জাতীয়

হাসিনার আমলে কটূক্তির জন্য গ্রেফতার করা হতো, এখনো এমনটা ঘটবে ভাবিনি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্টুন শেয়ারের দায়ে গ্রেফতারের বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

Advertisement

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার আমলেও কার্টুন শেয়ার বা কটূক্তির জন্য গ্রেফকার করা হতো। আমরা কল্পনাও করতে পারিনি এই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়েও এমনটা ঘটবে।

মিম শেয়ার করার কারণে সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২৫ ধারায় মামলা প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, ২৫ ধারা মূলত যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োগের কথা, কিন্তু একটি মিম শেয়ার করার মধ্যে যৌন নির্যাতন কোথায়? বিরোধী মত দমনের জন্য এই আইন ব্যবহার করা হচ্ছে এবং জামিনও দেওয়া হচ্ছে না।

রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

Advertisement

জাতীয় সংসদের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর পর্ব মৌখিকভাবে না নিয়ে কেবল টেবিলে উপস্থাপিত করার সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এর ফলে সংসদ সদস্যরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং মন্ত্রীদের জবাবদিহি এড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, মাননীয় স্পিকার, ফাংশনাল পার্লামেন্টের জন্য মন্ত্রীদের সরাসরি প্রশ্ন করা এবং তাদের কাছ থেকে উত্তর পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু গত দুই সপ্তাহ ধরে দেখছি তারকা চিহ্নিত প্রশ্নগুলো শুধু টেবিলে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রণালয় থেকে যে উত্তর লিখে দেওয়া হয়, মন্ত্রীরা শুধু সেটাই আমাদের দিচ্ছেন। এতে আমাদের সম্পূরক প্রশ্ন করার সুযোগ থাকছে না। সংসদ কি তাহলে কেবল একটি স্ক্রিপ্টেড মনোলগ সেশনে পরিণত হবে?

আরও পড়ুনতেলের সংকট না থাকলে পাম্পে তিন কিলোমিটার লাইন কেন বাস ভাড়া কিলোমিটারে ১৫ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব যাত্রী কল্যাণ সমিতির 

এনসিপির এ সংসদ সদস্য আরও বলেন, আমাদের কথা বলার জায়গা খুবই সীমিত। মাত্র এক-দেড় মিনিট সময় পাই। সে সময়ে আমরা জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মন্ত্রীদের প্রশ্ন করি। কিন্তু এই প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় আমরা অধিকার বঞ্চিত হচ্ছি।

Advertisement

কার্টুন শেয়ারের দায়ে হাসান ইনাম নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতারের প্রসঙ্গ তুলে হাসনাত বলেন, শেখ হাসিনার আমলেও কার্টুন শেয়ার বা কটূক্তির জন্য গ্রেফতার করা হতো। আমরা কল্পনাও করতে পারিনি এই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়েও এমনটা ঘটবে। চিফ হুইপ আমাদের ইনভাইট করেছিলেন এবং একটি রূপক বা স্যাটায়ার (তিমি ও হাঙর) ব্যবহার করেছিলেন। সেটার মিম শেয়ার করার কারণে সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২৫ ধারায় মামলা হয়েছে।

এরপর হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, তার বা সরকারের সমালোচনা করে কার্টুন আঁকার কারণে যদি কাউকে গ্রেফতার করা হয়, তবে তাকে মুক্তি দেওয়া উচিত।  

প্রশ্নোত্তর পর্ব নিয়ে অভিযোগের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, বিরোধীদলীয় সদস্যের কথা আংশিক সঠিক। প্রশ্নোত্তর পর্ব সব সদস্যের অধিকার। তবে বিরোধীদলীয় নেতা প্রস্তাব করেছেন যেন রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ৫০ ঘণ্টা আলোচনা হয়। কিন্তু এ পর্যন্ত মাত্র ১২ ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে। ৩০ তারিখের মধ্যে সংসদ শেষ করতে হলে এবং এই দীর্ঘ আলোচনা শেষ করতে হলে আমাদের হাতে সময় কম। সে কারণেই প্রশ্নোত্তর পর্ব টেবিলে দেওয়া হচ্ছে। সংসদ সদস্যরা যদি রাত ১০টা পর্যন্ত সংসদ চালাতে একমত হন, তবে আমরা টেবিল করতে চাই না, আমরা জবাবদিহিতে বিশ্বাসী।

হাসান ইনামের গ্রেফতার প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, আমি জানতাম এই বিষয়টি উঠতে পারে, তাই আমি ফাইল নিয়ে এসেছি। আমার এবং আমার দলের নেতাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য কুৎসা, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণার কারণে আমি ব্যক্তিগতভাবে নয়, বরং দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন থানায় জিডি করিয়েছি। আমি নির্বাচন কমিশনেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম যেন ফেক আইডি থেকে অপপ্রচার বন্ধ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, গতকাল পত্রিকায় দেখেছি এক ভদ্রলোককে কার্টুন আঁকার কারণে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমি এই সংসদে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, আমার কার্টুন আঁকার কারণে যদি কেউ গ্রেফতার হয়ে থাকে, তবে তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য আমি আপনার মাধ্যমে অনুরোধ জানাচ্ছি। আমি নিজেও আজ ফেসবুকে এ নিয়ে পোস্ট দিয়েছি। 

গ্রেফতার ব্যক্তির অন্যান্য কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে চিফ হুইপ বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তি কেবল কার্টুন নয়, অন্য কোনো সাইবার অপরাধ বা মানি লন্ডারিংয়ের মতো বিষয়ের সঙ্গে জড়িত কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার। যদি তিনি কেবল রাজনৈতিক স্যাটায়ার বা কার্টুন এঁকে থাকেন, তবে আমার কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু যদি অন্য কোনো অপরাধের প্রমাণ থাকে, তবে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

এমওএস/কেএসআর