ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী আয়োজনে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা নজর কেড়েছে দেশি-বিদেশি ফুটবলপ্রেমীদের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময় মেক্সিকোর ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা প্রদর্শিত হচ্ছে।
Advertisement
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচকে ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের উপস্থিতিতে যখন উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়, তখন লাল-সবুজের পতাকাও জায়গা করে নেয় সেই বৈশ্বিক মঞ্চে। বিষয়টি বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করছেন।
বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিও দেখার পর বিষয়টি যাচাই করে জাগো নিউজ।
ফিফার অফিসিয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও ম্যাচ-সংক্রান্ত বিভিন্ন ভিডিও পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, স্টেডিয়ামের গ্যালারির একদম উপরের অংশে সারিবদ্ধভাবে বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করা হয়েছে। সেই সারিতেই স্পষ্টভাবে দেখা যায় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা।
Advertisement
স্টেডিয়ামের স্থাপত্যবিষয়ক পরিভাষায় গ্যালারির ওপরের এই অংশকে সাধারণত ‘ফ্যাসিয়া’ বা ‘ফ্যাসিয়া ব্যান্ড’ বলা হয়। এটি মূলত দর্শক গ্যালারির উপরের রিং বা বাহ্যিক অংশ, যেখানে স্টেডিয়ামের সৌন্দর্যবর্ধন, বিজ্ঞাপন কিংবা বড় আন্তর্জাতিক আয়োজন উপলক্ষে অংশগ্রহণকারী বা প্রতিনিধিত্বকারী দেশগুলোর পতাকা প্রদর্শন করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে একে ‘প্যারাপেট’ বা ‘অ্যাটিকা’ বলেও উল্লেখ করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পতাকাটি এই ফ্যাসিয়া অংশেই শোভা পাচ্ছিল।
মেক্সিকো সিটির এই ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামটি বিশ্বের একমাত্র ভেন্যু, যেখানে ১৯৭০, ১৯৮৬ এবং ২০২৬- তিনটি ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজনের গৌরব রয়েছে। প্রায় ৮৩ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই মাঠে অনুষ্ঠিত হয় ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও প্রথম ম্যাচ।
পুরান ঢাকার ফুটবল সমর্থক সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পতাকা দেখতে পাওয়া আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। আমরা হয়তো এখনো বিশ্বকাপে খেলতে পারিনি, কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল মঞ্চে আমাদের দেশের উপস্থিতি অনুভব করতে পেরে ভালো লাগছে।
আরেক ফুটবলপ্রেমী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান বলেন, লাল-সবুজের পতাকা যখন বিশ্বকাপের গ্যালারিতে দেখা যায়, তখন মনে আশা জাগে-একদিন হয়তো বাংলাদেশও এই মঞ্চে খেলবে। সেই স্বপ্ন নিয়েই আমরা এগিয়ে যেতে চাই।
Advertisement
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফুটবলপ্রেমীদের দেওয়া বক্তব্যে ফুটে উঠে, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আয়োজনে বাংলাদেশের পতাকার উপস্থিতি শুধু আবেগের নয়, দেশের ফুটবল সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ স্বপ্নেরও প্রতীক। তাদের বিশ্বাস, অবকাঠামো উন্নয়ন, তৃণমূল পর্যায়ে বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে একদিন বাংলাদেশের ফুটবলাররাও বিশ্বকাপের সবুজ ঘাসে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই পতাকার ছবি ও ভিডিও ঘিরে চলছে ব্যাপক আলোচনা। অনেকেই এটিকে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য গর্বের মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন এবং ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এ একদিন বাংলাদেশের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন।
এমডিএএ/এনএইচআর