বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞে হয়ে থাকে নানা রেকর্ড, নানা ঘটনা। কেউ রেকর্ড ভাঙেন, কেউ গড়েন। আবার কেউ নতুন ইতিহাস তৈরি করেন। তাহলে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে শিরোনামে কেন শুধু কিলিয়ান এমবাপের নাম? কারণ, এবারের বিশ্বকাপে সেই ইতিহাস গড়ার সুযোগ যে শুধুই এমবাপের আছে, আরো কারো নেই!
Advertisement
৯৬ বছর আগে বিশ্বকাপ যাত্রা করে ১৯৩০ সালে। তবে সর্বাধিক গোলদাতার পুরস্কার আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া হচ্ছে ১৯৮২ সালে স্পেনের হওয়া আসর থেকে।
বিশ্বকাপ ফুটবলের দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ইতিহাসে বহু কিংবদন্তির জন্ম হয়েছে। পেলে, ম্যারাডোনা থেকে শুরু করে মেসি-রোনালদো, নেইমার; ফুটবল বিশ্ব মাতানো এসব মহাতারকাদের কেউই যা পারেননি একটি কীর্তি অর্জন করতে, এবার সেই অনন্য ইতিহাস গড়ার সামনে ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপে।
গ্রেটদেরও অধরা সেই রেকর্ডটি হলো বিশ্বকাপের ইতিহাসে পরপর দুই আসরে বা একাধিকবার সর্বাধিক গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’ জয় করা। ২০২২ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট বিজয়ী এমবাপে। যদি ২০২৬ বিশ্বকাপে আবারও গোল্ডেন বুট নিজের করে নিতে পারেন, তাহলে তিনি হবেন অনন্য এই অর্জনের প্রথম ফুটবলার।
Advertisement
গোল্ডেন বুট পুরস্কার প্রদান প্রথা চালুর পর প্রতি আসরেই পান নতুন নতুন ফুটবলাররা। অনেক রসিকতা করে বলেন এটি ‘ওয়ান টাইম পুরস্কার!’ একবার জিতলে আর জেতা যায় না। কোনো ফুটবলার দুইবার এই পুরস্কার জিততে পারেনি। টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’-কেও একই নামে ডাকা হতো। কিন্তু কাতার বিশ্বকাপে এ ধারণা ভেঙে দেন মেসি। তিনিই একমাত্র ফুটবলার, যিনি গোল্ডেন ২বার জয় করেছেন। প্রথমবার ২০১৪ সালে। এরপর ২০২২ সালে।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করে ৮ গোল দিয়ে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন এমবাপে। বিশেষ করে ফাইনালের সেই অবিশ্বাস্য হ্যাটট্রিক এখনো ফুটবলপ্রেমীদের চোখে লেগে আছে।
২০২৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের এই পোস্টারবয়ের সামনে এখন নতুন ইতিহাস লেখার সুযোগ। গতি, নিখুঁত ফিনিশিং আর ড্রিবলিং স্কিল দিয়ে যে কোনো রক্ষণভাগ চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে সিদ্ধহস্ত এই ফরাসি তারকা। বয়স আর অভিজ্ঞতার দিক থেকে ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে থাকা এমবাপ্পে এবারও আছেন ফর্মের তুঙ্গে। তার রয়েছে তুমুল গোলক্ষুধা ।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এবারের আসরে ফ্রান্সের আক্রমণভাগের মূল ভরসা তিনিই। এই ইতিহাস তৈরি সহজ কাজ না হলেও এমবাপের মতো অতিমানবীয় ফুটবলারের পক্ষে তা অসম্ভব কিছু নয়। বিশ্বকাপের ট্রফি ধরে রাখার পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্জনের এই চূড়া ছোঁয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছেন ফরাসি অধিনায়ক।
Advertisement
গত মৌসুমে যেভাবে গোলের পর গোল করেছেন, তাতে তাকে নিয়ে ভক্তরা গোল্ডেন বুট জয়ের আশা করতেই পারেন। গত মৌসুমে ক্লাব ও দেশের জার্সিতে সর্বমোট ৫১ ম্যাচে করেছেন ৪৮ গোল। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৪৫ ম্যাচে করেছেন ৪৩ গোল। এর মধ্যে ২৫টি লা লিগায়, ১৫টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে, ৩টি কোপা ডেল রে ও সুপার কোপায়। জাতীয় দলের হয়ে ৬ ম্যাচে করেছেন ৫ গোল।
কোটি ফুটবল ভক্তের চোখ এখন উত্তর আমেরিকার মাঠগুলোর দিকে। কিলিয়ান এমবাপে কি পারবেন লক হয়ে থাকা এই ইতিহাসের পাতা সচল করে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখতে? উত্তর দেবে সময়।
আরআই/আইএইচএস/