গাজীপুরে বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেওয়ায় প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা দেওয়ার ঘটনায় ৬ বিএনপি নেতাকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে।
Advertisement
বুধবার (২২ মে) শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মোতালেব ও সদস্যসচিব খাইরুল কবীর মণ্ডল আজাদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বহিষ্কৃত নেতারা হলেন- গাজীপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সারোয়ার আউয়াল, একই ইউনিটের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নান মাস্টার ও সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক মো. হাসমত আলী হাসু, ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মো. আরমান আলী, মো. মাহবুব আলম ও মো. রফিকুল ইসলাম।
গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক মনি বলেন, গত রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের বাঁশবাড়ি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। দাওয়াত না পেয়ে ওই অনুষ্ঠান পণ্ড করে দেওয়ার অভিযোগ উঠে স্থানীয় বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেন।
Advertisement
গত ২০ এপ্রিল গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপি জরুরি সভা আহ্বান করে। ওই সভায় উপস্থিত গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির ২২ জন সদস্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ বহিষ্কারে ঐক্যমত হয়ে উপজেলা বিএনপির কাছে প্রতিবেদন জমা দেন। উপজেলা বিএনপি প্রতিবেদন মূলে তাদের বহিষ্কার করে।
শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব খাইরুল কবীর মণ্ডল আজাদ বলেন, শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। সেখানে একটি বিদ্যালয়ে তালা লাগানো অত্যন্ত দুঃখজনক। এঘটনায় বিএনপির ৬ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের বাঁশবাড়ি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠান শুরুর কিছু সময় পরই গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার আউয়ালসহ কয়েকজন নেতা লোকজন নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে বিদায় অনুষ্ঠানে কেন দাওয়াত দেওয়া হয়নি কারণ জানতে চান। এসময় শিক্ষার্থীদের সামনেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষকদের গালিগালাজ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক আব্দুস সামাদকে মারধর করে মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। এসময় অনুষ্ঠানস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত হয়ে শিক্ষার্থী এদিক সেদিক ছোটাছুটি করে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে। এরপর বিএনপি নেতারা বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ, প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে চলে যান। তালা দেওয়ার ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। পরে ঘণ্টা খানেক পর বিএনপি নেতারা বিদ্যালয়ে এসে তালা খুলে দেন।
মো. আমিনুল ইসলাম/এমএন/এএসএম
Advertisement