অনেকেই বলছেন, টম ল্যাথামের নেতৃত্বে যে দলটি বাংলাদেশে এসেছে, ঘরের মাঠে সেই দলটিকে সহজেই হারানো উচিত বাংলাদেশের।
Advertisement
কারণ, এই দলের ২/৩ জন ক্রিকেটার ছাড়া সে অর্থে তারকা ক্রিকেটারদের অধিকাংশই বর্তমান কিউই ওয়ানডে দলে নেই। সর্বশেষ নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে স্কোয়াডে যারা ১৫ জনের মধ্যে ছিলেন, এই দলের কেউই সেখানে ছিলেন না।
ওদিকে ইতিহাস জানাচ্ছে, নিউজিল্যান্ডকে দেশের মাটিতে পরপর দুইবার ‘বাংলাওয়াশ’-করার কৃতিত্ব আছে টিম বাংলাদেশের। এবং সেটা হেলা-ফেলার মতো নামসর্বস্ব জাতীয় দল নয়; পুরোদস্তুর কিউই ওয়ানডে স্কোয়াডের বিপক্ষে তিন বছরের ব্যবধানে সব ম্যাচ জয়ের রেকর্ড আছে বাংলাদেশের।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে টাইগারদের ট্র্যাক রেকর্ড বরাবরই ভালো। ওয়ানডেতে কোনো বড় দলের বিপক্ষে ঘরের মাঠে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের ৪টিতে জয়ের প্রথম কৃতিত্বটি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই। সেটা ২০১০ সালের অক্টোবরের কথা। সেবার ড্যানিয়েল ভেট্টোরির নেতৃত্বে ৫ ম্যাচের সিরিজ খেলতে আসা কিউইদের ৪-০ ব্যবধানে হারিয়ে ‘বাংলাওয়াশ’ করেছিল সাকিব আল হাসানের বাংলাদেশ। একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়ে যায়।
Advertisement
সেটাই শেষ নয়। এর তিন বছর পর, ২০১৩ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে দেশের মাটিতে আরও একবার কিউইদের এক সিরিজের সব ম্যাচে হারিয়ে আবার হোয়াইটওয়াশ করে টাইগাররা। মুশফিকুর রহিমের অধিনায়কত্বে ৩ ম্যাচ সিরিজের সব কটিতেই জয়ী হয় বাংলাদেশ।
তারপর ২০২৩ সালে আবার বাংলাদেশে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে আসে নিউজিল্যান্ড। এরপর ২০২৩ সালে প্রথমে বাংলাদেশে ও পরে নিজেদের মাটিতে ২-১ এ সিরিজ জিতে নেয় নিউজিল্যান্ড।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে শেরে বাংলায় প্রথম ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হলেও পরের ২ ম্যাচ যথাক্রমে ৮৬ রান ও ৭ উইকেটে জেতে নিউজিল্যান্ড।
সেই শেষ। এরপর বাংলাদেশে আর ওয়ানডে খেলতে আসেনি কিউইরা। এবার এসেছে- তাও নামমাত্র জাতীয় দল নিয়ে। যে দলটি বাংলাদেশে এসেছে, সেই দলে ইশ সোধি আর টম ল্যাথামের মতো নামী তারকা থাকলেও এ মুহূর্তে নিউজিল্যান্ডের ওয়ানডে স্কোয়াডের প্রথম ১৫ জনের কেউ নেই এই দলটিতে।
Advertisement
ওই ১৫ জনের প্রায় ৭/৮ জন খেলছেন ভারতের মাটিতে আইপিএলে। বাকি ৬/৭ জন খেলছেন পাকিস্তানের পিএসএলে। কাজেই বাংলাদেশে খেলতে আসা দলটি কিউইদের সেরা দল নয়।
এই দলের অধিনায়ক টম ল্যাথাম অবশ্য আগেও বাংলাদেশে খেলেছেন। এর বাইরে আরও জনা তিনেক ক্রিকেটারের কিউই ‘এ’ দলের হয়ে বাংলাদেশ সফরের অভিজ্ঞতা আছে। সব মিলিয়ে কিউই দলটির বিপক্ষে মেহেদী হাসান মিরাজের বাংলাদেশ দলটি তুলনামূলক বেশি অভিজ্ঞ।
এই দলের বিপক্ষে জেতাটা মোটেই কঠিন হওয়ার কথা নয়। টাইগারদের জেতার সম্ভাবনাই বেশি। যদিও বাংলাদেশের হেড কোচ ফিল সিমন্স মোটেই মানতে চান না যে নিউজিল্যান্ডের এই দলটি দুর্বল। কিউইদের মোটেই হালকাভাবে না নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
তবে একটা বিষয় আছে। তা হলো, ধারণা করা হচ্ছে- গত মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনামূলক হার্ড উইকেটে খেলা বাংলাদেশ এবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও একই কন্ডিশন ও একই ফরমেশন-কম্বিনেশনে খেলার প্রস্তুতি নিয়েছে। এখন দেখার বিষয় হলো, তুলনামূলক বাড়তি গতি ও উচ্চতার স্পোর্টিং পিচে মিরাজের দল কেমন খেলে?
পাকিস্তানের সঙ্গে যে টিম পারফরম্যান্স ছিল, তার চেয়ে ভালো কিছু হলে তো কথাই নেই। সেই পারফরম্যান্সটাও দেখাতে পারলেও টাইগারদের সিরিজ জেতার সম্ভাবনাই বেশি বলে ভাবছেন স্থানীয় এক্সপার্টরা।
দেখা যাক, আইপিএল ও পিএসএলে ব্যস্ত থাকা ১২/১৪ ক্রিকেটার ছাড়া টম ল্যাথামের নেতৃত্বে তারুণ্যনির্ভর কিউই দলটি শেরে বাংলার উইকেটে মিরাজ বাহিনীর সঙ্গে কতটা কুলিয়ে উঠতে পারে- সেটাই এখন দেখার।
এআরবি/আইএইচএস