খাবার খাওয়ার পর পেট ব্যথা, গ্যাস বা অস্বস্তি - অনেকেই এটাকে সাধারণ হজমের সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। আবার কারও ক্ষেত্রে একই খাবার খাওয়ার পর চুলকানি, ফুসকুড়ি বা শ্বাসকষ্টও দেখা যায়।
Advertisement
কিন্তু এই দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া এক নয়। আজ থেকে শুরু হচ্ছে অ্যালার্জি অ্যাওয়ারনেস উইক। এই উপলক্ষে জেনে নিন খাবারে অ্যালার্জি ও হজমের সমস্যার পার্থক্য, কারণ এটি জীবনঝুঁকির কারণও হতে পারে।
খাবারে অ্যালার্জিখাবারে অ্যালার্জি বা ফুড অ্যালার্জি আসলে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। কোনো নির্দিষ্ট খাবারকে শরীর ভুল করে ক্ষতিকর হিসেবে ধরে নেয় এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ফলে সামান্য পরিমাণ খাবার খেলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। সাধারণ ট্রিগারের মধ্যে রয়েছে - ডিম, দুধ, বাদাম, সামুদ্রিক মাছ, সয়াবিন, বেগুন, চিংড়ি, গরুর মাংস ইত্যাদি।
ফুড ইনটলারেন্স বা হজমজনিত সমস্যা অন্যদিকে, ফুড ইনটলারেন্স বা হজমজনিত সমস্যা মূলত শরীরের পরিপাকতন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। এতে শরীর কোনো খাবার ঠিকভাবে ভাঙতে বা হজম করতে পারে না। যেমন - দুধ খেলে অনেকের পেটে গ্যাস বা ডায়রিয়া হয়, যা ল্যাকটোজ ইনটলারেন্সের কারণে হয়। এটি অস্বস্তিকর হলেও সাধারণত প্রাণঘাতী নয়।
Advertisement
পার্থক্য কী?এই দুইয়ের পার্থক্য বোঝার জন্য লক্ষণগুলো খেয়াল করা জরুরি। খাবারে অ্যালার্জির ক্ষেত্রে ত্বকে ফুসকুড়ি, চুলকানি, ঠোঁট বা মুখ ফুলে যাওয়া, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা বমি - এমন দ্রুত ও তীব্র লক্ষণ দেখা যায়। গুরুতর ক্ষেত্রে অ্যানাফাইল্যাক্সিস নামের বিপজ্জনক প্রতিক্রিয়াও হতে পারে, যা জরুরি চিকিৎসা ছাড়া জীবনহানির কারণ হতে পারে।
অন্যদিকে, হজমের সমস্যায় সাধারণত পেট ব্যথা, গ্যাস, ডায়রিয়া বা অস্বস্তি দেখা যায়। লক্ষণগুলো তুলনামূলক ধীরে শুরু হয় এবং শরীরের নির্দিষ্ট অংশে সীমাবদ্ধ থাকে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো - পরিমাণ। অ্যালার্জির ক্ষেত্রে খুব অল্প পরিমাণ খাবারেও সমস্যা হতে পারে, কিন্তু ইনটলারেন্সে সাধারণত বেশি পরিমাণ খেলে সমস্যা বাড়ে।
কী করবেন?বারবার একই খাবার খাওয়ার পর যদি নির্দিষ্ট ধরনের সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে সেটি অবহেলা না করে পরীক্ষা করানো উচিত। প্রয়োজনে অ্যালার্জি টেস্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
Advertisement
খাবার আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ, কিন্তু ভুল বোঝাবুঝি বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই অ্যালার্জি অ্যাওয়ারনেস উইক-এ সচেতনতা বাড়ানোই হতে পারে সুরক্ষার প্রথম ধাপ।
সূত্র: এনএইচএস, মায়ো ক্লিনিক, আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব অ্যালার্জি অ্যাজমা অ্যান্ড ইমিউনোলজি
এএমপি/এএসএম