শিক্ষা

মাউশির ডিজি নিয়োগে ‘নাটকীয়তা’, এবার ‘চলতি দায়িত্বে’ অধ্যাপক সোহেল

শিক্ষা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (ডিজি) নিয়োগ নিয়ে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক বি এম আব্দুল হান্নানকে গত ১৩ এপ্রিল সরিয়ে দেওয়া হয়। ১৬ এপ্রিল এ পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় মাউশির মাধ্যমিক উইংয়ের পরিচালক ও শিক্ষামন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব (পিএস) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলকে।

Advertisement

সপ্তাহ না পেরোতেই তাকে ‘অতিরিক্ত দায়িত্ব’ থেকে এবার ‘চলতি দায়িত্ব’ দিয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জারি করা এ প্রজ্ঞাপনে সই করেন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপসচিব তানিয়া ফেরদৌস।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা ও মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলকে মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) করা হলো।

আরও পড়ুনমাউশির ডিজির দায়িত্বে শিক্ষামন্ত্রীর পিএস অধ্যাপক সোহেল প্রতি কিলোমিটারে বাসের ভাড়া বাড়লো ১১ পয়সা 

Advertisement

শর্ত হিসেবে এতে উল্লেখ করা হয়, চলতি দায়িত্ব কোনো পদোন্নতি নয়; এ চলতি দায়িত্বের কারণে তিনি পদোন্নতি দাবি করতে পারবেন না এবং সংশ্লিষ্ট পদে নিয়মিত পদোন্নতির মাধ্যমে কর্মকর্তা নিয়োগ করা হলে তার যোগদানের তারিখ থেকে এ চলতি দায়িত্বের আদেশটি বাতিল বলে গণ্য হবে।

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল জারি করা আরেক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, মাউশির মহাপরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলকে ট্রেজারি ও সাবসিডিয়ারি আইনের ভলিউম-১, বিধি ৬৬ মোতাবেক মহাপরিচালকে অতিরিক্ত দায়িত্বসহ আর্থিক ক্ষমতা নির্দেশক্রমে প্রদান করা হলো।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে দুটি প্রজ্ঞাপনে সই করা উপসচিব তানিয়া ফেরদৌস বলেন, আগে উনাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, এখন চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে এটা করা হয়েছে।

দুই দায়িত্বের মধ্যে পার্থক্য বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশির সাবেক এক মহাপরিচালক নাম প্রকাশ না করে জাগো নিউজকে বলেন, মূলত তাকে মাউশির ডিজি করা নিয়ে শিক্ষা ক্যাডারে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ১৪তম ব্যাচের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও ১৬তম ব্যাচ থেকে ডিজির দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে বিরোধ চলছে। আগে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তা জ্যেষ্ঠ না হওয়ায় তিনি পান কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এজন্য এবার কৌশলে প্রজ্ঞাপনে কিছু শর্তজুড়ে দিয়ে সেটি আড়াল করার চেষ্টা করেছে মন্ত্রণালয়। ডিজি পদে দায়িত্ব দেওয়া বা নিয়োগ নিয়ে এমন নাটকীয়তা আগে দেখিনি।

Advertisement

এএএইচ/কেএসআর