অর্থনীতি

অকটেনে ‘ভাসছে’ বিপিসি, তবু পাম্পে হাহাকার

জ্বালানি তেল পেতে আগের দিন রাত থেকেই পাম্পগুলোতে দিতে হচ্ছে লাইন। মোটরসাইকেল-প্রাইভেটকারে অকটেনের চাহিদা বেশি। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে এই মুহূর্তে তাদের মজুত সক্ষমতার চেয়ে বেশি অকটেন রয়েছে, যা দিয়ে ৪৫ দিন চলবে। এছাড়া বেসরকারি প্ল্যান্টগুলো থেকে প্রতিদিন আসে আরও প্রায় ৭০০ টন, যা দিয়ে আরও ৩৩ দিন চলা সম্ভব। অথচ ফিলিং স্টেশনগুলোতে অকটেনের জন্য হাহাকার।

Advertisement

সোমবার (২০ এপ্রিল) আগের চেয়ে ২০ শতাংশ অকটেন বেশি সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছে বিপিসি। যদিও এর ইতিবাচক প্রভাব এখনো মাঠ পর্যায়ে দেখা যায়নি। অন্যদিকে, ব্যয়ের চাপ সামলাতে গত ১৮ এপ্রিল ডিজেল ১০০ টাকা থেকে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা হয়েছে, কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা হয়েছে, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা এবং পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে।

দেশে পেট্রোলিয়াম জ্বালানি আমদানি পরিশোধন নিয়ন্ত্রণ করে সরকারি প্রতিষ্ঠান বিপিসি। জোগান কমে যাওয়ায় সংকটের প্রথম দিক থেকে সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রাখতে হিমশিম খেতে হয় প্রতিষ্ঠানটিকে। স্থানীয় উৎসের পাশাপাশি এখন আমদানি বেশি হওয়ায় সেই অকটেন ব্যবস্থাপনায় ঘাম ঝরছে তাদের। অতিরিক্ত ট্যাংক প্রস্তুত করে তাতে রাখতে হচ্ছে অকটেন।

বিপিসির চুক্তিবদ্ধ বেসরকারি ফ্রাকশনেশনের প্ল্যান্ট সুপার পেট্রোকেমিক্যাল। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, তাদের উৎপাদিত পেট্রোল-অকটেন নির্ধারিত সময়ে বিপিসি গ্রহণ করছে না। এমন খবরে গত দুদিন সমালোচনা উঠলেও বিষয়টি ‘সাবোটাজ’ বলছে বিপিসি। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি এমন আরও তিনটি বেসরকারি প্ল্যান্ট থেকে নিয়মিত পরিশোধিত তেল কেনে।

Advertisement

বিপিসির মজুত সক্ষমতা কত

বিপিসির তথ্য বলছে, তিন বিপণন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা এবং ইস্টার্ন রিফাইনারি মিলে বিপিসিতে অকটেনের স্টোরেজ সক্ষমতা ৫৩ হাজার ৩৬১ মেট্রিক টন। চলতি (২০২৬) সালের জানুয়ারি মাসে অকটেন বিক্রি হয়েছে ৩২ হাজার ৮৩৫ টন, ফেব্রুয়ারিতে বিক্রি হয়েছে ৩৭ হাজার ৩৩৪ টন ও মার্চে ৩৭ হাজার ৪৩৯ টন। ২০ এপ্রিল সকালে বিপিসির হাতে অকটেন মজুত ছিল ২৭ হাজার ৬১২ টন। চলতি (এপ্রিল) মাসের প্রথম ১৮ দিনে বিক্রি হয়েছে ২০ হাজার ৪০৪ টন। ১৮ দিনে গড়ে দৈনিক অকটেন বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ১৩৪ টন। আগের বছরের ২০২৫ সালের এপ্রিলের প্রথম ১৮ দিনে গড়ে বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ১৮৫ টন।

বর্তমানে বিপিসির যে স্টোরেজ ক্যাপাসিটি রয়েছে তার চেয়েও বেশি অকটেন তাদের হাতে রয়েছে। এখন যে অকটেন রয়েছে তাতে ৪৫ দিনের মতো সরবরাহ দিতে পারবে।-ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক মহাব্যবস্থাপক ইঞ্জিনিয়ার মনজারে খোরশেদ আলম

