ইস্ট লন্ডনের বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহ্যাম এলাকায় গ্রিন পার্টির কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন পেয়েছেন কমিউনিটি নেতা শেখ ফারুক আহমদ। যুক্তরাজ্যের স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এই মনোনয়নকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে।
Advertisement
দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক, মানবিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখে শেখ ফারুক আহমদ স্থানীয় মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন। কমিউনিটির নানা সংকটময় মুহূর্তে তার উপস্থিতি এবং সহযোগিতা তাকে একজন দায়িত্বশীল ও নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে তার এই মনোনয়ন অনেকের কাছেই প্রত্যাশিত এবং সময়োপযোগী বলে মনে হয়েছে।
তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি ডেগেনহাম ইসলামিক ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে ডেগেনহাম ফেইথ অ্যান্ড বিলিফ ফোরামের সদস্য হিসেবেও সক্রিয় রয়েছেন, যেখানে বিভিন্ন ধর্ম ও মতাদর্শের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে কাজ করা হয়।
শেখ ফারুক আহমদ ‘হাউস অব গিভিং ডেগেনহাম’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। এই সংগঠনের মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সহায়তায় নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়, যা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। এছাড়া দারুল উম্মাহ গোরেসব্রুক ডেগেনহাম, ম্যালডন ডিস্ট্রিক্ট ইসলামিক কালচার অ্যাসোসিয়েশন এবং পলাশ সেবা ট্রাস্টসহ একাধিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তিনি সমাজসেবামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
Advertisement
তার এই বহুমাত্রিক সম্পৃক্ততা শুধু তাকে একজন সংগঠক হিসেবেই নয়, বরং একজন মানবিক নেতা হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ, সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং তা সমাধানে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ এই গুণগুলোই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
এলাকাবাসী তার মনোনয়নকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, নির্বাচিত হলে তিনি তার অভিজ্ঞতা, সততা এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহ্যাম এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। বিশেষ করে শিক্ষা, সামাজিক সম্প্রীতি, তরুণদের উন্নয়ন এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণে তার কাজ আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় কাউন্সিলররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তারা এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ রক্ষা এবং সামাজিক সেবার বিভিন্ন খাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেন। তাই শেখ ফারুক আহমদের মতো একজন সমাজসেবী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তির এই পদে প্রার্থী হওয়া স্থানীয় জনগণের জন্য আশাব্যঞ্জক বলে বিবেচিত হচ্ছে।
শেখ ফারুক আহমদের এই মনোনয়ন শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও একটি গর্বের বিষয়। তার দীর্ঘদিনের সমাজসেবামূলক কাজ এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা তাকে একটি শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি কীভাবে তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে এলাকার উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন।
Advertisement
এমআরএম