ফিচার

‎চাকরির পাশাপাশি সাইক্লিং-ম্যারাথনে অনন্য সাফল্য মামুনের

 

মুহাম্মদ শফিকুর রহমানগাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানার সিংগারদিঘী গ্রামের মামুন মিয়া সাইক্লিংম্যারাথন দুটিতেই সাফল্য অর্জন করেছেন। চাকরির পাশাপাশি তিনি এ পর্যন্ত প্রায় ৩০টি ম্যারাথনে অংশ নিয়ে অসংখ্য পুরস্কার জিতেছেন। সাইকেলে ২৮ বার ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া এই ক্রীড়াবিদের লক্ষ্য এক হাজারবার ১০০ কিলোমিটার অতিক্রম করা।

Advertisement

মামুন মিয়া ‘লেশাম কম্পিউটার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। ম্যারাথন বা সাইক্লিংয়ে অংশ নিতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তিনি সব ধরনের সহযোগিতা পান। পাশাপাশি ভোরের গল্প গ্রুপের অ্যাডমিন মাহবুবসহ গ্রুপের সদস্যরাও তাকে নিয়মিত সহায়তা করেন বলে জানান মামুন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক কন্যা সন্তানের জনক। পরিবারের সবাই সমর্থন না দিলেও স্ত্রী সব সময় তার পাশে থেকে সাহস ও অনুপ্রেরণা জোগান।

‎‎সাইকেলের প্রতি ছোটবেলা থেকেই মামুনের আলাদা এক দুর্বলতা, যা বড় হয়েও কাটিয়ে উঠতে পারেননি তিনি। শৈশবে বাবার সাইকেলের পেছনে চড়ে বন আর মেলায় ঘুরে বেড়ানো ছিল তার জীবনের অতি মধুর স্মৃতি যা আজও মনে পড়লে তাকে নস্টালজিক করে তোলে।

ম্যারাথনের শুরু তার ২০২০ সাল থেকে। মূলত একটি বিদেশি ম্যরাথনের ভিডিও দেখে তিনি ম্যারাথনের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেন। এরপর ফেসবুক গ্রুপ, গুগল থেকে ম্যারাথন সর্ম্পকে আরো জানতে পারেন তিনি। ভাওয়াল রানার্স নামে গাজীপুরে একটি গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হন। ভাওয়াল রানার্স থেকে অসংখ্য ইভেন্টে যান তিনি।

Advertisement

এ পর্যন্ত ৩০টির মতো ম্যারাথনে অংশ নিয়েছেন তিনি। সবচেয়ে বেশি দূরত্বের ছিল ‎৫০ কিলোমিটার আল্ট্রা। এছাড়া তার অংশ নেওয়া উল্লেখযোগ্য আরও কিছু ম্যারাথন হলো, ‎‎ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ম্যারাথন ২০২৫, জয় বাংলা ম্যারাথন ২০২৪, রাজকান্দি হিল ২৫ কিলোমিটার ২০২৪, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঢাকা ম্যারাথন ২০২৪, বিমান হাফ ম্যারাথন ২০২৩, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঢাকা ম্যারাথন ২০২৩, বিমান হাফ ম্যারাথন ২০২২২,রাজকান্দি হিল হাফ ম্যারাথন ২০২২, ইউ আর সি নাইট আল্ট্রা ৫০ কিলোমিটার ২০২২, ময়মনসিংহ ২৫ কিলোমিটার ২০২৪, শ্রীপুর হাফ ম্যারাথন ২০২২ ইত্যাদি।

‎‎‎সাইক্লিংয়েও মামুনের অর্জন কম নয়। তিনি সাইক্লিং করে পুরা গাজীপুর জেলা ঘুরেছেন। এছাড়া হালুয়াঘাট থেকে কুয়াকাটা এবং আখাউড়া থেকে মুজিবনগর গিয়েছেন তিনি।‎ ভোরের গল্প নামে একটি গ্রুপের সঙ্গে থেকে মানুষকে স্বাস্থ্য সচেতন করা, যুবকদের মাদক থেকে দূরে রাখা কাজ করেন তিনি। ‎‎সাইক্লিং এবং ম্যারাথনে মামুনের অর্জিত পুরস্কারের সংখ্যা অসংখ্য। তবে তার কাছে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পুরস্কার হলো ভোরের গল্প গ্রুপ থেকে একটি সাইকেল উপহার।

সাইক্লিং কিংবা ম্যরাথনের খুটিনাটি বিষয় শেখার জন্য মামুন কোথাও প্রশিক্ষণ নেননি। তিনি সব সময় সিনিয়ারদের পরামর্শ নেন। তার পরামর্শ হলো ম্যারাথনে অংশগ্রহণ করার আগে আপনি নিয়মিত দৌড়াবেন। খাবার হিসেবে কাঁচা ছোলা, বাদাম, কাজু বাদাম, খেজুর, কলা, ডিম ইত্যাদি খেতে পারেন।

সাইক্লিং কিংবা ম্যারাথনের সময় ছোট ছোট শিশুরা দৌড়ে এসে যখন বিস্ময়ভরা চোখে তাকিয়ে থাকে, কেউ কেউ টুকটাক কথাও বলে তখন মামুনের ভীষণ ভালো লাগে। সময় হাতে থাকলে তিনি সেই উৎসুক জনতাকে সাইক্লিং ও ম্যারাথনের উপকারিতা সহজভাবে বুঝিয়ে বলেন।

Advertisement

আজ এত সাফল্যের পরেও মামুনের শুরুটা ছিল সহজ নয়। প্রথম সাইকেল কিনতে তাকে ভীষণ কষ্ট করতে হয়েছে। অনেক খাটাখাটনি আর চেষ্টা তদবিরের পর তিনি সাইকেলের টাকা জোগাড় ও ব্যবস্থা করতে পেরেছিলেন। বর্তমানে তিনি রকরাইডার ডিউ ব্র্যান্ডের একটি সাইকেল ব্যবহার করছেন, যা উপহার হিসেবে পেয়েছেন।

ম্যারাথনে তেমন বড় কোনো চ্যালেঞ্জ না থাকলেও সাইক্লিংয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। সাইকেল নষ্ট হলে তাৎক্ষণিক ভালো মেকানিক না পাওয়া। তখন নষ্ট সাইকেল নিয়েই এক দিক থেকে আরেক দিকে ঘুরতে হয় তাকে। তবে সাইকেলের টুকটাক সমস্যা তিনি নিজেই সামলে নিতে পারেন। মানুষ যেন আরও বেশি সাইক্লিংয়ে আগ্রহী হয় এই লক্ষ্যেই ভবিষ্যতে আরও বেশি কাজ করার পরিকল্পনা মামুনের।

আরও পড়ুনপ্রাচীন মিশরে পারফিউম ব্যবহার হতো মমি সংরক্ষণেক্যামেরায় জীবনের গল্প লেখেন লিঠু

কেএসকে