জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম, কারচুপি বা দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আদালতে মামলা করেন পরাজিত প্রার্থীরা। তবে সেই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি পেতে অনেক সময় শেষ হয়ে যায় পুরো সংসদের পাঁচ বছরের মেয়াদই। ফলে নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করেও কার্যকর প্রতিকার মিলছে না। এমন বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে।
Advertisement
২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর কাছে হেরে যান আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সুধাংশু শেখর হালদার। ভোটের ব্যবধান ছিল ৩৩ হাজার ৩৭৭। ওই নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন সুধাংশু শেখর।
আবেদনে সুধাংশু শেখর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সাঈদীর নির্বাচনি ব্যয় মেটানোর সম্ভাব্য তহবিলের উৎস সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য ও বেআইনি উপায়ে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ করেন। সাঈদীর সংসদ সদস্য পদ বাতিল করে নিজেকে নির্বাচিত ঘোষণার দাবি জানান সুধাংশু শেখর।
আরও পড়ুননির্বাচনি অনিয়মের শুনানির জন্য হাইকোর্টে ট্রাইব্যুনাল গঠননির্বাচন বাতিল ও পুনরায় ভোট চেয়ে বিএনপির ৭ প্রার্থীর মামলাভোটে বিজয়ী হলেও তাদের ‘ভাগ্য নির্ধারণ’ হবে আদালতেফলাফল বাতিল ও ফের নির্বাচন চেয়ে হাইকোর্টে বিএনপি প্রার্থীর আবেদন
Advertisement
জবাবে সাঈদী উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার যুক্তি, নির্বাচন যথাযথ ও আইনানুগভাবে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুর্নীতি বা অবৈধ কার্যকলাপের অভিযোগও সুনির্দিষ্ট ও পরিপূর্ণ নয়। সুধাংশু শেখর হালদার বনাম প্রধান নির্বাচন কমিশনার শীর্ষক মামলাটি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রায় সংবলিত মাসিক সাময়িকী ঢাকা ল’ রিপোর্টর্স ৫৫ ডিএলআরে স্থান পেয়েছে।
শুনানি শেষে ২০০৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি মো. ইমান আলীর নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল সাঈদীর সংসদ সদস্য পদ বাতিল করেন। এরপর সাঈদী আপিল বিভাগে আবেদন করেন। পরে আপিল বিভাগ ট্রাইব্যুনালের আদেশ স্থগিত করেন এবং সাঈদীর পদ বহাল থাকে। মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সাঈদী সংসদ সদস্য হিসেবে মেয়াদ শেষ করেন।
অনিয়ম, দুর্নীতি ও কারচুপিসহ বিভিন্ন অভিযোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের ফল এভাবে আদালতে চ্যালেঞ্জ হয় ঠিকই, কিন্তু প্রতিকার পেতে পাড়ি দিতে হয় দীর্ঘ পথ ও সময়। সংসদ সদস্য, যিনি নির্বাচনি মামলার বিবাদী; সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন, আইন প্রণয়নে অংশ নেন, স্থানীয় বিভিন্ন কার্যক্রমে জড়িয়ে যান। নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী ও মামলার বাদী তখন থাকেন আদালতে। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ; আদালতের বারান্দায় ঘুরতে ঘুরতে কেটে যায় বছরের পর বছর।
জাতীয় সংসদ ভবন, ফাইল ছবি
Advertisement
