কর সংক্রান্ত মামলা জট, জটিলতা ও হয়রানি নিরসনে প্রত্যেক বিভাগীয় শহরে কর আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এসএমসিসিআই)। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে একগুচ্ছ প্রস্তাবনা ও সুপারিশমালা পেশ করেছে সংগঠনটি।
Advertisement
সম্প্রতি চেম্বারের পক্ষ থেকে এনবিআরের প্রধান বাজেট সমন্বয়কারী এস এম শামসুজ্জামানের কাছে পাঠানো এই প্রস্তাবনায় একটি জনবান্ধব ও ব্যবসাবান্ধব কর ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সব বিভাগীয় শহরে আপিল ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব জানিয়ে এসএমসিসিআই বলছে, এটি নিশ্চিত করা গেলে কর সংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হবে এবং কর আদায় প্রক্রিয়া আরও সহজ ও গতিশীল হবে।
আয়কর আইন ২০২৩ এর অসংগতি দূর করার আহ্বানআয়কর আইন ২০২৩ এর কিছু সংজ্ঞাগত অসংগতি দূর করার প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি। বিশেষ করে, আইনের ধারা ২-এর দফা ৩১ (ছ) এবং ৩১ (ঞ)-তে কোম্পানির সংজ্ঞায় ফার্ম বা অংশীদারি ব্যবসাকে রাখা না রাখা নিয়ে যে দ্বিধা রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করার দাবি জানানো হয়েছে।
Advertisement
প্রবাসী বিনিয়োগে কর অবকাশ ও বিশেষ সুবিধাসিলেট অঞ্চল প্রবাসী অধ্যুষিত হওয়ায় এসএমসিসিআই প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বিশেষ সুপারিশ করেছে। প্রস্তাবনায় ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহরগুলোতে—বিশেষ করে সিলেটে নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কর অবকাশ সুবিধা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া ট্রেজারি বন্ডের মতো সরকারি সিকিউরিটিজে সাধারণ মানুষের বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে কর রেয়াতের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
অন্যদিকে ব্যবসায়িক লোকসান বা ক্ষতির জের টেনে পরবর্তী বছরের লাভের সঙ্গে সমন্বয় করার ক্ষেত্রে বর্তমান সীমাবদ্ধতাগুলো সহজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবের পক্ষে চেম্বারের যুক্তি হলো, অবকাঠামো, উৎপাদন ও প্রযুক্তি খাতের মতো বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শুরুর কয়েক বছর ক্ষতি হওয়া স্বাভাবিক। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই নীতি কার্যকর হলে নতুন শিল্প স্থাপন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ব্যক্তিগত করদাতাদের জন্য রিটার্ন দাখিলের সময় ৩১ ডিসেম্বর এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পরবর্তী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারণের প্রস্তাব করে সংগঠনটি জানায়, এতে করদাতারা হিসাবপত্র সঠিকভাবে প্রস্তুত করার পর্যাপ্ত সময় পাবেন।
Advertisement
বড় আকারের একমালিকানাধীন ব্যবসাগুলোকে কোম্পানি আকারে রূপান্তরে উৎসাহিত করতে মূলধনি আয়ের ওপর করমুক্ত সুবিধার প্রস্তাব করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে অভিহিত মূল্য ও ন্যায্য মূল্যের পার্থক্যের ওপর ১৫ শতাংশ কর নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।
এসএম/এমএমকে