কাশ্মীর অঞ্চলে ইরানের জনগণের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশে বিরল এক দানের ঢল নেমেছে। অনেকে নিজেদের সঞ্চিত অর্থ, সোনা এমনকি শিশুদের সঞ্চয়ের পিগি ব্যাংক ভেঙেও সহায়তা দিচ্ছেন ইরানের জন্য।
Advertisement
অনেক পরিবার উৎসব সীমিত রেখে নগদ অর্থ, গৃহস্থালি সামগ্রী ও ব্যক্তিগত সম্পদ দান করেছে। কেউ দিয়েছেন সোনার দুল, কেউ দিয়েছেন বাসনপত্র, আবার কেউ দিয়েছেন গবাদিপশু, সাইকেল বা জীবিকার উপকরণ।
স্থানীয়দের মতে, এই দান শুধু আর্থিক নয়—এটি আবেগ ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রতিফলন। শতাব্দীপ্রাচীন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সম্পর্কের কারণে কাশ্মীরকে কখনো কখনো লিটল ইরান বলেও উল্লেখ করা হয়।
১৪শ শতকে পারস্যের সুফি সাধক মির সাইদ আলী হামদানি কাশ্মীরে এসে ধর্মীয় চর্চা, শিল্প ও ফার্সি সাহিত্যিক ঐতিহ্য ছড়িয়ে দেন। সেই প্রভাব আজও স্থানীয় সংস্কৃতিতে দৃশ্যমান।
Advertisement
যদিও কাশ্মীরের জনসংখ্যার ১০–১৫ শতাংশ শিয়া মুসলিম, তবুও এই দানে সুন্নি সম্প্রদায়ের মানুষও অংশ নিচ্ছেন। অনেক দোকানদার আয়ের অংশ দিয়েছেন, পরিবারগুলো দৈনন্দিন খরচ কমিয়ে সহায়তা করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দানের পরিমাণ প্রায় ৬০০ কোটি রুপি (প্রায় ৬৪ মিলিয়ন ডলার) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এতে রয়েছে নগদ অর্থ, স্বর্ণ, গয়না, গৃহস্থালি সামগ্রী ও যানবাহন।
নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস কাশ্মীরের মানুষের এই সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। তবে পরবর্তীতে কিছু পোস্ট সরিয়ে নেওয়া হলেও পরে আবার ধন্যবাদ জানানো হয়।
তবে ভারতের কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, কিছু অননুমোদিত চাঁদা সংগ্রহের ক্ষেত্রে অর্থ অপব্যবহারের ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রেকর্ড সংরক্ষণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
Advertisement
সূত্র: আল-জাজিরা
এমএসএম