এখন বাজারে কমলা পাওয়া যাচ্ছে। রসালো, মিষ্টি আর সুগন্ধি কমলা প্রায় সবার ঘরে আনন্দ বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু বাজার ঘুরলে অনেক ক্রেতাই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। চোখের সামনে চকচকে, গোলগাল কমলাটি কি আসলেই মিষ্টি কমলা, নাকি অন্য কিছু। বাজারে কমলার নামে বেশিরভাগ সময় বিক্রি হয় কেনু ও মান্ডারিন। দেখতে মিল থাকায় ক্রেতাদের কাছে পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে যায়। স্বাদ, খোসার ধরন, বীজের সংখ্যা ও গঠন-এই বিষয়গুলো না জানলে আসল কমলা আর কেনুর মধ্যে বোঝা মুশকিল।
Advertisement
দুটি ফল দেখতে প্রায় একই রকম হলেও স্বাদ, খোসার গঠন এবং উৎসের দিক থেকে এদের মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য।
কমলা ও কেনুর পার্থক্যকেনুর খোসা তুলনামূলকভাবে মোটা, শক্ত ও আঁটসাঁট। ফলে সহজে ছাড়া যায় না। অন্যদিকে কেনুর খোসা কিছুটা মলিন এবং চকচকে দেখায়, কিন্তু হাতে নিলে সহজে খোসা ছাড়ে না।এ কারণে অনেক ক্রেতা চোখে চকচকে দেখেই কেনুকে কমলা মনে করে বাজার থেকে কিনে নেন।
স্বাদের দিক থেকেও পার্থক্য স্পষ্ট। কেনুর স্বাদ কিছুটা টক হলেও, কমলা মিষ্টি ও রসালো।
Advertisement
বীজের দিক থেকেও ভিন্নতা রয়েছে। কেনুর মধ্যে সাধারণত বীজের সংখ্যা বেশি থাকে, যা খাওয়ার সময় কিছুটা অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে, কমলালেবুর বীজ খুব কম থাকে বা অনেক ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বীজবিহীন হয়।
ফল হিসেবে, খোসা, স্বাদ ও বীজের গঠন দেখে সহজেই কমলা ও কেনুর পার্থক্য বোঝা যায়, যা বাজার থেকে সঠিক ফল বেছে নিতে সহায়ক।
কেনুর আকারে সামান্য বড় এবং কিছুটা চ্যাপ্টা প্রকৃতির হতে পারে। আর কমলা সাধারণত গোলাকার এবং মাঝারি আকারের হয়।
কেনু কোথা থেকে আসে এবং পুষ্টিগুণবাংলাদেশে কমলা নামে বাজারে যে ফল বেশি দেখা যায়, তার বেশিরভাগ আসলেই কেনু। এই ফলের প্রধান উৎস ভারত। ভারতে কেনুর প্রচুর চাষ হয়। বিশেষ করে পাঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু কাশ্মীর এবং হরিয়ানায় প্রচুর কেনু উৎপাদন হয়।
Advertisement
স্বাদ বা দামের পার্থক্য থাকলেও পুষ্টিগুণের দিক থেকে কেনু এবং কমলা সমানভাবে স্বাস্থ্যকর। উভয়ই ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইবারে সমৃদ্ধ। নিয়মিত কমলা বা কেনু খাওয়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে, হজমে সহায়তা করে এবং ত্বককে উজ্জ্বল রাখতে ভূমিকা রাখে। সূত্র: হেলথ লাইন, ওনলি মাই হেলথ
আরও পড়ুন: স্ট্রেস ও অ্যাংজাইটি কমাতে সাহায্য করবে এই ৫ খাবার শুধু স্বাদ নয়, প্রদাহও কমায় এই ১১ চা
এসএকেওয়াই/