আর মাত্র কয়েকদিন বাকি; তারপরেই পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচন। এবারের নির্বাচন হবে দুই ধাপে। প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ১৫২টি আসনে এবং ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ।
Advertisement
কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের (এসআইআর) মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯১ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এই বিপুল সংখ্যক ভোটার বাদ পড়লে তা এবারের বিধানসভা নির্বাচনে অত্যন্ত বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে ক্ষমতাসীন বা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ভোটের অংকে বড় ধরনের রদবদল ঘটতে পারে।
জানা গেছে, বাদ পড়া ভোটারদের একটি বড় অংশ গ্রামীণ এলাকার মানুষ এবং তারা বিভিন্ন সরকারি ভাতার ওপর নির্ভরশীল। হয়তো তারাও কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থক। আবার দেখা যাচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটাররা বাদ পড়লেও বাদপড়া ভোটারদের মধ্যে অধিকাংশই মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোটার, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাটের বাসিন্দা গিয়াসউদ্দিন শেখ। তার পরিবারের সবার নাম বাদ পড়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে গিয়াসউদ্দিন শেখ বলেন, আমার পরিবারের ২০ জনের নাম বাদ গেছে। আমার নিজের নামও কেটে গেছে। আমি কিছুই জানতে পারিনি। আমরা চাইছি আগে সংশোধন হোক তারপর ভোট। না হলে ভোট বয়কট হোক। সব গ্রামেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। আমাদের এখানে দশ হাজার ভোটার হলে সেখানে প্রায় সাত হাজার ভোটারের নাম কাটা গেছে।
Advertisement
গিয়াসউদ্দিন শেখ আরও বলেন, ভয়ে-আতঙ্কে অনেকেই খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা সবাই দিন আনি দিন খাই। কাজ বন্ধ করে নথিপত্র নিয়ে দৌড়াতে হচ্ছে। আমাদের বুথে ১ হাজার ৪০০ ভোটারের মধ্যে ৫০০ জনের নাম বাদ গেছে। আমাদের দাবি, কাগজপত্র ঠিক করে তারপর যেন ভোট হয়।
বসিরহাটের বেগমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের শাওনারা বিবি বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী দুজন থাকেন। তাদের দুজনের নাম এসআইআর-এর তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। বিভিন্ন নথিপত্র নিয়ে তারা কর্মকর্তাদের কাছে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। শাওনারা বিবি বলেন, আমার স্বামী এবং আমার নাম কাটা গেছে। আমরা সব নথিপত্র জমা দিলেও, আবার ফেরত আসছে। কি কারণে সব কাগজপত্র ফেরত আসছে কিছু বলতে পারবো না। আমরা চাইছি আমাদের সব কিছু ঠিক করে দিতে হবে তারপরেই এখানে যেন ভোট হয়।
বেগমপুর পঞ্চায়েতের সদস্য এনতেয়ার শেখ বলেন, আমাদের বুথে ১ হাজার ৪০০ ভোটার। এর মধ্যে ৪৮৯ জন ভোটারের নাম বাদ দিয়েছে। আমরা চাই, সব নথি ঠিক করে দিয়ে তারপর আমরা এখানে ভোট করতে দেব। নাহলে ভোট করতে দেব না। এখানকার গ্রামের মানুষ অত্যন্ত গরিব। এই ঘটনার পর থেকেই তারা আশঙ্কায় ভুগছে। অনেকেই অসুস্থ হয়ে চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন। যারা ব্যবসা করেন তারাও ব্যবসা করতে যেতে পারছেন না। এসব চিন্তা এবং আশঙ্কায় বাড়িতেই বসে আছেন অনেকেই।
তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে তারা সব কাগজপত্র নিয়ে আসছে কিন্তু আমরা সঠিকভাবে কিছুই বলতে পারছি না যে কি কাগজপত্র জমা দেবো। আমাদের কাগজপত্র ভালোভাবে দেখা হয়নি। সেগুলো ভালোভাবে দেখা হোক।
Advertisement
এনতেয়ার শেখ অভিযোগ করে বলেন, ভিডিও অফিসে হেয়ারিংয়ে গিয়েছিলাম; সেখানে যেভাবে কাগজগুলো নেওয়া হয়েছে সেগুলো সঠিক পদ্ধতিতে নেওয়া হয়নি। ভিডিও অফিসে কাগজগুলো টেবিলে ছুড়ে ফেলে রাখা হয়েছে। এভাবে কাজ কোন জায়গায় আমরা দেখিনি। আমাদের কাগজপত্রগুলো সেভাবে চেকিং করা হয়নি। পরীক্ষা করা হলে আমাদের যা কাগজপত্র তাতে আমাদের নাম বাদ যাওয়ার কথা নয়। আমার দাদু ,পর দাদু সবার জন্ম এখানে। আমি পঞ্চায়েতের সদস্য আমার নামও বাদ গেছে।
ডিডি/টিটিএন