বর্তমানে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক সহজ হয়ে গেছে। ইউটিউব কিংবা ইনস্টাগ্রামে নিয়মিত ভিডিও আপলোড করছেন হাজার হাজার নতুন ক্রিয়েটর। তবে ভিডিও বানানোর এই সহজ পথেই লুকিয়ে আছে একটি বড় ঝুঁকি ফ্রি মিউজিক ব্যবহারের ভুল।
Advertisement
অনেকেই ভাবেন, ইন্টারনেটে পাওয়া ‘ফ্রি’ বা ‘রয়্যালটি-ফ্রি’ মিউজিক ব্যবহার করলেই সব ঠিক থাকবে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। সঠিক নিয়ম না মানলে হঠাৎ করেই চ্যানেলে কপিরাইট স্ট্রাইক আসতে পারে, যা আপনার পুরো চ্যানেলকেই ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
কপিরাইট স্ট্রাইক আসলে কী?যখন আপনি কোনো গানের মালিকের অনুমতি ছাড়া সেটি ভিডিওতে ব্যবহার করেন, তখন সেই মালিক প্ল্যাটফর্মে অভিযোগ করতে পারেন। এর ফলে ভিডিওতে ‘কপিরাইট ক্লেম’ বা ‘স্ট্রাইক’ পড়ে।
ক্লেম হলে ভিডিও থেকে আয়ের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়স্ট্রাইক হলে বিষয়টি আরও গুরুতর হয়। একটি চ্যানেলে যদি তিনটি স্ট্রাইক জমা হয়, তাহলে সেটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফ্রি মিউজিক ব্যবহার করতে গেলে যেগুলো মাথায় রাখবেন
Advertisement
অফিসিয়াল লাইব্রেরি ব্যবহার করুন। ইউটিউব স্টুডিও-এর অডিও লাইব্রেরি থেকে মিউজিক নিলে সবচেয়ে নিরাপদ থাকবেন। এগুলো সাধারণত কপিরাইট ঝামেলামুক্ত।
লাইসেন্স যাচাই করা জরুরি। যে কোনো মিউজিক ব্যবহারের আগে সেটির লাইসেন্স শর্ত ভালোভাবে পড়ে নিন। ‘ক্রিয়েটিভ কমনস’ হলে অনেক সময় ক্রেডিট দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকে।
পেইড প্ল্যাটফর্মে সতর্কতা। এপিডেমিক সাউন্ড, আর্টলিস্ট বা নো কপিরাইট সাউন্ডসের মতো প্ল্যাটফর্ম ভালো মানের মিউজিক দেয়। তবে সাবস্ক্রিপশন বা ট্রায়াল শেষ হলে সেই মিউজিক ব্যবহার চালিয়ে গেলে সমস্যা হতে পারে।
‘নো কপিরাইট’ লেখা দেখেই বিশ্বাস করবেন না। অনেক ইউটিউব চ্যানেল নিজেদের ‘নো কপিরাইট’ দাবি করলেও, পরে সেই মিউজিকের ওপর ক্লেম আসতে দেখা যায়। তাই সোর্স যাচাই করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
Advertisement
প্রথমবার স্ট্রাইক এলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ইউটিউব স্টুডিও-এ গিয়ে আপিল করার সুযোগ থাকে। যদি আপনি প্রমাণ দিতে পারেন যে মিউজিকটি বৈধভাবে ব্যবহার করেছেন, তাহলে অনেক সময় স্ট্রাইক তুলে নেওয়া হয়।
আরও পড়ুনইউটিউবে পছন্দের ভিডিও খুঁজে পাওয়া আরও সহজ হবেএবার কনটেন্টের ওপর কড়া নজর রাখবে ইউটিউবসূত্র: এনগ্যাজেট
কেএসকে