আন্তর্জাতিক

জাপানে অত্যাধুনিক ট্যাংকের ভেতরেই শেল বিস্ফোরণ, নিহত ৩ সেনা

জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওওইতা প্রশাসনিক অঞ্চলের হিজুদাই ট্রেনিং এরিয়াতে লাইভ-ফায়ার মহড়ার সময় একটি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে জাপানি গ্রাউন্ড সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সের (জিএসডিএফ) তিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন এবং একজন সেনা আহত হয়েছে।

Advertisement

এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার সময়কার রেডিও যোগাযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে বার্তাসংস্থা জিজি প্রেস।

জানা গেছে, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে অত্যাধুনিক টাইপ-১০ ট্যাংকের ভেতরে একটি শেল বিস্ফোরিত হলে তিনজন সেনা সদস্য নিহত হন। নিহত সেনা সদস্যরা হলেন সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস কেনতারো হামাবে (৪৫), সার্জেন্ট শিঙ্গো তাকায়ামা (৩১) এবং সার্জেন্ট কোজো কানাই (৩০)।

জিএসডিএফ-এর তথ্য অনুযায়ী, হামাবে ছিলেন ট্যাংক কমান্ডার, তাকায়ামা অস্ত্র নিয়ন্ত্রক এবং কানাই নিরাপত্তা কর্মকর্তা। আরেকজন সদস্য, যিনি ট্যাংকের চালক ছিলেন, গুরুতর আহত হন এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

Advertisement

দুর্ঘটনার পর এক সংবাদ সম্মেলনে জিএসডিএফ প্রধান জেনারেল মাসায়োসি আরাই জানান, ১২০ মিলিমিটার অ্যান্টি-ট্যাংক শেলটি ট্যাংকের টারেটের ভেতরে বিস্ফোরিত হয়। নিহত তিনজন তখন টারেটের ভেতরে ছিলেন, আর আহত সদস্যটি ট্যাংকের নিচের অংশে (হাল) অবস্থান করছিলেন।

জিএসডিএফ জানিয়েছে, তারা মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) হিজুদাই ট্রেনিং এরিয়াতে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা সদস্যদের সঙ্গে রেডিও যোগাযোগের বিষয়বস্তু নিয়ে শুনানি করবে। ওই দুর্ঘটনায় অত্যাধুনিক টাইপ-১০ ট্যাংক এর ভেতরে একটি শেল বিস্ফোরিত হয়, এতে চারজন ক্রুর মধ্যে তিনজন নিহত এবং একজন গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে জিএসডিএফ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

জিএসডিএফ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, টাইপ-১০ ট্যাংকে সি৪১ নামে একটি তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থা রয়েছে। দুর্ঘটনার সময় ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকটি মহড়ায় অংশ নেওয়া আরও দুটি টাইপ-১০ ট্যাংক এবং আশপাশে থাকা জিএসডিএফ সদস্যদের সঙ্গে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যোগাযোগ করছিল।

Advertisement

তবে সি৪১ সিস্টেমে ট্যাংকের ভেতরের পরিস্থিতি রেকর্ড করার কোনো সুবিধা না থাকায়, তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা সদস্যদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

প্রশিক্ষণ এলাকার বাইরে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

কেএম