হঠাৎ করেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে মির্জা গালিবের শায়েরি বা উক্তি। এটা যেন রীতিমত ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। কনটেন্ট ক্রিয়েটররা দু’তিন লাইনের উক্তি দিয়ে পোস্ট করছেন কিংবা ভিডিও বানাচ্ছেন। এসবই রীতিমত ভাইরাল হচ্ছে।
Advertisement
এখন প্রশ্ন জাগতে পারে, কে এই মির্জা গালিব? তাঁর নাম মির্জা বেগ আসাদুল্লাহ খান কিন্তু তিনি ‘মির্জা গালিব’ নামে বেশি পরিচিত। ১৭৯৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর তিনি মোগল সাম্রাজ্যের অধীন আগ্রায় জন্মগ্রহণ করেন।
গালিব ভারতবর্ষে মোগল সাম্রাজ্যের শেষ ও ব্রিটিশ শাসনের শুরুর দিকের একজন উর্দু এবং ফার্সি ভাষার কবি। সাহিত্যে তাঁর অনন্য অবদানের জন্য ‘দাবির-উল-মালিক’ ও ‘নাজিম-উদ-দৌলা’ উপাধি দেওয়া হয়। তাঁকে মোগল সাম্রাজ্যের সর্বশেষ কবি এবং দক্ষিণ এশিয়ায় উর্দু ভাষার সবচেয়ে প্রভাবশালী কবি মনে করা হয়।
তাঁর খ্যাতি আসে মূলত মৃত্যুর পর। তিনি নিজের সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন যে, তিনি বেঁচে থাকতে তাঁর গুণকে কেউ স্বীকৃতি না দিলেও পরবর্তী প্রজন্ম তাঁকে স্বীকৃতি দেবে।
Advertisement
তাঁর কবিতায় জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এ রকম যে, জীবন নিজেই একটি ধারাবাহিক বেদনাদায়ক সংগ্রাম। যা শুধু জীবনের সমাপ্তিতেই শেষ হতে পারে। এমন ধারণা তাঁর সাহিত্যকর্মে বারবার ফিরে এসেছে।
আরও পড়ুনসৈয়দ মুজতবা আলীকে লেখা তারেক অণুর চিঠিতাঁর কিছু উক্তি তুলে ধরা হলো:১.জীবনের কারাগার আর দুঃখের শৃঙ্খল এক ও অভিন্ন,মৃত্যুর আগে মানুষ কেন দুঃখ থেকে মুক্তি পাবে?
২.হাজার মাইল দূর থেকেও কলমের ভাষায় কথা বলো,বিচ্ছেদের মাঝেও মিলনের আনন্দ উপভোগ করো।
৩.যে প্রাণ দিলাম তোমায় সে তো তোমারই দেওয়াআসল কথা এই—তোমাকে কিছুই দেওয়া হলো না।
Advertisement
৪.জীবন তো এমনি কেটে যেতকেন যে তোমার পথের কথা মনে পড়লো।
৫.দুঃখ আমার দরজায় কড়া নাড়ে না, সে তো ঘরের মানুষ।
৬.কিছু ব্যথা কাউকে বলা যায় না, শুধু বুকের ভেতর বহন করতে হয়।
আরও পড়ুনকে এই ভাইরাল ‘কবিতাওয়ালা’ আজিবর৭.যখন আমি তোমার পাশে কাউকে দেখেছি,তখন বুঝেছি, খোদা কেন শিরক পছন্দ করেন না।
১৮৬৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি কবি মির্জা গালিব মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে দিল্লির নিজামউদ্দিন আউলিয়ার মাজারের কাছে পারিবারিক গোরস্তানে দাফন করা হয়।
এসইউ