চট্টগ্রাম বন্দর ও বিপিসির তথ্য বলছে, মালয়েশিয়া থেকে ২৭ হাজার ৩৬৩ টন অকটেন নিয়ে ‘এমটি নেভি সিয়েলো’ নামের জাহাজটি ১৭ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। জেটিতে বার্থিং করার সুযোগ না থাকায় এমটি নেভি সিয়েলোর চট্টগ্রাম বন্দরের ডলফিন জেটিগুলোতে প্রবেশ করেনি। বঙ্গোপসাগরে বন্দরের আলফা অ্যাংকরে অবস্থান করে জাহাজটি থেকে অকটেন ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’-এ শিফট করা হয়। এর আগে ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ মালয়েশিয়া থেকে ২৭ হাজার টন অকটেন নিয়ে গত ৮ এপ্রিল চট্টগ্রামে আসে। সব মিলিয়ে চলতি মাসে ৫৪ হাজার টন অকটেন আমদানি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিপিসির এক কর্মকর্তা বলেন, “মালয়েশিয়া থেকে অকটেন নিয়ে আসা ‘এমটি নেভি সিয়েলো’ জাহাজটির দৈর্ঘ্য ২১০ মিটার। এ দৈর্ঘ্যের জাহাজ আমাদের ডলফিন জেটিতে বার্থিং করতে পারে না। জাহাজটিতে থাকা অকটেন ইতোমধ্যে লাইটারিং করার জন্য ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ জাহাজে শিপট করে নেওয়া হয়েছে। আশা করছি মঙ্গলবার জাহাজটি বার্থিং করবে।”

Advertisement

আরও পড়ুন

জ্বালানি সংকট দীর্ঘ হলে মূল্যস্ফীতি ১৩.৫ শতাংশ হতে পারেজ্বালানি পরিস্থিতি এ মুহূর্তে দেশের ‘সবচেয়ে বার্নিং ইস্যু’জ্বালানি-সংকটে চট্টগ্রামে বন্ধ ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্র, নগরজুড়ে ভোগান্তিসরকারের কোনো উদ্যোগেই কাটছে না জ্বালানি খাতের অস্থিরতা

তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে বিপিসির অকটেন মজুত সক্ষমতা ৫৩ হাজার ৩৬১ মেট্রিক টন হলেও চট্টগ্রামের পতেঙ্গার মেইন পয়েন্ট ইনস্টলেশনে তিন বিতরণ কোম্পানি এবং ইস্টার্ন রিফাইনারি মিলে ৪২ হাজার ৪৫৭ টনের স্টোরেজ রয়েছে। এর মধ্যে সব মিলিয়ে ২০ এপ্রিল পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও ইস্টার্ন রিফাইনারিতে অকটেন মজুত ছিল ২৪ হাজার টনের মতো। এতে পতেঙ্গার মেইন পয়েন্ট ইনস্টলেশনে আলেজ (খালি) রয়েছে ১৮ হাজার টনের মতো। কিন্তু ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ বার্থিং হলে পতেঙ্গায় খালাস হবে ওই জাহাজের ২৭ হাজার ৩৬৩ টন অকটেন। এতে অকটেনের মজুত ৫১ হাজার টন ছাড়িয়ে যাবে। অর্থাৎ চট্টগ্রামকেন্দ্রিক যে সক্ষমতা তার চেয়ে প্রায় ৯ হাজার টন বেশি অকটেন আছে বিপিসির হাতে। যেটার জন্য অতিরিক্ত ট্যাংক প্রস্তুত করতে হচ্ছে। বিপিসি চাইলেই সহজে দেশের অন্য ডিপোতে এত অকটেন সরিয়ে নিতে পারে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিপিসির আরেক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, ‘ইস্টার্ন রিফাইনারির নিয়মিত অকটেন ট্যাংকগুলো বাদেও আরেকটি ট্যাংক অকটেন রাখার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। সেন্ট্রাল স্টার থেকে ওই ট্যাংকেও অকটেন নেওয়া হবে। এতে জাহাজটি খালাসে কোনো বেগ পেতে হবে না। বিপিসিকে কোনো জরিমানাও গুনতে হবে না।’

বেসরকারি ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্টের অভিযোগ ও বিপিসির বক্তব্য