আরও একটি দৃষ্টান্ত উল্লেখ করা যায়। যেমন, নবম সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৬ আসনে আওয়ামী লীগের আজিজুল হক চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন জামায়াতের প্রার্থী মো. আনোয়ারুল ইসলাম। ভোটের ব্যবধান ৮৫৮। অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে নির্বাচনের পর ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন আনোয়ারুল। মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় দশম সংসদের তফসিল ঘোষণা হয়। ফলে মামলাটি অকার্যকর হয়ে কার্যতালিকা থেকে বাদ পড়ে বলে জানান আবেদনকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আদালতে ভোট চ্যালেঞ্জ করে ফলাফল পরিবর্তনের নজির বাংলাদেশে বিরল। এ ধরনের মামলার চূড়ান্ত ফলাফল পেতে পাঁচ বছর মেয়াদি সংসদের মেয়াদই শেষ হয়ে যায় অনেক সময়। তবে, ফলাফল বাদীর পক্ষে গেলে তিনিই হবেন সংসদ সদস্য এবং পদহারা সংসদ সদস্যের কাজগুলো অবৈধ হবে না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট বিভিন্ন আসনে কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তোলে। তারা আইনগতভাবে এর মোকাবিলার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি বিএনপির কিছু প্রার্থীসহ কয়েকজন স্বতন্ত্র ও অন্যান্য প্রার্থীও অনুরূপ অভিযোগ করেন।
আরও পড়ুননারায়ণগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগে মামলাজামায়াতের রফিকুল ইসলাম খানের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করলেন বিএনপি প্রার্থীজামায়াতের আরও ৪, বিএনপির ১ প্রার্থীর হাইকোর্টে আবেদনআসলাম-সারোয়ারের সংসদে যোগদান ঝুলে আছে আদালতে
এরই মধ্যে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ এর ৪৯ ধারার বিধান মতে প্রধান বিচারপতি নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল গঠন করেন। নির্বাচনি বিরোধ মেটাতে যাত্রা শুরু করেছে হাইকোর্টের বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক ট্রাইব্যুনাল। একে একে প্রার্থীরা আদালতে আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনালে অন্তত ৫১টি আবেদন জমা পড়েছে বলে আদালত সূত্র জানিয়েছে।
ঢাকা-১০ আসনে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী জসিম উদ্দিন সরকার। তার আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। তিনি জাগো নিউজের কাছে অভিযোগ করেন, তার আসনের নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, কারচুপি ও ত্রুটি হয়েছে। ব্যালট পেপার কাউন্টিংয়ে অনিয়ম ছিল, এজেন্টকে বের করে দেওয়া হয়েছে, অনেক জায়গায় রেজাল্টশিট তৈরি হয়েছে, কিন্তু কোনো স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি। এসব অভিযোগে তিনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, ফাইল ছবি
নির্বাচনি মামলার ফয়সালা আদালতেপরাজিত প্রার্থী নির্বাচনে বিভিন্ন অভিযোগের প্রতিকারের জন্য আবেদন করেন, নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে এর শুনানি হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে আদালত সন্তুষ্ট হয়ে আবেদন গ্রহণ করেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আসনের ব্যালট পেপার সংরক্ষণের নির্দেশ দেন এবং বিবাদী হিসেবে সংসদ সংদস্যকেও নোটিশ দেন। এছাড়া শুনানির দিন ঠিক করেন আদালত। পরবর্তীসময়ে নির্বাচন কমিশনসহ অন্য বিবাদীরা আদালতে শুনানিতে অংশ নেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত রায় দেন। রায়ে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা পক্ষ আপিল বিভাগে যায়। আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল ও আপিল নিষ্পত্তির পরে রিভিউ আবেদন পেরিয়ে মামলার চূড়ান্ত ফলাফল আসে।
আরপিওর ৪৯ ধারার বিধান অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট জারির পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচনি অনিয়মের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে আবেদনের সুযোগ রয়েছে।
পাবনা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. হাসান জাফির তুহিন নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন। তিনি ৩ হাজার ২৬৯ ভোটে জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ আলী আছগারের কাছে পরাজিত হন।
