ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন থেকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ সরে গেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান সংঘাত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা থামিয়ে রাখতে হবে—এমন ধারণা বড় ঝুঁকি।
Advertisement
কিয়েভে প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চললেও, ইরান ইস্যু শেষ না হওয়া পর্যন্ত বৈঠকের সুযোগ দেখছি না।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একই আলোচক দল একযোগে ইরান ও ইউক্রেন—দুই ইস্যুতেই কাজ করছে, যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরান ইস্যুতে বেশি মনোযোগ দিলেও ইউক্রেনকে ভুলে যাওয়া উচিত নয়, কারণ সেখানে যুদ্ধ এখনো চলছে। ইউক্রেনকে পরে বলা যাবে না আমরা এরই মধ্যে বড় এক ট্র্যাজেডির মধ্যে আছি। সমান্তরালভাবে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।
Advertisement
তিনি আরও জানান, চলমান যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু অস্ত্র সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে—বিশেষ করে অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল, যার উৎপাদন সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র পর্যাপ্ত সরবরাহ দিতে পারছে না।
এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্প্রতি ইউক্রেনের জন্য ৯০ বিলিয়ন ইউরোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঋণ অনুমোদন করেছে। জেলেনস্কি বলেন, এই অর্থ পাওয়া তার দেশের জন্য জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন।
দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা এই ঋণ অনুমোদন আটকে ছিল হাঙ্গেরির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর আপত্তির কারণে। তিনি ইউক্রেনকে রাশিয়ার তেল ইউরোপে সরবরাহ পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনে তার পরাজয়ের পর বাধা কেটে যায় এবং বুধবার ড্রুজবা পাইপলাইনের ইউক্রেন অংশ দিয়ে তেল পরিবহন পুনরায় শুরু হয়।
জেলেনস্কি বলেন, এই অর্থ না থাকায় ইউক্রেন তাদের উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত অস্ত্র তৈরি করতে পারছে না। তিনি বলেন, অর্থের অভাবই মূল সমস্যা। এটি আমাদের বেঁচে থাকা ও আত্মরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Advertisement
সূত্র: সিএনএন
এমএসএম