হঠাৎ এক অচেনা বিদ্যুৎ এসে ছুঁয়েছিল আমায়,নিমেষে পুড়ে ছাই হলো আজন্মের সঞ্চিত সবুজ।শেকড় থেকে শিখর অবধি—কোথাও আর এক ফোঁটা রস অবশিষ্ট রইলো না।বেঁচে রইলো শুধু এক দগ্ধ অভিমান আর অন্তহীন খরা।
Advertisement
এখন এই শ্যামল অরণ্যে আমি এক বিমূর্ত কঙ্কাল।আমার ডালে আর কোনো পল্লব জাগে না,ছালবাকল খসে পড়ে জীর্ণ স্মৃতির মতো।আমি শুধু দাঁড়িয়ে আছি, এক নিথর, পোড়া স্তম্ভ হয়ে।বড় যন্ত্রণার, এই বসন্তের আস্ফালন দেখা।যখন দেখি নবীন লতারা অকারণে জড়িয়ে ধরছে গাছকে,যখন দেখি বাতাসের কানে কানে পাতাদের গোপন ষড়যন্ত্র—আমার সর্বাঙ্গে যেন বিছুটি পাতা ঘঁষে দেয় কেউ।মনে হয়, এই সজীবতা আসলে এক নির্মম পরিহাস!আমার এই মৃতপ্রায় সত্তাকে ওরা যেন আঙুল তুলে দেখাচ্ছে—‘দেখো, নিঃস্ব হওয়ার কত গ্লানি!’
ভুল করে কোনো পাখি যদি এসে বসে এই ভস্মীভূত ডালে,আমি শিউরে উঠি।ওদের ওই কলকাকলি, ওই প্রাণের উচ্ছ্বাস—আমার কানে যেন গলিত লাভার মতো প্রবেশ করে।আমি বাতাসকে মিনতি করি, ‘ওদের ফিরিয়ে নাও!’সুখের কোনো স্পর্শ যেন আর এই পোড়া কাঠে না লাগে।
যখন অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামে,সমগ্র বনভূমি মাতে স্নানের উৎসবে,তখন আমার দগ্ধ কোটর থেকে কেবলই ধোঁয়া ওঠে।তোমরা জানো না—পোড়া কাঠে জল লাগলে প্রাণের সঞ্চার হয় না,শুধু হিসহিস শব্দে এক অব্যক্ত হাহাকার জেগে ওঠে!সবাই যখন সিক্ত হয়; আমি তখন আরও নিবিড়ভাবে পুড়ি।দোহাই তোমাদের, আমার এই ধ্বংসস্তূপের পাশেআর ওই রঙের পসরা সাজিয়ো না।তোমাদের ওই প্রগলভ প্রেম, ওই আড়ম্বর—আমার দৃষ্টিতে এখন আর মুগ্ধতা আনে না, আনে শুধুই ক্লান্তি।
Advertisement
যার ঘর পুড়েছে,তার আঙিনায় দীপাবলি সাজানো কি নিষ্ঠুরতা নয়?তার চেয়ে আমাকে আমার মতো জরাজীর্ণ হতে দাও,চূর্ণ হয়ে মিশে যেতে দাও মাটির গভীরে।শুধু ওই মিথ্যে জীবনের স্পর্ধা নিয়ে আর এসো না।আমার এই জীবন এখন আর কোনো স্নিগ্ধ বনভূমি নয়,এ এক আদিগন্ত, ধূসর শ্মশানকিংবা এক অন্তহীন দাহকাল।
এসইউ