তুহিনের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, ছয় হাজারের বেশি ব্যালট বাতিল হয়েছে। এসব ব্যালট গ্রহণ করা হলে তুহিন বিজয়ী হবেন, কারণ ভোটের ব্যবধান বেশি নয়।
নির্বাচনি মামলাগুলো সম্পর্কে আগের অভিজ্ঞতা খুব একটা ভালো নয়। মামলার প্রক্রিয়ার কারণে দীর্ঘসূত্রতা বা বিলম্বিত হয়। মামলার একপর্যায়ে প্রার্থীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। প্রয়োজনীয় সাক্ষী খুঁজে পাওয়া যায় না। দেখা যায় নির্বাচন থেকে পরবর্তী পর্যন্ত শুধু মামলার নিষ্পত্তিতে লেগে যায়। -অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল
ঘটনা ও বিষয়বস্তুর গুরুত্বের কারণে আইনে এ ধরনের মামলায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারের বিধান রাখা হয়েছে। আরপিওর ৫৭ (৫) ধারায় বলা হয়েছে, হাইকোর্ট বিভাগ কোনো কারণেই কোনো নির্বাচনি দরখাস্তের বিচার মুলতবি রাখবে না; যদি না, তার মতে, বিচারের স্বার্থে অনুরূপ মুলতবি প্রয়োজনীয় বিবেচিত হয়। ৫৭ (৬) ধারা মতে, সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচনি দরখাস্তের শুনানি করতে হবে, দরখাস্ত দাখিলের ছয় মাসের মধ্যে হাইকোর্ট সেটি নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করবে।
রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জাগো নিউজকে বলেন, নির্বাচনি মামলাগুলো সম্পর্কে আগের অভিজ্ঞতা খুব একটা ভালো নয়। মামলার প্রক্রিয়ার কারণে দীর্ঘসূত্রতা বা বিলম্বিত হয়। মামলার একপর্যায়ে প্রার্থীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। প্রয়োজনীয় সাক্ষী খুঁজে পাওয়া যায় না। দেখা যায় নির্বাচন থেকে পরবর্তী পর্যন্ত শুধু মামলার নিষ্পত্তিতে লেগে যায়।
রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা আরও বলেন, আগে নির্বাচন সংক্রান্ত মামলাগুলো তিনটি ধাপ অতিক্রম করতে হতো। এখন সেটি দুই ধাপে আনা হয়েছে। এখন হাইকোর্টে আবেদন দায়ের করতে হবে। এরপর সংক্ষুব্ধ হলে তিনি সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারবেন।
তিনি জানান, এই মামলাগুলো মূল তাগিদ থাকে বাদীর ওপর। বাদী এবং তার নিয়োগকৃত আইনজীবী কতটা সক্রিয় ভূমিকা রেখে দ্রুত সাক্ষ্য উপস্থাপন করছেন তার ওপর নির্ভর করে মামলার আদেশ ও রায়।
আরও পড়ুনভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আরও তিন প্রার্থীঢাকা-৫ আসনের ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে বিএনপির প্রার্থী নবীঢাকার দুটিসহ ৫টি আসনের ব্যালট পেপার সংরক্ষণের নির্দেশ হাইকোর্টেরভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করলেন সাঈদীর ছেলে শামীম সাঈদী
ব্যারিস্টার কাজল জানান, মামলার বিবাদী যিনি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তার চেষ্টা থাকবে মামলাটি বিলম্বিত করার। কারণ হাইকোর্টের রায়ের পরই কেউ সরাসরি পার্লামেন্টে গিয়ে বসবেন এমনটি আশা করার কোনো যুক্তি নেই। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল আবেদন দায়ের করা হবে, সেটিও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জাগো নিউজকে জানান, আইনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারের বিধান থাকলেও তা হয়ে ওঠে না। কোর্ট স্বল্পতা থাকে, বিচারের মাঝপথে বেঞ্চ ভেঙে যায়। সংশ্লিষ্ট বিচারকের বা আদালতের এখতিয়ার পরিবর্তন করে দেওয়া হয়। এছাড়া নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের বিচারকের কাছে অন্য ধরনের মামলাও বিচারের জন্য আসে। ফলে জট লেগে যায়, আদালত কাঙ্ক্ষিত সময়ের মধ্যে এ ধরনের মামলা নিষ্পত্তি করতে পারেন না।