বেসরকারি ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্টে উৎপাদিত পেট্রোল-অকটেন নির্ধারিত সময়ে বিপিসি গ্রহণ করছে না- এমন অভিযোগ করেছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসি। গত ১৬ এপ্রিল বিপিসি চেয়ারম্যান বরাবর দেওয়া প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণব কুমার সাহা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘গত ৫ এপ্রিল বিপিসির সঙ্গে এক ভার্চুয়াল সভায় এসপিএল থেকে এপ্রিল মাসে ৩৭ হাজার টন অকটেন/পেট্রোল ও ৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে অকটেন/পেট্রোল সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং পূর্ণ ক্ষমতায় উৎপাদন অব্যাহত রাখা হয়। বিগত ১-৮ এপ্রিল পর্যন্ত মার্কেটিং কোম্পানিগুলোকে চাহিদা অনুযায়ী অকটেন/পেট্রোল সরবরাহ করা হয়। কিন্তু ৮ এপ্রিল থেকে উৎপাদন অনুযায়ী বা সরবরাহের শিডিউল অনুযায়ী মার্কেটিং কোম্পানিগুলো সরবরাহ গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করে। বর্তমানে পেট্রোলের তিনটি ট্যাংকার সরবরাহের জন্য ভাসমান অবস্থায় আছে।’

সারাদেশে জ্বালানি তেল নিয়ে প্যানিক রয়েছে। বিপিসির কাছে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ইতোমধ্যে গত এক সপ্তাহে পাঁচটি পার্সেল এসেছে। আজকালের মধ্যে আরও পার্সেল আসছে। যে কারণে সোমবার থেকে ডিজেল ও পেট্রোল ১০ শতাংশ এবং অকটেনের ২০ শতাংশ সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। সব মিলিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি নেই।-বিপিসির পরিচালক (অপারেশন্স) এ কে মোহাম্মদ সামছুল আহসান

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সুপার পেট্রোকেমিক্যালে উৎপাদিত জ্বালানি তেলের একমাত্র ক্রেতা হলো বিপিসি এবং ছোট ছোট পার্সেলে সরবরাহ করার সুযোগ থাকায় বর্তমানে উৎপাদিত পণ্যের মজুত সক্ষমতা সীমিত। উৎপাদিত জ্বালানি তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরবরাহ অব্যাহত রাখার প্রয়াসে উচ্চ বাজারমূল্যে কাঁচামাল সংগ্রহ করা হয়েছে। মার্চে একটি উচ্চমূল্যের আমদানি কার্গো খালাস হয়েছে এবং ২০-২৫ এপ্রিলের মধ্যে অন্য একটি কার্গো আসবে। দেশের প্রয়োজনে উচ্চমূল্যে আমদানি করা কাঁচামাল থেকে অকটেন/পেট্রোল উৎপাদন করে সময়মতো সরবরাহ করতে না পারলে বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।’

চিঠির বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পর সমালোচনার মুখে পড়ে বিপিসি। তবে চিঠির বিষয়টি সাবোটাজ হিসেবে দাবি করছে বিপিসি। বিপিসি জানিয়েছে, চলতি মাসে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত সুপার পেট্রোকেমিক্যাল থেকে ১১ হাজার ৬১৫ টন অকটেন, ৭ হাজার ১৭৭ টন পেট্রোল এবং ১২ হাজার ৮৮৪ টন ডিজেল গ্রহণ করেছে বিপিসি, যা চলতি বছরের আগের মাসের তুলনায় অধিক। চলতি মাসের অবশিষ্ট সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি পণ্য গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিপিসির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এপ্রিল মাসের প্রথম ১৯ দিনে সুপার পেট্রোকেমিক্যাল থেকে ৩১ হাজার ৬৭৬ টন জ্বালানি তেল গ্রহণ করা হয়েছে। মাসের অবশিষ্ট ১১ দিনে আরও গ্রহণ করা হবে। অথচ গত বছরের ২০২৫ সালের এপ্রিলে তাদের কাছ থেকে ২৫ হাজার টনের কম পণ্য গ্রহণ করা হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বিশ্বে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। যে কারণে বেসরকারি ফ্রাকশনেশন প্ল্যান্ট থেকে নেওয়া জ্বালানিও মার্চ-এপ্রিল মাসে বেশি দামে বিপিসি কিনছে। যুদ্ধাবস্থা শান্ত হলে সামনের মাসে দাম কমে যেতে পারে। যে কারণে এসপিএল এ মাসেই বেশি পণ্য বিপিসিকে সরবরাহ করতে চাইছে। তারা যে অভিযোটি দিয়েছে, সেটি সাবোটাজ। এটি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।’

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে সুপার পেট্রোকেমিক্যালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণব কুমার সাহার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে খুদে বার্তা দিলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

বেসরকারি প্ল্যান্ট থেকে বিপিসি কত দামে জ্বালানি কেনে?

