জাতীয়

স্বাস্থ্যখাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বরাদ্দ মানবিক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিফলন

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ায় গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু।

Advertisement

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বরাদ্দ জনগণকেন্দ্রিক, কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয়ের বাস্তব প্রতিফলন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এক বিবৃতিতে ডা. বিটু বলেন, সংসদে উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ায় আমি গভীর সন্তোষ প্রকাশ করছি এবং সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। একটি সুস্থ জনগোষ্ঠীই একটি উন্নত, উৎপাদনশীল ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রের প্রধান ভিত্তি। সেই বিবেচনায় এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে যে অভূতপূর্ব গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে একটি মানবিক, দূরদর্শী ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রচিন্তার প্রতিফলন।

তিনি বলেন, এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে, যা দেশের মোট জিডিপির ১.০১ শতাংশ। গত অর্থবছরে এ হার ছিল ০.৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির অনুপাতে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাংলাদেশের এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ। স্বাস্থ্য খাতে এই বিনিয়োগ দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী, আধুনিক ও জনমুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Advertisement

জনবল সংকট নিরসনে সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ জনবল সংকট নিরসনে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী এবং ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে জেলা, উপজেলা ও গ্রামীণ পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার মান এবং প্রাপ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।

স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরে ডা. বিটু বলেন, স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিও অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য উন্নয়নে ২ হাজার ২৬৬.৮৭ কোটি টাকা, ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহে ৭ হাজার ৬২৩.৫২ কোটি টাকা এবং সারাদেশে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর জন্য ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব জনস্বাস্থ্যের প্রতি সরকারের আন্তরিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এসব উদ্যোগ মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু হ্রাস, টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

অসংক্রামক রোগের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমানে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, ক্যানসার ও কিডনি রোগসহ অসংক্রামক রোগের প্রকোপ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব রোগের চিকিৎসা ব্যয় সাধারণ মানুষের জন্য প্রায়ই বড় ধরনের আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। এ বাস্তবতায় হার্টের রিং (স্টেন্ট), চোখের ইন্ট্রা-অকুলার লেন্স (চোখের ক্যাটারেক্ট/ছানির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়) এবং ডায়ালাইসিস-সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা উপকরণের ওপর কর ও শুল্ক হ্রাসের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত জনবান্ধব পদক্ষেপ। এর ফলে লাখো রোগীর চিকিৎসা ব্যয় কমবে এবং জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসাসেবা আরও বেশি মানুষের নাগালে পৌঁছাবে।

একজন হৃদরোগ চিকিৎসক হিসেবে তিনি বলেন, স্টেন্টের মূল্য হ্রাস হৃদরোগ চিকিৎসাকে আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Advertisement

ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে ডা. বিটু বলেন, এছাড়া ‘ই-হেলথ কার্ড’ এর মাধ্যমে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্যখাতে ডিজিটাল রূপান্তরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা আরও সহজে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।

তিনি আরও বলেন, একইসঙ্গে বেকার তরুণ-তরুণীদের জন্য ৪ মাস মেয়াদি ‘জেনারেল কেয়ার গিভার’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এটি যেমন দক্ষ জনবল তৈরিতে সহায়ক হবে, তেমনি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

বিবৃতিতে ডা. বিটু বলেন, দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণকেন্দ্রিক, কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের যে প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে, স্বাস্থ্য খাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বরাদ্দ, ব্যাপক জনবল নিয়োগ, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং চিকিৎসা ব্যয় হ্রাসের মতো পদক্ষেপ তারই বাস্তব প্রতিফলন। এই বাজেট শুধু একটি আর্থিক পরিকল্পনা নয়; এটি একটি সুস্থ, সক্ষম ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা।

তিনি স্বাস্থ্য খাতের এ উদ্যোগের জন্য সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, স্বাস্থ্য খাতের এই সাহসী, জনবান্ধব ও সুদূরপ্রসারী উদ্যোগের জন্য আমি সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সামগ্রিক গণমুখী ও জনকল্যাণকর বাজেট এর সফল বাস্তবায়ন কামনা করি।

কেএইচ/এনএইচআর