নির্বাচন আইন বিশেষজ্ঞ, সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু জাগো নিউজকে বলেন, এ ধরনের মামলার দ্রুত বিচার ও নিষ্পত্তি করা উচিত। কিন্তু দেখা যায়, বিচার শেষ হতে হতে সংসদেরই মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তাহলে এ বিচার করে লাভ কী? এটি যেন একটি তামাশা হয়ে উঠেছে। তার মতে, এ ধরনের মামলার জন্য একাধিক বেঞ্চ থাকা দরকার।
নির্বাচনি বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কমপক্ষে পাঁচটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা উচিত। এসব বেঞ্চকে দীর্ঘদিনের জন্য এখতিয়ার দিতে হবে, বেঞ্চ যেন কিছুদিন পর ভেঙে না যায়, এসব বেঞ্চ শুধু নির্বাচনি মামলারই শুনানি করবে। কোর্টেরও আন্তরিকতা বাড়াতে হবে। -ব্যারিস্টার মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার বেলায়েতও মনে করেন, নির্বাচনি বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কমপক্ষে পাঁচটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা উচিত। এসব বেঞ্চকে দীর্ঘদিনের জন্য এখতিয়ার দিতে হবে, বেঞ্চ যেন কিছুদিন পর ভেঙে না যায়, এসব বেঞ্চ শুধু নির্বাচনি মামলারই শুনানি করবে। কোর্টেরও আন্তরিকতা বাড়াতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের অন্য একজন আইনজীবী বলেন, ‘আজ পর্যন্ত কোনো ইলেকশন পিটিশনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি পাঁচ বছরের মধ্যে হয়নি। কারণ, এটা সাধারণত হতে দেওয়া হয় না। তিনি বলেন, ‘সংসদ নির্বাচন নিয়ে আমি যত ইলেকশন পিটিশন দেখেছি, কখনো দেখিনি, পাঁচ বছরের আগে শেষ হয়েছে। পক্ষগুলো মামলা শুনানি ও নিষ্পত্তি করতে দেরি করে, বিশেষ করে সরকারি দল আগ্রহী হয় না। কোর্ট যদি স্পেশালি শুনানি করে এগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করার চিন্তা করে, সেটা করতে পারে; দেখা যাক নতুন বাংলাদেশে নতুনভাবে হয় কি না।’
নির্বাচন কমিশন ভবন, ফাইল ছবি
ফল পরিবর্তনের নজির বিরলনির্বাচন কমিশনের সূত্র মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিছু দৃষ্টান্ত থাকলেও সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে আদালতে ভোট চ্যালেঞ্জ করে ফলাফল পরিবর্তনের নজির বাংলাদেশে বিরল। তবে এবার এমনটি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বাংলাদেশের অনেক ভোটার বয়সে প্রবীণ হওয়ায় সঠিক জায়গায় সিল দিতে পারেন না। এছাড়া, অনেক নতুন ভোটারও ভুলভাবে সিল দেন। এবারের নির্বাচনে প্রায় ১৬ লাখের কাছাকাছি ভোট বাতিল হয়েছে, যা মোট ভোটের প্রায় ২ শতাংশ। কিছু আসনে দেখা যাচ্ছে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান বাতিল হওয়া ভোটের চেয়েও কম। তাই অনেক প্রার্থী মনে করেন পুনর্গণনা হলে ফলের পরিবর্তন হতে পারে।
যদি কোনো প্রার্থীর বাতিল হওয়া ভোট পুনর্গণনায় বাড়ে, তাহলে প্রতিপক্ষের ভোটও বাড়তে পারে। তাই এতে ফল পরিবর্তন নাও হতে পারে। তবে, আদালতের রায়ের মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তনের নজির বিদেশে রয়েছে। এক্ষেত্রে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নির্বাচনি মামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করা যায়। ওই মামলায় প্রথমে আদালত ইন্দিরা গান্ধীর সংসদ সদস্য পদ বাতিল করে। পরে তিনি আপিল করলে উচ্চ আদালতের রায়ে তা পুনর্বহাল হয়।
আরও পড়ুনমাদারীপুর-১ আসনের ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করলেন বিএনপির প্রার্থীববি হাজ্জাজের আসনের ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামুনুল হকঢাকা-৪ আসনের ফল চ্যালেঞ্জ শুনানির জন্য গ্রহণ, ব্যালট সংরক্ষণের নির্দেশভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে বিএনপি প্রার্থীর আবেদন হাইকোর্টে গ্রহণ
