জাতীয়

হামের প্রাদুর্ভাব শিশুদের স্বাস্থ্য ও জীবনের অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত

দেশে হামের প্রাদুর্ভাবকে শিশুদের জন্য একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে উল্লেখ করেছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)। সংস্থাটি মনে করে, এই পরিস্থিতি শিশুদের স্বাস্থ্য ও জীবনের অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত হানছে।

Advertisement

এ বিষয়ে সরকারের দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ, হাম-রুবেলার পর্যাপ্ত টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করা, দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি জোরদার ও সম্প্রসারণ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা কিটের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি এবং আক্রান্ত শিশুদের জন্য সহজলভ্য চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সংস্থাটি বলেছে, এই পরিস্থিতি শিশুদের স্বাস্থ্য ও জীবনের অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত হানছে।

প্রয়োজনীয় পরীক্ষা কিট সরবরাহ এবং দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে এমজেএফ বলেছে, আক্রান্ত শিশুদের জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছে সংস্থাটি।

Advertisement

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ২৮ হাজার ৩৩৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪,০৫৯ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগে ৩৯ জন এবং সন্দেহজনক হাম রোগে ১৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করে।

এমজেএফ জানায়, ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যে ২০ এপ্রিল থেকে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও, পরীক্ষার কিটের ঘাটতি এবং দীর্ঘদিন ধরে টিকা আমদানি বন্ধ থাকার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি সংসদে প্রধানমন্ত্রীও স্বীকার করেছেন। এসব সীমাবদ্ধতা কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

এমজেএফ আরও মনে করে, হাম প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ হওয়া সত্ত্বেও শিশুদের এভাবে ঝুঁকির মধ্যে থাকা অগ্রহণযোগ্য। এটি শিশুদের বেঁচে থাকা, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। রাষ্ট্রকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় টিকা, পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং এ সংকট মোকাবিলায় জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।

এমজেএফ আরও জানায়, শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। সময়মতো টিকাদান, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা এবং কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থার অভাব এই প্রাদুর্ভাবকে আরও জটিল করে তুলছে।

Advertisement

আইএইচও/এমএমকে