বিপিসি সূত্রে জানা যায়, বেসরকারি ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট থেকে কেনা পেট্রোলিয়াম পণ্যের মধ্যে চলতি এপ্রিল মাসের জন্য অকটেন লিটারপ্রতি ৯৪ টাকা ১৭ পয়সা, পেট্রোল ৮৫ টাকা ৪৯ পয়সা এবং ডিজেল ১৩৮ টাকা ৩০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। যেখানে মার্চ মাসে অকটেনের মূল্য ছিল লিটারপ্রতি ৫৫ টাকা ৩৪ পয়সা, পেট্রোল ৪৮ টাকা ৯৪ পয়সা এবং ডিজেল ৭৩ টাকা এবং ফেব্রুয়ারি মাসে অকটেনের লিটারপ্রতি মূল্য ছিল ৫২ টাকা ৪ পয়সা, পেট্রোল ৪৫ টাকা ৮৩ পয়সা এবং ডিজেল ৬৬ টাকা ৮৩ পয়সা নির্ধারণ করে বিপিসি।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অকটেন বিক্রি হয়েছে ৪ লাখ ১৫ হাজার ৬৫৩ টন। এর মধ্যে দেশীয় সরকারি ৪০০০ বিপিডি কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট থেকে ৫২ হাজার ৪৭ টন এবং চারটি বেসরকারি ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট থেকে পাওয়া গেছে ২ লাখ ৪ হাজার ৮৪ টন অকটেন। এতে দেশি প্ল্যান্টগুলো থেকে এসেছে মোট চাহিদার ৬২ শতাংশ। এর মধ্যে সুপার পেট্রোকেমিক্যালস দিয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৫৬২ টন। চাহিদার অবশিষ্ট ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫২২ টন আমদানি করতে হয়েছে বিপিসিকে।

শুধু মজুত অকটেনে চলবে ৪৫ দিন

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (ইআইবি) চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান এবং ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক মহাব্যবস্থাপক ইঞ্জিনিয়ার মনজারে খোরশেদ আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘বর্তমানে বিপিসির যে স্টোরেজ ক্যাপাসিটি রয়েছে তার চেয়েও বেশি অকটেন তাদের হাতে রয়েছে। এখন যে অকটেন রয়েছে তাতে ৪৫ দিনের মতো সরবরাহ দিতে পারবে।’

বেসরকারি ফ্রাকশনেশন প্ল্যান্টের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে এখন সারাবিশ্বে জ্বালানি নিয়ে সংকট চলছে। বেসরকারি প্ল্যান্টগুলো থেকে মাসে কী পরিমাণ পণ্য গ্রহণ করবে বিপিসির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর লিখিত ও মৌখিক সমঝোতা রয়েছে। এখন যেহেতু সংকট চলছে, বিপিসিকে সবদিক দেখেশুনে পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। চাইলেও সব পণ্য একত্রে বিক্রি করতে পারবে না। সামনের দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি তেলের সংস্থান কীভাবে হচ্ছে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। সেখানে দেশের সংকটকালীন বেসরকারি প্ল্যান্টগুলোকেও দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘এখন যেহেতু স্টোরেজের বেশি অকটেন হাতে রয়েছে, তাতে সারাদেশে পেট্রোল পাম্পগুলোতে অকটেন ব্যবহার করা যানবাহনগুলোর চাপ কমাতে সরবরাহ অবারিত করে দেওয়া উচিত। যেহেতু দাম বাড়ানো হয়েছে, তাতে মানুষ আর স্টক করার সুযোগ নেবে না। যা স্টকে আছে তাও বাজারে চলে আসবে। এখন বিপিসির উচিত সরবরাহ সীমিত না করে কয়েকদিন অবারিতভাবে অকটেন সরবরাহ দেওয়া। পেট্রোল পাম্পগুলোতে গাড়ির চাপ কমলে সারাদেশে তৈরি হওয়া প্যানিকও কমে যাবে।’

সমগ্র বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিপিসির পরিচালক (অপারেশন্স) এ কে মোহাম্মদ সামছুল আহসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘সারাদেশে জ্বালানি তেল নিয়ে প্যানিক রয়েছে। বিপিসির কাছে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ইতোমধ্যে গত এক সপ্তাহে পাঁচটি পার্সেল এসেছে। আজকালের মধ্যে আরও পার্সেল আসছে। যে কারণে সোমবার থেকে ডিজেল ও পেট্রোল ১০ শতাংশ এবং অকটেনের ২০ শতাংশ সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। সব মিলিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি নেই।’

এমডিআইএইচ/এএসএ/এমএফএ