আগের এমপির কাজের আইনগত ফলযদি আদালত পরে ঘোষণা করেন যে, নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী বৈধ ছিলেন না, তখন প্রশ্ন ওঠে, তার সংসদীয় কার্যক্রম কি অবৈধ হবে? আইনজীবীরা জানান, এক্ষেত্রে আদালত ডি ফ্যাক্টো ডকট্রিন প্রয়োগ করে। যুক্তরাজ্য, ভারত ও কানাডাসহ বিশ্বের অনেক দেশেও আদালত নির্বাচন সংক্রান্ত বিরোধে এই নীতি প্রয়োগ করে। এই নীতির অর্থ, নির্বাচিত ব্যক্তি পরে অবৈধ প্রমাণিত হলেও তিনি দায়িত্ব পালন করার সময় কার্যত বৈধ কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হন। ফলে, সংসদে তার ভোট, আইন পাসে অংশগ্রহণ, সংসদীয় কমিটির সিদ্ধান্ত; এসব বাতিল হয় না।
আবদুল মান্নান বনাম বাংলাদেশ (৪১ ডিএলআর) মামলায় আদালত বলেন, রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য ডি ফ্যাক্টো নীতি প্রযোজ্য। অর্থাৎ ব্যক্তির পদ পরে অবৈধ প্রমাণিত হলেও তার পূর্ববর্তী কার্যক্রম বৈধ বলে গণ্য হবে।
খন্দকার দেলোয়ার হোসেন বনাম বাংলাদেশ (৪৪ ডিএলআর) মামলার রায়ে এসেছে, সংসদের কার্যক্রম কোনো সদস্যের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবৈধ হয়ে যায় না।
ফজলুল কাদের চৌধুরীর (২০ ডিএলআর) মামলার রায়ে বলা হয়, নির্বাচন বাতিল করতে হলে প্রমাণ করতে হবে যে, অনিয়ম ফলাফলের ওপর বাস্তব প্রভাব ফেলেছে।
আরও পড়ুনগাইবান্ধা-৫ আসনের ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে বিএনপির প্রার্থীঢাকা-১০ আসনের ব্যালট সংরক্ষণে হাইকোর্টের নির্দেশফলাফল চ্যালেঞ্জ করে আমিনুলের আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণপাবনা-৩ আসনের ব্যালট সংরক্ষণে হাইকোর্টের নির্দেশ
নির্বাচন আইন বিশেষজ্ঞ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফয়জুল্লাহ ফয়েজ জাগো নিউজকে বলেন, একজন ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর যতদিন পর্যন্ত সংসদ সদস্য পদে আছেন, ততদিন পর্যন্ত যে কার্যক্রম করেন, সেটা বৈধ এবং পাস্ট অ্যান্ড ক্লোজড; ওটা নিয়ে আর কোনো কথা হবে না। যখন নতুন কোনো আদেশের বলে ওই আসনে নতুন কাউকে সংসদ সদস্য ঘোষণা করা হবে, তখন সেই তারিখ থেকে নতুন সংসদ সদস্য পরবর্তী সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত সংসদ সদস্য থাকবেন। পরবর্তী সংসদ সদস্য নির্বাচন পর্যন্ত থাকবেন, তিনি রিপ্লেস হিসেবে থাকবেন। আগের সংসদ সদস্য যে কাজগুলো করেছেন সেটা ভ্যালিড থাকবে। এক্ষেত্রে আদালত কোনো রেট্রোসপেক্টিভ ইফেক্ট বা ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা দেয় না।
তাহলে এর প্রতিকার কী, এমন প্রশ্নে ফয়জুল্লাহ ফয়েজ বলেন, এতটুকুই প্রতিকার।
তাহলে ওই আসনে আল্টিমেটলি সংসদ সদস্য কে হলেন? কাজগুলো কে করেছেন বলে গণ্য হবে? এমন প্রশ্নে তিনি জানান, সর্বশেষ যিনি আদেশ পেলেন তিনিই সংসদ সদস্য। আগের সংসদ সদস্যের কাজগুলো সংসদ সদস্য হিসেবে নতুন যিনি হয়েছেন তিনি করেছেন, আগের সংসদ সদস্যের নাম গেজেট থেকেও কর্তন হয়ে যাবে, তার নাম গেজেটেও থাকবে না, গেজেটেও রিপ্লেস হয়ে যাবে; বর্তমানে যে গেজেটটা হলো, এই গেজেট একদম রিপ্লেস হয়ে যাবে।
সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী বলেন, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী আদালত নির্বাচনের ফল বাতিল করলে পূর্ববর্তী এমপির সদস্য পদ বাতিল হবে, নতুন প্রার্থী বিজয়ী ঘোষিত হতে পারেন, পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ হতে পারে, কিন্তু আগের এমপির সংসদীয় কার্যক্রম অবৈধ হবে না। কারণ, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা আইনগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, ফাইল ছবি
মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে পদক্ষেপ কীনির্বাচনি মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মুহসিন রশিদ জাগো নিউজকে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে একটি বেঞ্চ সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে। তবে একটা বেঞ্চই কি যথেষ্ট না? আর মামলা শুনানি হলে রুল ইস্যু করা হয়। কিন্তু রুলের জবাব দেয় না, সাক্ষী আসে না এই যে দীর্ঘসূত্রতা এগুলো বন্ধ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। যেমন রুল ইস্যু হবে, এত টাইম ফ্রেম হবে। না এলে এক্সপাঞ্জ হবে। তাহলেই মামলা তাড়াতাড়ি শেষ হবে। যদিও নির্বাচনি মামলায় যতদিন পর্যন্ত আদার সাইড কন্টেস্ট না করবে ততদিন তো মামলাটা রেডি হবে না। মামলা যদি রেডি না হয় তাহলে তো শুনানি করা যাবে না।
মুহসিন রশিদ আরও বলেন, মামলায় যে প্রসিডিউর যেমন, নোটিশ জারি, মামলা রেডি করা, সেকশন থেকে দেরি করা, এগুলোতে নরমাল ইউজুয়াল যে সব জিনিস সেগুলো থেকে বের হয়ে একটু স্পিডি করার ব্যবস্থা করতে হবে।
সিনিয়র এই আইনজীবী বলেন, হাইকোর্ট থেকে এগুলোর জন্য আলাদা দিকনির্দেশনা থাকতে হবে, এ ধরেন স্পেশাল মেসেঞ্জারের ব্যবস্থা করতে পারে নোটিশগুলো যাতে দ্রুত যায়।
মামলা সংক্রান্ত রেকর্ডগুলো স্পেশাল মেসেঞ্জারের মাধ্যমে আনার ব্যবস্থা করতে পারে এবং উইথিন ১৫ ডেইজ বা এক মাসের মধ্যে এগুলো শুনানির ব্যবস্থা করতে পারে। তা হলেই আশা করা যায় যে রেজাল্ট মেনে এই পার্লামেন্ট তারা ধরতে পারবে।
আরও পড়ুনকুষ্টিয়া-৪ আসনের ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করলেন বিএনপি প্রার্থী রুমীনীলফামারী-২ আসনের ভোটের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে বিএনপি প্রার্থীভোটের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে বিএনপির চার প্রার্থীচুয়াডাঙ্গা-১ আসনের ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করলেন বিএনপির প্রার্থী
তিনি বলেন, ওই যে লাল দৌড়। নোটিশ, সিগনেচার হয়ে নামবে না। এক মাসে নামলেও ফাইল, নোটিশ যাবে না এসব ঝামেলার কারণে মামলা রেডি হয় না। মামলা রেডি না হলে তো আর মামলা শুনানি করানো যাচ্ছে না।
উদাহরণ টেনে মুহসিন রশিদ বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে হবে বলেও হয়নি। সংসদের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সংবিধান সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব জাগো নিউজকে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে আমরা লক্ষ্য করেছি নির্বাচনি আদালতে বিএনপি এবং জামায়াতের পক্ষ থেকে পরাজিত প্রার্থীরা আবেদন করেছেন। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা লক্ষ্য করেছি খুব ধীরগতিতে চলে। সাধারণ আদালতগুলোর মামলা যেভাবে ধীরগতিতে চলে এসব মামলাও একই পদ্ধতিতে চলে। মামলা ফাইলিং করা, গ্রহণের পর নোটিশ বিবাদীর কাছে যায়। অন্যপক্ষে আসে, ইস্যু ফ্রেম হয়, যুক্তিতর্ক ডকুমেন্টগুলো এক্সিকিউট হয় এবং সবশেষ রায় ঘোষণা হয়। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় শেষ করতে অনেক সময় মামলাগুলো দু-তিন থেকে পাঁচ বছর লেগে যায়। অতীতে সম্ভবত দু-একটি মামলায় রায় পেলেও কখনো কখনো দেখা গেছে যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংসদের পুরো মেয়াদ পরিপূর্ণ বা শেষ হয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুনচট্টগ্রাম-১৪ আসনের ফল চ্যালেঞ্জ করলেন অলি আহমেদের ছেলেবাগেরহাট-১ আসনের ভোটের সব নথি হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশকাইয়ুমের আবেদন গ্রহণ, নাহিদ ইসলামের আসনের ব্যালট সংরক্ষণের নির্দেশময়মনসিংহ-২ আসনের ব্যালট সংরক্ষণের নির্দেশ
