আগামীকাল শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা, জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই সময়টাতে অনেক শিক্ষার্থীই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে, বইয়ের পাতা উল্টাতে উল্টাতে রাত জাগে, মাথায় ঢোকানোর চেষ্টা করে নতুন নতুন তথ্য। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই শেষ সময়ের অগোছালো প্রস্তুতি যতটা না উপকার করে, তার চেয়ে বেশি ক্ষতি করে।
Advertisement
বিশেষ করে দেশের এই তীব্র গরমে শরীর-মন দুটোই দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই এখন সবচেয়ে জরুরি হলো স্মার্ট ম্যানেজমেন্ট; যেখানে পড়াশোনা, বিশ্রাম, খাবার আর মানসিক স্থিতি সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য রাখা।
শেষ মুহূর্তে ‘সব পড়ে ফেলতে হবে’ এই ভুল ধারণাঅনেকেই মনে করে, পরীক্ষা যত কাছে আসে, তত বেশি পড়তে হবে। ফলে তারা একসাথে অনেক বিষয় ধরার চেষ্টা করে। এতে করে মস্তিষ্কে চাপ বাড়ে, মনোযোগ কমে যায়, এমনকি আগে যা পড়া ছিল সেটাও ভুলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
এই সময়ে নতুন কিছু শেখার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আগে যা পড়া হয়েছে, সেটাকে ঝালিয়ে নেওয়া। সংক্ষিপ্ত নোট, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট বা নিজের তৈরি করা সারাংশ-এসব দ্রুত রিভিশনের জন্য সবচেয়ে কার্যকর।
Advertisement
পরীক্ষার আগের রাতে অনেকেই ঘুম কমিয়ে দেয়। কিন্তু ঘুম কম হলে পরদিন মস্তিষ্ক ঠিকভাবে কাজ করে না। প্রশ্ন বুঝতে সময় লাগে, সহজ প্রশ্নেও ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। প্রতিদিন অন্তত ৬-৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা খুব জরুরি। ভালো ঘুম মানে শুধু শরীরের বিশ্রাম নয়, মস্তিষ্কের তথ্য সংরক্ষণ ও প্রসেস করার ক্ষমতাও বাড়ে।
আরও পড়ুন: জানেন কি দ্রুত খাওয়া মানুষের ওজন বাড়ার ঝুঁকি বেশি দাঁড়িয়ে পানি পান করা কি সত্যিই ক্ষতিকর? গরমে পড়াশোনা, সময় বেছে নিন বুদ্ধিমত্তার সাথেবাংলাদেশে এই সময় তাপমাত্রা বেশ বেশি থাকে, যা পড়াশোনার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। দুপুরের তীব্র গরমে দীর্ঘ সময় পড়ার চেষ্টা করলে ক্লান্তি দ্রুত আসে।
স্মার্ট ম্যানেজমেন্ট হলো ভোর বা সকালবেলায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পড়া, দুপুরে হালকা রিভিশন করা,সন্ধ্যার পর আবার মনোযোগ দিয়ে পড়া। এতে করে শরীরও ঠিক থাকে, পড়াশোনার কার্যকারিতাও বাড়ে।
খাবার ও পানিপরীক্ষার সময় অনেকেই খাবার অনিয়ম করে বা কম খায়। আবার কেউ কেউ অতিরিক্ত চা বা কফি পান করে জেগে থাকার চেষ্টা করে। কিন্তু এই অভ্যাসগুলো শরীরের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই-
Advertisement
ডিহাইড্রেশন হলে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা এসব সমস্যা হতে পারে, যা পরীক্ষার সময় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
দিনটা শুরু হোক পরিকল্পিতভাবেপরীক্ষার দিনের সকালটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হুড়োহুড়ি, দেরি বা অগোছালো পরিস্থিতি মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। করণীয়-
আগের রাতেই প্রয়োজনীয় জিনিস (এডমিট কার্ড, কলম, বোর্ড) গুছিয়ে রাখুন সকালে তাড়াতাড়ি উঠুন হালকা নাস্তা করুন সময় হাতে নিয়ে পরীক্ষার কেন্দ্রে রওনা দিনএতে মন শান্ত থাকবে, আত্মবিশ্বাসও বাড়বে।
মানসিক চাপ কমানোপরীক্ষা মানেই কিছুটা চাপ থাকবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু অতিরিক্ত চাপ পারফরম্যান্সকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেক শিক্ষার্থী অন্যের সঙ্গে নিজের প্রস্তুতির তুলনা করে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় নষ্ট করে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। এই অভ্যাসগুলো এড়িয়ে চলা উচিত। নিজের প্রস্তুতির উপর বিশ্বাস রাখুন। কিছু সহজ কাজ মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে-
গভীর শ্বাস নেওয়া অল্প সময় হাঁটা পরিবার বা কাছের কারও সাথে কথা বলা ‘পারফেক্ট’ হওয়ার চাপ নয়, ‘স্থিতিশীল’ থাকার চেষ্টাঅনেকেই মনে করে, সব প্রশ্নের নিখুঁত উত্তর দিতে হবে। এই অতিরিক্ত পারফেকশনিজম চাপ তৈরি করে। বরং লক্ষ্য হওয়া উচিত যা জানেন, সেটাকে পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করা। প্রশ্ন ভালোভাবে পড়ে বুঝে উত্তর দেওয়া। সময় ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখা।
পরীক্ষার হলে ছোট ছোট বিষয়েও নজর দিন প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে প্রথমে পুরোটা একবার দেখে নিন সহজ প্রশ্নগুলো আগে উত্তর দিন সময় ভাগ করে নিন পানি সঙ্গে রাখলে মাঝেমধ্যে একটু করে পান করুনএসএসসি পরীক্ষা শুধু জ্ঞান যাচাইয়ের নয়, বরং নিজের প্রস্তুতি, ধৈর্য আর মানসিক শক্তিরও পরীক্ষা। এই শেষ মুহূর্তে নতুন কিছু শেখার চাপ না নিয়ে, নিজের শরীর-মনকে ঠিক রেখে পরিকল্পিতভাবে এগোনোই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। মনে রাখবেন শেষ রাতের অতিরিক্ত চাপ নয়, ধারাবাহিক ও স্মার্ট ম্যানেজমেন্টই আপনাকে সাফল্যের দিকে নিয়ে যাবে।
জেএস/