সকালে অফিস, দুপুরে মিটিং, সন্ধ্যায় সন্তানের পড়াশোনা - কর্মজীবী মা-বাবার দিনের তালিকাটি অনেক সময়ই দীর্ঘ হয়ে যায়। কাজের চাপ সামলে পরিবারকে সময় দেওয়া যেন এক ধরনের ভারসাম্যের খেলা। সবকিছু নিখুঁতভাবে সামলাতে না পারার মানসিক চাপে অনেকেই ভাবেন, আমি ব্যর্থ মা অথবা বাবা।
Advertisement
কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিখুঁত হওয়া নয় - বরং সময় ও শক্তির সঠিক ব্যবস্থাপনা দিয়ে পরিবারে ভারসাম্য আনাই অভিভাবকের মূল লক্ষ্য হওয়া দরকার।
এই ভারসাম্য কেন গুরুত্বপূর্ণগবেষণা বলছে, কাজ ও পরিবারের মধ্যে ভারসাম্য না থাকলে মানসিক চাপ দ্রুত বাড়তে পারে। এতে ক্লান্তি, বিরক্তি এমনকি পারিবারিক সম্পর্কেও প্রভাব পড়ে।
আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন জানায়, দীর্ঘমেয়াদি কর্মচাপ কমাতে ব্যক্তিগত সময় ও পারিবারিক যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কীভাবে আনবেন এই ভারসাম্য? জেনে নিন -
Advertisement
অফিসের কাজ যেন দিনের পুরো সময় দখল করে না নেয়। কাজের নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন এবং সেই সময়ের বাইরে পরিবারকে অগ্রাধিকার দিন।
সন্ধ্যায় অন্তত কিছু সময় ফোন বা ল্যাপটপ দূরে রেখে সন্তানের সঙ্গে কথা বলুন বা একসঙ্গে সময় কাটান।
২. পরিকল্পনা করে দিন শুরু করুনব্যস্ত জীবনে সংগঠিত থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। দৈনন্দিন কাজের তালিকা তৈরি করা, পারিবারিক ক্যালেন্ডার ব্যবহার করা বা ডিজিটাল অ্যাপের সাহায্যে সময় ম্যানেজ করা অনেক চাপ কমাতে পারে।
৩. সব দায়িত্ব একা নেওয়ার প্রয়োজন নেইঅনেকে মনে করেন সব দায়িত্ব তাদের একাই সামলাতে হবে। কিন্তু বাস্তবে দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নেওয়া জরুরি। সম্ভব হলে পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছে সাহায্য চাইতে পারেন।
Advertisement
প্রতিটি আমন্ত্রণ বা অতিরিক্ত কাজ গ্রহণ করা প্রয়োজন নেই। কখনো কখনো একটি অতিরিক্ত দায়িত্বকে না বলা মানে নিজের ও পরিবারের জন্য সময় তৈরি করা।
৫. নিজের জন্যও সময় রাখুনঅভিভাবকরা প্রায়ই নিজের প্রয়োজনকে শেষ দিকে রাখেন। কিন্তু কয়েক মিনিট হাঁটা, বই পড়া বা পছন্দের কোনো কাজ করা মানসিক শক্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
শিশুরা শুধু কথায় নয়, আচরণ দেখে শেখে। তারা দেখে - মা-বাবা কীভাবে চাপ সামলান, নিজের যত্ন নেন এবং পরিবারের জন্য সময় বের করেন।
সুতরাং কাজ ও পরিবারের ভারসাম্য শুধু অভিভাবকদের জন্য নয়; এটি শিশুদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
কর্মজীবী মা-বাবার জন্য ভারসাম্য খুঁজে পাওয়া সবসময় সহজ নয়। তবু ছোট ছোট পরিবর্তন - সময়ের পরিকল্পনা, দায়িত্ব ভাগাভাগি, নিজের যত্ন - এইগুলোই ধীরে ধীরে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।
সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ
এএমপি/জেআইএম