কৃষি ও প্রকৃতি

টাঙ্গাইলে সূর্যমুখী চাষে কৃষকের মুখে হাসি

টাঙ্গাইলে বিভিন্ন উপজেলায় বিস্তীর্ণ জমিতে এখন সূর্যমুখীর সমারোহ। গাছ ও ফুলের চেহারায় যেন হাসি ফুটছে কৃষকের মুখে। বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন সূর্যমুখী চাষিরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চাষিরা সূর্যমুখী চাষে লাভবান হবেন বলে জানিয়েছে কৃষি অফিস। এবার ক্ষেতগুলোয় পর্যাপ্ত পরিমাণে ফুল এসেছে। ভোরবেলা সূর্যের মিষ্টি আলো পড়তেই পুরো ক্ষেত সোনালি আভায় ভরে ওঠে।

Advertisement

এদিকে ফুলের বাগানে প্রতিদিনই দেখা যায় প্রজাপতি ও মৌমাছির ব্যস্ত আনাগোনা। মধু সংগ্রহে তাদের এই মেলা যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। নয়নজুড়ানো এ দৃশ্য যেমন আনন্দ দিচ্ছে পথচারী ও ফুলপ্রেমী মানুষকে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসছেন সূর্যমুখীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সী মানুষ বাগানে এসে ছবি ও সেলফি তুলছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভোরের আলো ফুটতেই টাঙ্গাইলের কাকুয়া ইউনিয়নের যমুনা নদীর তীরে ঝলমল করে ওঠে সূর্যমুখী ফুলের সোনালি হাসি। সবুজ পাতার আড়াল ভেদ করে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা ফুলগুলো যেন সূর্যের দিকেই তাকিয়ে অভিবাদন জানায় নতুন দিনকে। এদিকে কৃষকেরা বলছেন, অল্প পুঁজিতে সূর্যমুখী চাষে বেশি লাভের স্বপ্ন দেখছেন তারা। কৃষি বিভাগ বলছে, আগামী দিনে ভালো ফলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলায় সারাবছরই বিভিন্ন প্রকার ফল-ফসল ও ফুলের চাষ হয়ে থাকে। সরকারি সহায়তায় স্থানীয় চাষিদের সূর্যমুখী চাষে আরও প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে জেলাটি হয়ে উঠবে আরেকটি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক খাত।

Advertisement

আরও পড়ুনচিনির বিকল্প ‘স্টিভিয়া’, লাভজনক ফসলের নতুন দিগন্ত 

কৃষকেরা জানান, অন্যান্য ফসলের তুলনায় সূর্যমুখী চাষে খরচ কম এবং লাভের সম্ভাবনা বেশি। সূর্যমুখীর বীজ থেকে উৎপাদিত তেল পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ফলে অনেক কৃষকই এবার নতুন করে সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

মো. রফিকুল নামের এক চাষি বলেন, ‘আমি ১ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি। আশা করছি এবার ফলন ভালো হবে।’ ফুলপ্রেমীরা জানান, সূর্যমুখীর সোনালি হাসি মনকে প্রফুল্ল করে তোলে। তারা আশা করছেন, কৃষিখাতে আধুনিকায়নের মাধ্যমে আরও উন্নয়ন সম্ভব। এ প্রসঙ্গে কৃষি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইলে কৃষিখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবেন বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর জেলার ১২টি উপজেলায় মোট ১৭৮ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৪৫ হেক্টর, বাসাইলে ৪৬ হেক্টর, কালিহাতীতে ৮ হেক্টর, ঘাটাইলে ১০ হেক্টর, নাগরপুরে ১০ হেক্টর, মির্জাপুরে ১০ হেক্টর, মধুপুরে ১৪ হেক্টর, ভূঞাপুরে ৫ হেক্টর, গোপালপুরে ৫ হেক্টর, সখীপুরে ৩ হেক্টর, দেলদুয়ারে ২০ হেক্টর এবং ধনবাড়ী উপজেলায় ২ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা কৃষি অফিসার রুমানা আক্তার বলেন, ‘সূর্যমুখী চাষ দিন দিন বেড়েই চলেছে। একদিকে তেল উৎপাদন হচ্ছে, অপরদিকে সৌন্দর্য উপভোগ হচ্ছে। কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে নিয়মিত পরামর্শ, প্রশিক্ষণ, সার ও বীজ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে সূর্যমুখী হতে পারে জেলার অর্থকরী ফসলের একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। এবার টাঙ্গাইল সদরে ২৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে।’

Advertisement

আরও পড়ুনখরা ও চরাঞ্চলের কৃষিতে সম্ভাবনা, সয়াবিনের নতুন জাত উদ্ভাবন 

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আশেক পারভেজ বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকদের ফলন ভালো হবে। ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে এবং পুষ্টিকর তেলের চাহিদা মেটাতে কৃষকদের এই অর্থকরী ফসল চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পাশে থেকে উন্নত জাতের বীজ ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি কৃষকেরা এবার ভালো ফলন পাবেন।’

আব্দুল্লাহ আল নোমান/এসইউ