আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে জেন্ডার সংবেদনশীল পরিকল্পনা, বরাদ্দ এবং বাস্তবায়নে জোর দিতে হবে। কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়নের সঙ্গে সমন্বয় করেই নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন সম্ভব।
Advertisement
বুধবার (২২ এপ্রিল) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত ‘নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ: নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের অভিমুখী বাজেট’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, জেন্ডার বাজেট নিয়ে এলডিসি উত্তরণের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নারী অগ্রসরমান। নারী সমাজের দিকে তাকালে আমরা দেখি প্রান্তিক নারী, যিনি স্বামী পরিত্যক্তা হলেও নিজস্ব পরিচিতি তুলে ধরতে ক্রমাগত সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় অর্থনৈতিক স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনীতিতে নারীর যুক্ততা ৬০ শতাংশ, এটা তরান্বিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়নে নারীকে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রতিকূল পরিবেশে নারী এককভাবে যেন পিছিয়ে না যায় সেটি আমাদের দেখতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতা নিরসন যে কোনো ক্ষমতায়নের জন্য জরুরি। নারীর সম্পত্তির মালিকানা, উত্তরাধিকার আইনের দিকটি নির্দেশনা বাজেটের মাধ্যমে আসতে হবে।
Advertisement
নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের মূল কেন্দ্রে থাকা নারী-পুরুষের ভারসাম্যের সমতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম জাহান বলেন, কেউ কাউকে ক্ষমতায়িত করতে পারে না। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র কেবল সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
তিনি বলেন, ক্ষমতায়নের মূল বিষয় হলো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রভাবিত, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করার স্বাধীনতা। তাই নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়ন থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থান, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তিতে সমান সুযোগ এবং সম্পদের ওপর নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে প্রকৃত ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়।
Advertisement
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. সাদিয়া শারমিন বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে প্রথমেই চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে তা মোকাবিলার কৌশল নিতে হবে। শ্রমবাজারে সমান সুযোগ ও মর্যাদা নিশ্চিত করা, সেক্টরভিত্তিক উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে বহুমুখী উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
তিনি কমিউনিটি-ভিত্তিক মনিটরিং জোরদার, অবকাঠামো উন্নয়নে নারীর বাস্তব প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া এবং ডাটা-নির্ভর পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া, গবেষণার মাধ্যমে নারীর অগ্রগতিতে সহায়ক বিষয়গুলো চিহ্নিত করা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নারীদের অন্তর্ভুক্ত করার কথাও বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। এতে আরও বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শরমিন্দ নিলোর্মী, বিআইডিএস এর গবেষণা পরিচালক (জিইডি) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. অতনু রাব্বানি, বিআইডিএস এর সিনিয়র রেসার্চ ফেলো ড. আজরীন করিম, দ্য ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বাংলাদেশ এর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট সাবিনা পারভীন, সিপিডির রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট প্রীতিলতা খন্দকার হক ও সানেমের ডেপুটি ডিরেক্টর ইশরাত শারমিন।
আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি শাহিদা পারভীন শিখা, শক্তি ফাউন্ডেশনের তাহমিনা ইয়াসমিন, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ এর মরিয়ম নেছা, ওয়াইডব্লিউ সিএ অব বাংলাদেশ এর মৌসুমী, এডাবের সমাপিকা হালদার প্রমুখ।
ইএইচটি/এএমএ