গরম ভাতের সঙ্গে একটু লবণ খাওয়া অনেকের কাছে স্বাভাবিক অভ্যাস। কারও কারও তো পাতে একটু এক্সট্রা লবণ ছাড়া খাবারই জমে না। কিন্তু এই ছোট অভ্যাসটাই ধীরে ধীরে শরীরের জন্য বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
Advertisement
সত্যি বলতে, আমাদের দৈনন্দিন খাবারেই প্রয়োজনের তুলনায় অনেক লবণ থাকে। তার ওপর আলাদা করে ভাতের সঙ্গে লবণ খাওয়ার অভ্যাস শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে নানা সমস্যার কারণ হতে পারে। জেনে নিন এর ক্ষতিকর দিকগুলো -
১. উচ্চরক্তচাপঅতিরিক্ত লবণ খাওয়ার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে রক্তচাপের ওপর। সোডিয়াম শরীরে পানি ধরে রাখে, ফলে রক্তের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং রক্তচাপ বাড়ে। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে উচ্চ রক্তচাপ স্থায়ী রূপ নিতে পারে, যা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
২. কিডনির ওপর চাপলবণ বেশি খেলে কিডনির ওপর চাপ পড়ে। কিডনি শরীর থেকে অতিরিক্ত সোডিয়াম বের করার চেষ্টা করে, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বেশি লবণ খেলে এর কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। এতে কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
Advertisement
৩. শরীরে পানি জমে যাওয়াঅতিরিক্ত লবণ শরীরে পানি জমে যাওয়ার সমস্যাও তৈরি করতে পারে। ফলে হাত-পা ফুলে যাওয়া, মুখ ফোলা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। গরমের সময় এই সমস্যা আরও বেশি অনুভূত হতে পারে।
৪. হাড়ের স্বাস্থ্যঅনেক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত লবণ হাড়ের ক্ষয় বা ক্যালসিয়াম কমে যাওয়ার সঙ্গেও সম্পর্কিত। এতে দীর্ঘমেয়াদে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
৫. পেটের সমস্যাএছাড়া বেশি লবণ খাওয়ার অভ্যাস পেটের সমস্যাও বাড়াতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি গ্যাস্ট্রিকের অস্বস্তি বা পাকস্থলীর জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে ৫ গ্রামের বেশি লবণ খাওয়া উচিত নয়। কিন্তু বাস্তবে অনেকেই এর চেয়ে বেশি লবণ খেয়ে ফেলেন, বিশেষ করে পাতে আলাদা করে লবণ যোগ করার কারণে।
Advertisement
এই অভ্যাস বদলাতে চাইলে ধীরে ধীরে লবণের পরিমাণ কমাতে হবে। খাবারে প্রাকৃতিক স্বাদ বাড়াতে লেবু, ধনিয়া বা অন্যান্য মশলা ব্যবহার করা যেতে পারে।
সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং, মায়ো ক্লিনিক
এএমপি/এএসএম