান্তরের চেষ্টা করছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

মানববন্ধনে স্থানীয় শিক্ষক নুরনবী সরকার বলেন, কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান নালিয়ারদোলা। এখানে পর্যাপ্ত খাসজমি রয়েছে। মীমাংসিত স্থানে বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ না করে কেউ কেউ নিজ নিজ এলাকায় নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আমরা চাই, পূর্বের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে দ্রুত নালিয়ারদোলায় স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ করা হোক।

Advertisement

নারী নেত্রী মেরিনা আক্তার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নালিয়ারদোলা নির্বাচন করে সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হয়েছিল। জমি অধিগ্রহণের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় একটি চক্র বিশ্ববিদ্যালয় অন্যত্র নেওয়ার পাঁয়তারা করছে। এতে একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে রাজনীতি শুরু হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা স্থায়ী ক্যাম্পাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন রাস্তার ইট তুলে বিক্রি করে দিলেন ইউপি সদস্য

তিনি আরও বলেন, একই সময়ে প্রতিষ্ঠিত দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মিত হলেও কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এখনো স্থান নির্বাচন-সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে আছে। দ্রুত পূর্বনির্ধারিত স্থানে ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ শুরু না হলে নালিয়ারদোলাবাসী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।

আবৃত্তি শিক্ষক আব্দুর রশীদ বলেন, জেলা সদরের নালিয়ারদোলা জেলার সব উপজেলার প্রায় মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এ ছাড়া সড়ক, রেল ও নৌপথে দেশের বিভিন্ন জেলা এবং ভারতের সাতটি রাজ্যের সঙ্গে এ এলাকার যোগাযোগ সহজ। চিলমারী নৌবন্দর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় জামালপুর, গাইবান্ধা ও ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগও সুবিধাজনক হবে। তাই পূর্বনির্ধারিত স্থানেই দ্রুত স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের দাবি জানাই।

মানববন্ধনে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশ নেন। কর্মসূচি চলাকালে কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়। পরে কর্মসূচি শেষ হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

Advertisement

২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠের এক জনসভায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুড়িগ্রামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। এর ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কারিগরি কমিটির সুপারিশে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার নালিয়ার দোলাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান হিসেবে নির্বাচন করা হয়। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সেখানে প্রায় ২৬০ একর জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন এবং প্রাথমিক কার্যক্রমও শুরু হয়। কিন্তু বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় টানাপোড়েনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাস এখনো আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমানে জেলা শহরের ভোকেশনাল মোড় এলাকায় দুটি ভাড়া ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে।

রোকনুজ্জামান মানু/এনএইচআর/জেআইএম