সাপের কামড়ের পরও অনেক জায়গায় এখনো হাসপাতালের বদলে ঝাড়ফুঁক বা ওঝার শরণাপন্ন হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এই দেরিই অনেক সময় রোগীর জীবনের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায়। এমনই একটি ঘটনা সেই বাস্তবতাকেই আবার সামনে এনেছে।
Advertisement
ভারতের মধ্যপ্রদেশের নর্মদাপুরম জেলার ঝিল পিপারিয়া গ্রামের বাসিন্দা রাধাবাই আহিরওয়ারকে মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে পাঁচবার ছোবল মারে একটি সাপ। প্রথমে তাকে হাসপাতালে না নিয়ে ঝাড়ফুঁকের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকরা প্রথম ৪০ মিনিটে ১০টি ও পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় মোট ৩৫টি ইনজেকশন দিয়ে তার জীবন বাঁচান। বিষের প্রভাবে ফুলে যাওয়া হাতের একটি আঙুলে অস্ত্রোপচারও করতে হয়। বর্তমানে তিনি সুস্থ হয়ে জেলা হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
ঘটনার প্রায় ২০ দিন পর দৈনিক ভাস্করের একটি দল জেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের ঝিল পিপারিয়া গ্রামে গিয়ে রাধাবাই, তার স্বামী সুখরাম আহিরওয়ার এবং চিকিৎসক ডা. দেবেন্দ্র আহিরওয়ারের সঙ্গে কথা বলে পুরো ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে।
Advertisement
রাধাবাই আহিরওয়ার জানান, গত ১৩ জুলাই দুপুর প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে রান্না শেষ করে তিনি বাড়ির রান্নাঘরে ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। এসময় আলমারিতে রাখা বাসনপত্রের মধ্যে প্রায় পাঁচ ফুট লম্বা একটি কালো সাপ দেখতে পান।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই সাপটি প্রথমে তার ডান হাতের তালুতে ছোবল মারে। তিনি হাত ঝাঁকিয়ে সরানোর চেষ্টা করলে সাপটি আবার ছোবল দেয়। এভাবে দেড় থেকে দুই মিনিটের মধ্যে হাত ও তালুতে মোট পাঁচবার কামড় দেয় সাপটি। প্রতিবারই তিনি হাত সরানোর চেষ্টা করলে সাপটি নতুন করে আক্রমণ করে। একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে সেখানেই লুটিয়ে পড়েন।
হাসপাতালে নয়, প্রথমে নেওয়া হয় ঝাড়ফুঁকের জন্য
রাধাবাইয়ের স্বামী সুখরাম আহিরওয়ার জানান, সাপে কাটার পর তাকে সরাসরি হাসপাতালে না নিয়ে গ্রামের এক ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। দুপুর প্রায় ১টার দিকে তারা সেখানে পৌঁছান। তবে ওঝা শুরুতেই জানিয়ে দেন, তিনি কিছু করতে পারবেন না।
Advertisement
এদিকে ততক্ষণে শরীরে বিষের প্রভাব বাড়তে শুরু করে। রাধাবাইয়ের চোখ ভারী হয়ে আসে ও তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। এরপর পরিবারের সদস্যরা তাকে দুপুর প্রায় ২টা ১০ মিনিটে পিপারিয়া সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার চিকিৎসা শুরু হয়।
ডিউটি চিকিৎসক দেবেন্দ্র ঠাকুর জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর সময় রাধাবাইয়ের চোখ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ও তার শরীরে দ্রুত বিষ ছড়িয়ে পড়ছিল। একই সঙ্গে তার শ্বাসকষ্টও হচ্ছিল।
রোগীর আশঙ্কাজনক অবস্থা দেখে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটের দিকে চিকিৎসকরা প্রথম ৪০ মিনিটে ১০টি অ্যান্টি-স্নেক ভেনম (এএসভি) ইনজেকশন দেন।
পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় তাকে মোট ৩৫টি ইনজেকশন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল ২৫টি অ্যান্টি-স্নেক ভেনম ও ১০টি অ্যাট্রোপিন ইনজেকশন।
চিকিৎসার পর রাধাবাইয়ের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়। তবে বিষের প্রভাবে তার হাতের একটি আঙুল ফুলে থাকায় পরে তাকে জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ওই আঙুলে অস্ত্রোপচার করা হয়।
সূত্র: ভাস্কর ইংলিশ
এসএএইচ