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম তালুকদার রাজা জাগো নিউজকে বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত মামলায় দীর্ঘসূত্রতা থেকে বাঁচতে হলে একাধিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। প্রতিদিন আদালত বসতে হবে। ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে শেষ করে আরেকটিতে যেতে হবে। আবার নির্বাচনের ট্রাইব্যুনালকে এই কাজ ছাড়া অন্য কোনো দায়িত্ব দেওয়া যাবে না, এটাই এখানে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তার জায়গা।
তিনি বলেন, মামলাগুলো দীর্ঘসূত্রতার অন্যতম কারণ যে দল ক্ষমতায় থাকে, তাদের মানসিকতা হলো মামলা যেন দ্রুত নিষ্পত্তি না হয়। কেননা নিষ্পত্তি হলে সরকারি দলের সংসদ সদস্য পদ থাকে কি না। আরেকটি দল ক্ষমতায় আসার পর ইলেকশন পিটিশন নিষ্পত্তি সম্ভাবনা কম বা নাই বললেই চলে। অতীতের নজিরও খুব একটা নেই।
তালুকদার রাজা আরও বলেন, নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ আছে। তাই নির্বাচন কমিশন দ্রুত কার্যকর করতে পারে না। তবে, আবেদনকারী দ্রুত নিষ্পত্তি করতে চাইলে আদালতে গুরুত্বপূর্ণ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।
জাতীয় সংসদ ভবন, ফাইল ছবি
প্রশ্নের মুখে কোন কোন আসনত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীরা বেশকিছু আসনের ফলাফল নিয়ে প্রকাশ্যে ও আইনিভাবে প্রশ্ন তুলেছেন। নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে বিএনপির যেসব প্রার্থী মামলা করেছেন তারা হলেন নীলফামারী-২ আসনের শাহরিন ইসলাম, রংপুর-৪ আসনের মোহাম্মদ এমদাদুল হক ভরসা, রংপুর-৬ আসনের মো. সাইফুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-২ আসনের সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, গাইবান্ধা-৫ আসনের মো. ফারুক আলম সরকার, রাজশাহী-১ আসনের মো. শরীফ উদ্দিন, রাজশাহী-৪ আসনের ডি এম ডি জিয়াউর, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের এম আকবর আলী, পাবনা-৩ আসনের মো. হাসান জাফির তুহিন, পাবনা-৪ আসনের মো. হাবিবুর রহমান হাবিব, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের মো. শরীফুজ্জামান, ময়মনসিংহ-১ আসনের সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ময়মনসিংহ-২ আসনে মোতাহার হোসেন তালুকদার, ময়মনসিংহ-৬ আসনের মো. আখতারুল আলম, শেরপুর-১ আসনের সানসিলা জেবরিন, ঢাকা-৪ আসনের তানভীর আহমেদ রবিন, ঢাকা-৫ আসনের মো. নবী উল্লা, ঢাকা-১১ আসনের এম এ কাইয়ুম, ঢাকা-১৬ আসনের আমিনুল হক, মাদারীপুর-১ আসনের নাদিরা আক্তার ও কুমিল্লা-১১ আসনের কামরুল হুদা।
সংসদ নির্বাচনে ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন খুলনা-৫ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ও দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। জামায়াতের আরও যারা ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করেন তাদের মধ্যে রয়েছেন লালমনিরহাট-১ আসনের আনোয়ারুল ইসলাম রাজু, লালমনিরহাট-২ আসনের মো. ফিরোজ হায়দার, গাইবান্ধা-৪ আসনের মো. আবদুর রহিম সরকার, বরগুনা-২ আসনের ডা. সুলতান আহমদ, পিরোজপুর-২ আসনের শামীম সাঈদী, ময়মনসিংহ-৪ আসনের মোহাম্মদ কামরুল আহসান, ঢাকা-৬ আসনের মো. আবদুল মান্নান, ঢাকা-৭ আসনের মো. এনায়েত উল্লা, ঢাকা-১০ আসনের জসিম উদ্দিন সরকার, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের মো. ইলিয়াছ মোল্লা, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের ইকবাল হোসাইন ভূইয়া এবং কক্সবাজার-৪ আসনের নুর আহমেদ আনোয়ারী।
এছাড়া ঢাকা-১৩ আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এবং চট্টগ্রাম-১৪ আসনে এলডিপির ওমর ফারুক ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করেন।
এফএইচ/এমএমএআর/এমএফএ